ইরাক-আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ব্রিটিশ সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ছবি: বিবিসি

ছবি: বিবিসি

  • Font increase
  • Font Decrease

আলোচিত আফগানিস্তান ও ইরাকে যুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল ব্রিটিশ সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি'র ও সানডে টাইমসের এক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিবিসি প্যানোরামা এবং সানডে টাইমস ১১ জন ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। যেখানে ব্রিটিশ সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনী দ্বারা আফগানিস্তান ও ইরাকের বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তারা। এর মধ্যে এক গোয়েন্দা এসব হত্যার জন্য বিচার করা উচিৎ বলে জানায়।

তবে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ অভিযোগকে অস্বীকার করা হয়েছে। তারা বলছে, 'ভিত্তিহীন অভিযোগকে আমরা মানি না।'

এসব অভিযোগের প্রমাণ এসেছে ইরাকে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত দল ইরাক হিস্ট্ররিক আলিগেশন টিম (আইএইচএটি) ও আফগানিস্তানের তদন্ত দল অপারেশন নর্থমুর থেকে। তারা ইরাক ও আফগানিস্তানে ব্রিটিশ সেনাদের যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি তদন্ত করেছে।

আইএইচএটি'র প্রমাণাদি দিয়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ব্রিটিশ সেনাদের ওপর আইনজীবী ফিল শিনার প্রায় এক হাজারটি মামলা দায়ের করার পর ব্রিটিশ সরকার আইএইচএটি'কে বন্ধ করে দেয়। এ বিষয়ে আইএইচএটি এবং অপারেশন নর্থমুরের প্রাক্তন গোয়েন্দারা বলেছেন, আইনজীবী ফিল শিনারের কার্যক্রমের অজুহাত দেখিয়ে তাদের তদন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এছাড়া আইএইচএটির আরও এক গোয়েন্দা বলেন, 'সেনা সদস্যদের বিচারকার্য করার কোন ইচ্ছা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছিল না। উচ্চপদস্থ অথবা নিম্নপদস্থ সেনা সদস্য হোক না কেন।'

আরেক সাবেক গোয়েন্দা বলেছেন, 'সেনাদের এই কাজকে আমি ঘৃণ্য বলব। যেসব পরিবার তাদের সদস্য হারিয়েছে তাদের জন্য আমার সমবেদনা রয়েছে। তারা ন্যায় বিচার পাচ্ছে না। ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে কীভাবে এই অন্যায় দেখে মাথা ঠিক রাখতে পারবেন?'

আইএইচএটি দ্বারা তদন্তকৃত একটি ঘটনা হচ্ছে ২০০৩ সালের এক ইরাকি পুলিশ সদস্যকে গুলি করে হত্যা। ওই সময় ইরাকের বসরায় টহল দেওয়ার সময় এক ব্রিটিশ সদস্য ওই ইরাকি পুলিশ সদস্যকে গুলি করে হত্যা করে। আর এ বিষয়টি পুনরায় প্যানোরামা তদন্ত করছে।

ব্রিটিশ সেনার গুলিতে নিহত হওয়া ইরাকি পুলিশ সদস্য, ছবি: বিবিসি

আইএইচএটি'র তদন্তে দেখা যায়, ইচ্ছে করেই এ গুলি চালায় ব্রিটিশ সেনা সদস্য এবং গুলি চালানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি আত্মরক্ষা হিসেবে পরিণত হয়। আর ব্রিটিশ সেনাদের প্রতিবেদনে দেখানো হয়, ওই ইরাকি পুলিশ সদস্য ব্রিটিশ টহলরতদের উদ্দেশ্যে করে প্রথম গুলি চালিয়েছে।

আইএইচএটি'র গোয়েন্দারা প্রায় দুই বছর এ তদন্ত চালায়। এর মধ্যে তারা প্রায় ৮০ জন সেনা সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর মধ্যে এক প্রত্যক্ষদর্শী সেনা সদস্য রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী আইএইচএটিকে জানায়, ঘটনাটি একটি সরু গলির ভিতরে হয় যার কারণে আমি সম্পূর্ণ দেখতে পারিনি। আমি শুধু একটি গুলির শব্দ শুনেছি।

এরপর আইএইচএটি তার প্রতিবেদনে গুলি চালানো ওই সেনা সদস্যকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। কিন্তু প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই তদন্ত প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করে।

এছাড়া আফগানিস্তানে ২০১৪ সালে প্রায় ৫২ টি অৈবধ হত্যার প্রমাণ পায় অপারেশন নর্থমুর। এ বিষয়ে অপারেশন নর্থমুরের এক গোয়েন্দা সদস্য বলেন, 'আমার মতে যত হত্যাকাণ্ড হয়েছে সবগুলোই তদন্তের যোগ্য।' তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিবিসিকে জানায়, 'সামরিক অভিযান আইন অনুসারে পরিচালিত হয় এবং অভিযোগের ব্যাপক তদন্তও করা হয়।' এছাড়া যত মামলা হয়েছে তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয় বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

এ সম্পর্কিত আরও খবর