সার্কের অগ্রগতির পথে বাধা সন্ত্রাসবাদ: মোদি

শরিফুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি/ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি/ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

৩৫ বছরে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা-সার্কের অনেক সাফল্য রয়েছে, তবে আঞ্চলিক এ সংগঠনটিকে আরও এগিয়ে যেতে হবে। ৩৫তম সার্ক সনদ দিবস উপলক্ষে দেয়া এক শুভেচ্ছা বাণীতে এ মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

ওই শুভেচ্ছা বাণীতে সার্কভুক্ত দেশের জনগণকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। বাণীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ অঞ্চলের সব দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি বিকাশের লক্ষ্যে দক্ষিণ এশিয়াকে সংযুক্ত ও সংহতি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক অর্জনে ভারত বিভিন্ন পদক্ষেপে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।'

বাণীতে সার্কের অগ্রগতি আরও এগিয়ে নেয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, সার্ককে আরও এগিয়ে যেতে হবে। তবে সন্ত্রাসবাদের মতো সমস্যার কারণে সার্কের অগ্রগতি বার বার থমকে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন মোদি।

তিনি বলেন, এ ধরনের পরিবেশ সার্কের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশে আমাদের অংশীদারিত্বমূলক উদ্দেশ্যকে বাধাগ্রস্ত করে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে এই অঞ্চলেরর সব দেশ সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে সহায়তাকারী শক্তির লাগাম টেনে ধরার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে। এতে করে একটি শক্তিশালী সার্ক গঠনে প্রয়োজনীয় বিশ্বাস ও আস্থা তৈরি হবে।

একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের কাজে সবাইকে এই মহতপূর্ণ দিন উপলক্ষে নিয়োজিত করার আহ্বান জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।

সার্কের সদস্যদের অর্থায়নে পরিচালিত দিল্লিতে অবস্থিত সাউথ এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় (সাউ)-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বাণী।

উল্লেখ্য, ৮ ডিসেম্বর সার্ক সনদ দিবস। ১৯৮৫ সালের এ দিনে ঢাকায় সার্ক সনদ স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা-নিয়ে গঠিত হয় সার্ক। ২০০৭ সালে দিল্লিতে সার্কের ১৪তম সম্মেলনে সদস্য পদ পায় আফগানিস্তান। ৩৫ বছরের যাত্রায় সার্ক সাউথ এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে লক্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে আঞ্চলিক এ সংগঠন। তবে, ২০১৬ সালের পর থেকে সার্কের অচলাবস্থা শুরু হয়। ২০১৬ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানে সার্কের ১৯তম শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও স্থগিত করা হয়।

নিজেদের অধীনে থাকা কাশ্মীরের উরিতে সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত সম্মেলনে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। ভারতকে অনুসরণ করে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ সম্মেলন বয়কট করার কথা জানায়। সেই সময় থেকে সার্কের শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত রয়েছে।

শীর্ষ সম্মেলনে সংস্থাটি পরিচালনার মূল সিদ্ধান্ত ও আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রসারিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়।

এদিকে, প্রতি বছরের মতো এবারও সার্ক সনদ দিবস উদযাপন করছে সাউ। দিবসটি উদযাপনে ৯ ডিসেম্বর দিনজুড়ে নানা আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দিবসটি উদযাপনে এবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেছে নিয়েছে ‘সবার জন্য বিজ্ঞান‘ প্রতিপাদ্য।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এইবাম প্রহলাদের আমন্ত্রণী বক্তব্যে শুরু হবে অনুষ্ঠান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ড. এভিএস রামের চন্দ্র উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন বিকাশ স্বরূপ। তিনি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার, পাসপোর্ট, ভিসা ও প্রবাসী ভারতীয় বিষয়ক শাখার সচিব। কূটনীতিক পরিচয়ের পাশাপাশি বিকাশ স্বরূপ ভারতের একজন নামকরা লেখকও। তার উপন্যাস ‘কিউ অ্যান্ড এ’-এর অবলম্বনে তৈরি জননন্দিত ম্যুভি ‘স্লামডগ মিলোনিয়ার,’ ‘সিক্স সাসপেক্ট’ ও ‘দ্য এক্সিডেন্টাল অ্যাপ্রিন্টিস’।

দিবসটি উপলক্ষে সাউ আর্ট গ্যালারিতে উন্মোচন করা হবে সার্কের বিভিন্ন সমসাময়িক শিল্পীর চিত্রকর্ম। এছাড়াও রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন :