সুদানে নারীবিরোধী আইন বাতিল, বশিরের দল বিলুপ্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

ঐতিহাসিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিলো সুদান। দেশটির অন্তবর্তীকালীন সরকার জনসম্মুখে নারীদের চলাফেরা ও পোশাক পরিধান নিয়ে এক কট্টরপন্থি আইন বাতিল করেছে। একই সঙ্গে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের রাজনৈতিক দলকে ভেঙে দিয়েছে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে দেশটির নারীসমাজ। সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের সরকারের আমলে নারীদের জনসম্মুখে নির্দিষ্ট পোশাক পরে চলাফেরা করতে হতো। অনেক স্থানে তাদের প্রবেশাধিকারও ছিলো সীমিত।

সাহসী এ পদক্ষেপ নেওয়ার পর সুদানের প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদক এক টুইট বার্তায় বলেছেন, আমি চাই দেশের নারী ও তরুণ সমাজ তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোক যারা এই আইনের কারণে নির্মমতার শিকার হয়েছেন।

চলতি বছরের এপ্রিলে এক শান্তিপূর্ণ জনঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয় ১৯৮৯ সালে ক্ষমতা দখলকারী আল-বশিরকে।

এরপর আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ও সামরিক বাহিনীর সমঝোতার মাধ্যমে এক যৌথ অন্তর্বতী সরকার গঠিত হয়। এ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের নেতৃত্বে রয়েছেন আবদাল্লা হামদক।

আন্দোলনকারীরা প্রথম থেকেই নারীদের ওপর কঠোর আইন বাতিল ও বশিরের রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি করে আসছিলেন।

সরকারের এই সাহসী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাতে রাজধানী খার্তুমের রাস্তায় আনন্দ উদযাপনে মেতেছে সাধারণ জনগণ।

সরকারের সর্বোচ্চ পরিষদে থাকা দুই নারীর একজন আইশা মুসা। তিনি জানান, নারীরা কিভাবে পোশাক পরবে, কিভাবে হাঁটা-চলা করবে সেটির ওপর নজর দিতো আগের সরকার। কিন্তু নারীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্ব দিত না।

আইশা বলেন, এখন সময় সব দুর্নীতি বন্ধ করার, নারীদের ওপর এমন বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করার।

এর আগে প্রথমবারের মতো ২৫ নভেম্বর নারীদের ওপর বৈষম্য দূরীকরণ দিবস উপলক্ষে পদযাত্রা হয় সুদানে।

বশিরের দলের কার্যক্রম চালানোর ওপর ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, বশির সরকারের কোনো সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা যাবে না এবং তার দল ১০ বছর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবে না।

বশিরের দল এনসিপি’কে অবলুপ্তি ঘোষণা করায় দলটির সম্পদ অধিগ্রহণ করতে পারবে সরকার। এ জন্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

টুইট বার্তায় হামদক জানান, সুদানের জনগণের কাছ থেকে লুট করে নেওয়া সম্পদ উদ্ধারের জন্য এনসিপি বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে।

বশিরের সরকারের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সুদানি পেশাজীবী সমিতির এক মুখপাত্র সরকারের এ সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে, সরকারি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এনসিপি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি নৈতিক স্খলন ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্বের আরেক উদাহরণ। এই সিদ্ধান্ত অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসা সরকারের ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।

এনসিপির ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে, এনসিপি তার বিরুদ্ধে আনা কোনো আইন বা সিদ্ধান্তে ভয় পায় না। তাই এটা নিয়ে ভাবেও না। এনসিপি একটি শক্তিশালী দল। এর আদর্শ চিরন্তন থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :