ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ইমরান খান

ইমরান খান

  • Font increase
  • Font Decrease

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। 

সোমবার (২৮ মার্চ) জাতীয় পরিষদে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেন বিরোধী দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এর নেতা শেহবাজ শরিফ।

বহুল প্রত্যাশিত এ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর ২৬ তম এজেন্ডায় অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। দেশটির জাতীয় পরিষদের নিয়ম অনুসারে,  পার্লামেন্টে উপস্থিত এমপিদের ২০ শতাংশ বা ৬৮ জন সদস্যের সমর্থন পেলেই প্রস্তাবটি আলোচনা বা ভোটাভুটির জন্য গৃহীত হয়।

অনাস্থা ভোটের প্রস্তাবটি তোলার পর এর পক্ষে থাকা এমপিদের সংখ্যা গণনার জন্য তাদের দাঁড়াতে বলেন জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি।

ইমরান খানের উপর আনীত অনাস্থা প্রস্তাব রেজুলেশন হিসেবে গৃহীত হবে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনার পর ডেপুটি স্পিকার ঘোষণা করেন, ১৬১ জন সংসদ সদস্য প্রস্তাবটি পেশ করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। পরে অনাস্থা প্রস্তাব উপস্থাপনের অনুমতি দেন।

প্রস্তাবটি উত্থাপনের পর ডেপুটি স্পিকার ঘোষণা করেন রেজুলেশনের উপর ৩১ মার্চ থেকে আলোচনা শুরু হবে।

এর আগে গত ২৫ মার্চ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ হওয়ার কথা ছিল দেশটির পার্লামেন্টে। তবে সেদিন সভা মুলতবি ঘোষণা করেছিলেন স্পিকার আসাদ কাইসার। 

৩৪২ আসন বিশিষ্ট পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ। অনাস্থা প্রস্তাব পাসের জন্য প্রয়োজন ১৭২ ভোটের। জাতীয় পরিষদে  ইমরানের দল পিটিআই-এর সদস্য সংখ্যা ১৫৫। বাকি মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট, পাকিস্তান মুসলিম লিগ-কায়েদ, বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টি এবং গ্র্যান্ড ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স  মিলিয়ে জোট সরকারের মোট সদস্য সংখ্যা ১৭৯।

সম্প্রতি ইমরান খান উপর থেকে তার দলের কয়েকজন বিদ্রোহী সদস্য সমর্থন প্রত্যাহার করায় তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠে। যদিও ইমরান খান অভিযোগ করেছেন, অনাস্থা ভোটকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলো বাণিজ্য শুরু করেছে। অর্থের বিনিময়ে ইমরানের নিজ দল পিটিআইয়ের আইনপ্রণেতাদের কিনে নেওয়ার চেষ্টা করছে তারা।

সূত্র: ডন

প্রভাবশালী দুই মন্ত্রীর পদত্যাগে চাপে বরিস জনসন



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাজ্যের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী আকস্মিক পদত্যাগ করেছেন। এতে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকার।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (০৫ জুলাই) দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ এবং অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তারা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ঋষি সুনাক তার পদত্যাগপত্রে লেখেছেন, জনগণ ন্যায়সঙ্গতভাবে আশা করে যে সঠিকভাবে, দক্ষতার সঙ্গে ও গুরুত্ব সহকারে সরকার পরিচালনা করা হবে। আমি বিশ্বাস করি যে, এসব মানদণ্ডের জন্য লড়াই করা জরুরি। আর এজন্যই আমি পদত্যাগ করেছি।

তিনি আরও বলেন, সরকার ছেড়ে যাওয়ায় আমি দুঃখিত, কিন্তু আমি অনিচ্ছায় এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি কারণ আমরা এভাবে চলতে পারবো না।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ লেখেছেন, এই পদে সুযোগ পাওয়ায় নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। তবে এই সরকারের সঙ্গে আর কাজ করতে পারছি না।কারণ একাধিক কেলেঙ্কারির কারণে জনসনের ক্ষমতার ওপর আমি আস্থা হারিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, অনেক আইন প্রণেতা এবং জনসাধারণ জনসনের ক্ষমতার ওপর আস্থা হারিয়েছেন।

জনসনকে লেখা চিঠিতে জাভিদ বলেন, আমি দুঃখিত হলেও বলতে চাই যে, এটা আমার কাছে স্পষ্ট যে আপনার নেতৃত্বে এই পরিস্থিতির আর কোনও পরিবর্তন হবে না – তাই আপনি আমার আস্থা হারিয়েছেন।

তাদের পদত্যাগের মধ্যে দিয়ে সরকারের আরও একাধিক এমপি পদত্যাগ করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। এমনকি বরিসকে ক্ষমতা থেকে সরাতে দাবিও তুলেছেন কয়েকজন এমপি।

;

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে বন্দুক হামলা, নিহত ৬



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের উপকণ্ঠে স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত 6 জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত আরও ২৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার (০৪ জুলাই) স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে হাইল্যান্ড পার্ক শহরে কুচকাওয়াজ চলছিল। এ সময় কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। ফলে কুচকাওয়াজ শুরুর ১০ মিনিট পর বন্ধ করে দেওয়া হয়।

হামলার পর ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী একজন সন্দেহভাজন শেতাঙ্গকে খুঁজছে পুলিশ। তার কাছে অস্ত্র রয়েছে, যা বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হাইল্যান্ড পার্কের আশেপাশের এলাকা নিরাপত্তা বলয়ে আনা হয়েছে।

গত ২৪ মে টেক্সাসের উবালদেতে একটি প্রাথমিক স্কুলে এক হামলায় ১৯ শিশু ও ২ শিক্ষক নিহতের ঘটনা মার্কিনিদের মনে তাজা থাকা অবস্থায় শিকাগোতে এই হামলা হলো। এর আগে ১৪ মে নিউ ইয়র্কের বুফেলোতে একটি মুদির দোকানে গুলিবর্ষণে ১০ জন নিহত হয়েছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আমারানি গার্সিয়া নিজের ছোট মেয়েকে নিয়ে প্যারেডে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি জানান, কাছেই গুলির শব্দ শুনেন। এরপর কিছুক্ষণ বন্ধ ছিল। গুলি রিলোড করা হচ্ছিল বলে তার ধারণা। পরে আরও গুলির শব্দ শুনতে পান তিনি।

গার্সিয়া বলেন, মানুষ চিৎকার করছিল ও দৌড়াচ্ছিল। আমি খুব ভয়ে ছিলাম। একটি ছোট দোকানে মেয়েকে নিয়ে লুকিয়ে পড়ি। আমার মনে হচ্ছিল আমরা আর নিরাপদ নই।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তাদের ধারণা গুলিবর্ষণকারী একটি দোকানের ছাদে অবস্থান নিয়েছিল এবং প্যারেডের জমায়েত লক্ষ্য করে গুলি করে সে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, প্যারেডের ব্যান্ড ও অংশগ্রহণকারীদের শৃঙ্খলা হঠাৎ করে ভেঙে যায়। বড় ধরনের কয়েকটি শব্দ শোনার পর লোকজন দৌড়াতে শুরু করেন।

হাইল্যান্ড পার্ক শহর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে সন্দেহভাজন হামলাকারী কুচকাওয়াজের অনুষ্ঠানে হামলা চালান। আশপাশের কোনো ভবনে ছাদ থেকে ওই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

;

লুগানস্ক দখলের পর অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ পুতিনের



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
লুগানস্ক দখলের পর অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ পুতিনের

লুগানস্ক দখলের পর অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ পুতিনের

  • Font increase
  • Font Decrease

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পুরো লুগানস্ক অঞ্চলের দখল নেওয়ার পর ইউক্রেনে মস্কোর অভিযান চালিয়ে যেতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী সার্গেই শোইগুকে নির্দেশ দিয়েছেন। খবর এএফপি’র।

পুতিন শোইগুকে বলেছেন, ‘ইস্ট গ্রুপ ও ওয়েস্ট গ্রুপসহ বিভিন্ন সামরিক ইউনিট অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অবশ্যই তাদের কাজ চালিয়ে যাবে।’

‘এ পর্যন্ত লুগানস্কে যাই ঘটুক, সেখানে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী সবকিছু অব্যাহত থাকবে।’

শোইগু সপ্তাহান্তে পুতিনকে বলেছেন যে, বর্তমানে লুগানস্ক অঞ্চল মস্কোর সামরিক বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার নেতা সৈন্য পাঠানোর চার মাসেরও বেশি সময় পর ক্রেমলিনের জন্য এটি একটি বড় বিজয়।

সোমবার পুতিন বলেছেন, লুগানস্ক অভিযানে অংশ গ্রহনকারী সৈন্যদের বিশ্রামে গিয়ে তাদের যুদ্ধ সক্ষমতা পুনর্গঠন করা উচিত।

ইউক্রেনের বাহিনীর জোরালো প্রতিরোধের মুখে রাজধানী কিয়েভ দখলের জন্য রাশিয়ার প্রাথমিক লক্ষ্য পরিত্যাগের পর মস্কো ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনেৎস্ক ও লুগানস্কের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের ওপর বেশি জোর দিয়েছে।

;

ফুরিয়ে আসছে পেট্রোল, সতর্ক করলেন শ্রীলঙ্কার জ্বালানিমন্ত্রী



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

৭০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি শ্রীলঙ্কা। দেশটিতে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। এমন পরিস্থিতিতে দ্বীপরাষ্ট্রটির জ্বালানিমন্ত্রী কাঞ্চনা উইজেসেকেরা পেট্রোলের মজুত ফুরিয়ে আসছে বলে কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন।

সোমবার (০৪ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

শ্রীলঙ্কার জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, শ্রীলঙ্কায় প্রতিদিন জ্বালানির যে চাহিদা সে বিবেচনায় আমাদের কাছে একদিনেরও কম পেট্রোল রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী পেট্রোলের চালান পেতে দুই সপ্তাহের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে।

গত সপ্তাহে শ্রীলঙ্কা কম প্রয়োজনীয় গাড়িতে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি নিষিদ্ধ করে। সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশটি আমাদানি করা জ্বালানি, ওষুধ ও খাবারের মূল্য পরিশোধে সংগ্রাম করছে।

জ্বালানিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, দেশে ১২ হাজার ৭৭৪ টন ডিজেল এবং চার হাজার ৬১ টন পেট্রোল মজুদ রয়েছে। পেট্রোলের পরবর্তী চালান পাওয়া যাবে হয়তো ২২ থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে।

ডিজেলের একটি চালান চলতি সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তবে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পিত জ্বালানি ও অপরিশোধিত তেল আমদানির মূল্য পরিশোধের মতো অর্থ আমাদের হাতে নেই।

তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জ্বালানি ক্রয়ের জন্য শুধু ১২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিতে পারবে। নির্ধারিত চালানের জন্য পরিশোধ করতে হবে ৫৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সে তুলনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামর্থ্য অনেক কম।

দেশটি এই বছরের শুরুতে জ্বালানি কেনার জন্য সাতটি সরবরাহকারীর কাছে ৮০০ মিলিয়ন ডলার পাওনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শ্রীলঙ্কা ১৯৭০ এর দশকের তেল সংকটের পর প্রথম দেশ যারা সাধারণ নাগরিকদের কাছে পেট্রোল বিক্রি বন্ধের কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তেল সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে জ্বালানি রেশন হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।

২২ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দ্বীপরাষ্ট্রটি ১৯৪৮ সালে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট পার করছে।

থেকে তার আরও খারাপ অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে কারণ এটি প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির জন্য পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার অভাব রয়েছে। জরুরি আমদানি পণ্যের মূল্য পরিশোধ করার মতো অর্থ দেশটির হাতে নেই। জ্বালানি, খাবার ও ওষুধের তীব্র সংকটের কারণে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে বহুগুণ।

;