বঙ্গোপসাগরের গ্যাস ২০২৩ সালে বিক্রিতে যাচ্ছে মিয়ানমার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

২০২৩ সালে বঙ্গোপসাগর থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু করতে যাচ্ছে মিয়ানমার। অস্ট্রেলিয়ার গ্যাস উত্তোলন কোম্পানি উডসাইড ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর দক্ষিণ রাখাইন বেসিন সমুদ্র সীমায় মিয়ানমারের এ-৬ ব্লকে একটি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে।

মিয়ানমারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রকের (এমওইই) তেল ও গ্যাস পরিকল্পনা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ইউ জাও অং বলেন, ‘২০২৩ সালে উপকূলবর্তী মিয়ানমারের এ-৬ ব্লক থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হবে। মিয়ানমার বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন করার লক্ষ্য নিয়েছে। আমাদের মূলধন ফিরিয়ে আনতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে এবং তারপর কিছুদিন লাগবে লাভের মুখ দেখতে।’

মিয়ানমারের এ গ্যাসকূপটি আয়রওয়াদ্দি অঞ্চলের পাথেইন থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রসীমায় অবস্থিত। এ-৬ এর কূপে ২৩২৫ মিটার জলের গভীরতায় গ্যাস উত্তোলন করতে হবে।

এমওইই প্রধান নির্বাহী ইউ মো মাইন্ট জানিয়েছেন, সমুদ্রসীমায় ব্লকটির গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন প্রকল্পের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। লক্ষ্য, ২০২৩ সালে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন করা। মিয়ানমার এ-৬ ব্লকের গ্যাসের ২০ শতাংশের অংশীদার, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া থেকে উডসাইড এনার্জি ৪০ শতাংশ এবং ফরাসি এনার্জি কোম্পানি টোটাল ৪০ শতাংশের অংশীদার। ২০০৫ সালে বাংলাদেশকে পাইপ লাইনের মারফতে ভারতে গ্যাস নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল মিয়ানমার। এর ফলে বাংলাদেশও সাশ্রয়ীমূল্যে গ্যাস পেত। 

Myanmar
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমার তার সমুদ্রসীমায় আবিষ্কৃত বড় গ্যাসের মজুত ভারতে রফতানি করার জন্য বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ত্রিদেশীয় পাইপ লাইন স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। বাংলাদেশ এ প্রস্তাব গ্রহণ করেনি এবং সুযোগটি হাতছাড়া করে।

এ প্রস্তাব ভেস্তে গেলে মিয়ানমার তার গ্যাস চীনে পাইপ লাইনের মাধ্যমে রফতানি করার ব্যবস্থা করে, যা আজ পর্যন্ত চালু রয়েছে। ২০১২ ও ২০১৪ সালে যথাক্রমে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার পর মিয়ানমার সমুদ্রসীমায় নজর দেয়। বাংলাদেশের মোট ২৬টি সমুদ্র ব্লকের ২২টিই খালি পড়ে রয়েছে। যে চারটি ব্লকে অনুসন্ধান চুক্তি করা হয়েছে, তাতে নিযুক্ত তেল কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম নেহাতই ধীর ও স্বল্প। গ্যাস বা তেল সম্পদ আহরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সমুদ্র বিশ্বে সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা অজ্ঞাত সমুদ্র অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হয়। অথচ বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার ও ভারতের সমুদ্র সীমানার ওপারে ওই দু’টি দেশই বড় আকারের গ্যাস সম্পদ আবিষ্কার ও আহরণের কাজ সার্থকভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।

ভূবিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রাকৃতিকভাবে আন্তঃদেশীয় সীমানার কোনো অস্তিত্ব নেই, তাই বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সমুদ্র সীমানার ওপারে মিয়ানমারে যে বৃহৎ গ্যাস মজুত আবিষ্কার হয়েছে, তার প্রাকৃতিক ও ভূতাত্ত্বিক ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের এপারেও বজায় থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :