ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৬৮, বেশিরভাগই শিশু



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। যার বেশিরভাগই স্কুলশিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থার সর্বশেষ তথ্যে ১৫২ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। খবর বিবিসি।

স্থানীয় সময় সোমবার (২১ নভেম্বর) সকালে পশ্চিম জাভা দ্বীপে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি জাকার্তায় কয়েক সেকেন্ড ধরে অনুভূত হয়েছে। এ সময় নগরীর প্রধান বাণিজ্যিক এলাকার দফতরগুলো থেকে কিছু লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়।

দেশটির জিওফিজিক্স এজেন্সি (বিএমকেজি) জানিয়েছে, পশ্চিম জাভার সিয়ানজুড় শহরে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীর ভূমিকম্পটির উৎপত্তি।

দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া স্কুলশিক্ষার্থী আপ্রিজাল মুলাইদি (১৪) বলেছে, যখন ভূমিকম্প আঘাত হানে তখন সে স্কুলে ছিল। তিনি বলেন, ভূমিকম্পে স্কুল কক্ষটি ধসে পড়ে। এ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আমার পা চাপা পড়ে যায়। একপর্যায়ে বন্ধু জুলফিকার তাকে ধাক্কা দিয়ে নিরাপদে সরিয়ে দিলে সে বেঁচে যায় বলে জানায় আপ্রিজাল মুলাইদি। কিন্তু আটকে পড়া জুলফিকার সেখানেই প্রাণ হারায়।

ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই স্কুলশিক্ষার্থী বলে নিশ্চিত করেছেন ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার (বিএনপিবি) সদস্য হেনরি আলফিয়ানদি। তিনি বলেছেন, হতাহতদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি ছিল। কারণ, বেলা ১টার দিকে তারা সবাই স্কুলে ছিল।

কর্মকর্তারা বলছেন, এক হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ২২ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৫৮ হাজারেরও বেশি মানুষ এই অঞ্চল ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

সোমবারের ওই ভূমিকম্প ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশটির পাহাড়ি এলাকায় আঘাত হানে। এতে পার্শ্ববর্তী সিয়ানজুর শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভূমিধসের ফলে অন্তত একটি গ্রাম মাটিচাপা পড়ে।

পরমাণু অস্ত্রের মজুদ বাড়াচ্ছে চীন, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চীন পরমাণু অস্ত্রের মজুদ বাড়াচ্ছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৩০ নভেম্বর) মার্কিন কংগ্রেসে পেশ করা একটি রিপোর্টে এমনই দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা দফতর।

পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দাবি, গত বছর থেকে চীন নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির দখলে আপাতত চারশোর বেশি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। নিজেদের পরমাণু অস্ত্রের ভান্ডার এভাবে বাড়াতে থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে চীনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অন্তত দেড় হাজার পরমাণু অস্ত্র থাকবে। যা বর্তমান সংখ্যার প্রায় তিন গুণ।

ওই একই রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র যাতে নাক না গলায় তা নিয়ে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিল বেইজিং।

প্রতি বছরই মার্কিন কংগ্রেসে চীনের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট পেশ করে পেন্টাগন। সেখানেই বলা হয়েছে, ২০২০ সালেই নিজেদের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেয় বেইজিং। সেই মতো গত বছর থেকে তাদের অস্ত্র কর্মসূচির ছবিটা পাল্টে যায়।

পেন্টাগনের দাবি, বর্তমান দক্ষিণ চীন সাগরে পিপলস লিবারেশন আর্মি যে ধরনের ডুবোজাহাজ ব্যবহার করেছে, তা দেখেই তাদের এই ধারণা আরও দৃঢ় হয়েছে। সেই সঙ্গেই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেন্টাগনের এক শীর্ষ কর্মকর্তার দাবি, চীনের এই সিদ্ধান্তের পিছনে একটা বড় কারণ হল, তাদের তাইওয়ানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন নীতি।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বেইজিং বরাবরই গোটা বিশ্বকে বলে এসেছে যে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার বেশি পরমাণু অস্ত্র তারা বানাবে না। অথচ গত বছর থেকে তাদের অস্ত্র ভান্ডারে বিপুল সংখ্যক পরমাণু অস্ত্র যোগ হতে শুরু করেছে। পেন্টাগনের দাবি, এই সংখ্যাটা আদৌ চমকে দেওয়ার মতো নয়। কারণ গত বছরই তাদের প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছিল যে, আগামী ১০-১২ বছরের মধ্যে চীন অন্তত এক হাজার পরমাণু অস্ত্র নিজেদের দখলে রাখতে চলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রিপোর্ট নিয়ে চীনের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি অবশ্য। তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল প্যাট রাইডারের বক্তব্য, গোটা বিষয়টি নিয়ে চীনের অস্বচ্ছতাই তাদের উদ্বেগের মূল কারণ। তার কথায়, চিন্তার বিষয় হল, চীন যত বেশি পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার ঘটাবে, দক্ষিণ চীন সাগরের মতো অতি স্পর্শকাতর এলাকায় স্থিতিশীলতা তত কমবে। এ নিয়ে অস্বচ্ছ তথ্যও আমাদের উদ্বেগের বড় কারণ।

;

স্পেনে ইউক্রেনের দূতাবাসে লেটার বোমা বিস্ফোরণ



কবির আল মাহমুদ, স্পেন থেকে
স্পেনে ইউক্রেনের দূতাবাসে লেটার বোমা বিস্ফোরণ

স্পেনে ইউক্রেনের দূতাবাসে লেটার বোমা বিস্ফোরণ

  • Font increase
  • Font Decrease

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে ইউক্রেন দূতাবাসে কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সদর দফতরে লেটার বোমা বিস্ফোরণে একজন আহত হয়েছে।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে ইউক্রেন দূতাবাসে এঘটনা ঘটে। স্প্যানিশ পুলিশ বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্ত করছে বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওলেগ নিকোলেনকো বলেছেন, মাদ্রিদে ইউক্রেনের দূতাবাসে মেইল বিতরণের অংশ হিসেবে একটি খাম পায়। একজন নিরাপত্তা প্রহরী খামটি চেক করার সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়।

তিনি হালকা আঘাত পেয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা পাচ্ছেন।

স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলেছে, আহত কর্মী কোন সাহায্য ছাড়াই একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা সব ইউক্রেনীয় দূতাবাসের নিরাপত্তা দ্রুত জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং স্পেনকে বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত করতে বলেছেন।

;

আফগানিস্তানে স্কুলে বোমা হামলায় নিহত অন্তত ১৫



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় সামাঙ্গান প্রদেশে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

প্রাদেশিক মুখপাত্র এমদাদুল্লাহ মুহাজির বলেছেন, বুধবার (৩০ নভেম্বর) সামাঙ্গনের রাজধানী আইবাকের একটি স্কুলে বিস্ফোরণে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

রাজধানী কাবুল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার (১৩০ মাইল) উত্তরে আইবাকের একজন চিকিৎসক বলেছেন, নিহতদের বেশিরভাগই যুবক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি এএফপিকে বলেন, তারা সবাই শিশু ও সাধারণ মানুষ।

খবরে বলা হয়, আফগানিস্তানের সামাঙ্গন প্রদেশের ওই মাদরাসায় বুধবার বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে বোমা ফাটে। তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে চার দিক। তালেবানের পক্ষ থেকে ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জহিদা মাদরাসায় হামলাটি হয়েছে। সেখানে তখন প্রার্থনা সেরে সবে উঠছিলেন ছাত্র এবং শিক্ষকেরা। কাবুলের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, মৃতদের অধিকাংশই শিশু এবং সাধারণ মানুষ।

;

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শীতকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে পুতিন: ন্যাটো



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শীতকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গ।

রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে সোমবার (২৮ নভেম্বর) সদস্যদেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি। খবর রয়টার্স।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। এর মাধ্যমে রাশিয়া আসন্ন শীত মৌসুমে সাধারণ ইউক্রেনীয়দের জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছে কিয়েভ।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির আশঙ্কা শীতের মৌসুমে নতুন করে বিধ্বংসী হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। এই পরিস্থিতিতে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে এক বক্তৃতায় বলেন, বিদ্যুতের সরবরাহ কম থাকায় আমাদের সকলকে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

গত কয়েক মাসে ইউক্রেন সেনাদের আক্রমণে দক্ষিণের খেরসন, মাইকোলিভ এবং উত্তর-পূর্বে খারকিভসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পিছু হটতে শুরু করেছে রুশ বাহিনী। পেন্টাগন প্রকাশিত একটি রিপোর্টে দাবি, যুদ্ধের প্রথম ৮ মাসে প্রায় আশি হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বাহিনী আর কত দিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে সামরিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেরই।

এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা বলছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শীতকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, হিমশীতল আবহাওয়ায় নতুন একটি শরণার্থী সংকট তৈরি হোক, তেমনটিই দেখতে চাইছেন পুতিন। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপজুড়ে মূল্যস্ফীতির সময়ে মহাদেশটির ঐক্য ও ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থনকে পুনরায় যাচাই করা যাবে।

বুখারেস্টে জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুদিনের বৈঠকের আগে ন্যাটো মহাসচিব বলেন, ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড, গ্যাসের স্থাপনা এবং মানুষের মৌলিক সেবার অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রাখতে পারে রাশিয়া।

স্টলটেনবার্গ বলেন, আমরা যখন শীতকালে প্রবেশ করছি, প্রেসিডেন্ট পুতিন তখন চেষ্টা করছেন যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে শীতকে ব্যবহার করতে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর দশ মাস হতে চলল। সামনে তীব্র শীতের মৌসুম। এ সময় ইউক্রেনের মানুষ ভয়াবহ চাপের মধ্যে পড়ে যাবে। কারণ, একে তো শীত, সেই সঙ্গে যুদ্ধ; ফুরিয়ে আসবে জীবনধারণের রসদ।

;