বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানও পাবে সৌদি পর্যটক ভিসা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ উপমহাদেশের নাগরিকরা সৌদি আরবের দূতাবাস এবং কনস্যুলেটের মাধ্যমে পর্যটক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

সৌদি দূতাবাস বা কনস্যুলেটে পর্যটন ভিসার আবেদন করার জন্য, আবেদনকারীদের কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক আবেদনকারীদের জন্য সঙ্গে একজন অভিভাবক রাখতে হবে।

সৌদি ট্যুরিজম ওয়েবসাইট অনুসারে, আবেদনকারী কোন ধর্মের অনুসারী তা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে সৌদি পৃষ্টপোষকতার প্রয়োজন নেই।

আবেদন করার আগে, পাসপোর্টটি সৌদি আরবে প্রবেশের সময় কমপক্ষে ছয় মাসের জন্য বৈধ কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ ভিসা প্রত্যাখ্যান হলে ভিসা ফি ফেরত পাওয়া যাবে না।

বিশ্বের যেসব দেশে সৌদি দূতাবাস বা কনস্যুলেট আছে সেখানকার নির্ধারিত ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে। ভিসার মেয়াদ অতিক্রম হলে ট্যুরিস্ট ভিসার অতিরিক্ত মূল্য হিসেবে প্রতিটি দিনের জন্য ১০০ রিয়াল নেওয়া হবে।

ভিসা পেতে প্রয়োজনীয় কাগজগুলোর মধ্যে রয়েছে: থাকার ব্যবস্থা, ফিরতি টিকেট, কর্মসংস্থানের প্রমাণ, ব্যাংক দলিল, বাসার ঠিকানা, ভ্রমণে কোথায় যাবেন তার পরিকল্পনা।

এর আগে শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্বের ৪৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা পাওয়া যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। এ ৪৯টি দেশের নাগরিকরা ই-ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন বা সৌদি আরবে অনঅ্যারাইভেল ভিসা পাবেন।

ই-ভিসা এবং ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, কাজাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, ব্রুনেই, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, স্পেন, বেলজিয়াম, মালয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া, সাইপ্রাস, যুক্তরাজ্য, ক্রোয়েশিয়া, এস্তোনিয়া, অ্যান্ডোরা, ডেনমার্ক, জার্মানি, বুলগেরিয়া, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি, চেকপ্রজাতন্ত্র, হল্যান্ড, ইতালি, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, লিটভা, গ্রীস, লিচেনস্টেইন, মোনাকো, আইসল্যান্ড, মালটা, পোল্যান্ড, ল্যাটভিয়া, নরওয়ে, রাশিয়া, লুক্সেমবার্গ, রুমানিয়া, স্লোভানিয়া, মন্টিনিগ্রো, শ্লোভাকিয়া, সুইজারল্যান্ড, পর্তুগাল, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, সান মারিনো, ইউক্রেনের নাগরিকরা। হংকং, ম্যাকাও এবং তাইওয়ানসহ চীনের নাগরিকরাও এ সুবিধা পাবেন।

ট্যুরিস্ট ভিসায় সৌদি আরবে বছরে মোট ৯০ দিনের বেশি সময় কাটাতে পারবে না। এক সফরে তিন মাসের অধিক অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে একাধিক এন্ট্রিসহ ভিসা এক বছরের জন্য বৈধ। এই ভিসার জন্য আবেদনের ব্যয় ৪৪০ রিয়াল (প্রায় ১১৭ মার্কিন ডলার) ধরা হয়েছে। সঙ্গে ভ্যাটও দিতে হবে।

এ নিয়ে দেশটির স্থানীয় প্রশাসন পর্যটকদের উদ্দেশ্য জানায়, সৌদি আরব যেহেতু মুসলিম দেশ এজন্য পর্যটকরা যেন মুসলিম রীতি-নিতি মেনে পোশাক পরিধান করে।

সৌদি আরবে পর্যটন উন্মুক্ত করার প্রধান কারণ অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করা এবং তেলের উপর নির্ভরতা হ্রাস করা।

সৌদি আরব আশা করে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ভ্রমণে পর্যটকের সংখ্যা ১০ কোটিতে উন্নীত হবে। উল্লেখযোগ্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে এবং ১০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করবে।

২০৩০ সালের মধ্যে সৌদি আরবের জিডিপিতে ট্যুরিজম ১০ শতাংশ অবদান রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে এটি মাত্র ৩ শতাংশ।

আপনার মতামত লিখুন :