নতুন ৭১ প্রজাতির আবিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
নতুন প্রজাতির আবিষ্কার

নতুন প্রজাতির আবিষ্কার

  • Font increase
  • Font Decrease

পৃথিবীতে নতুন ৭১টি প্রজাতির আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। ক্যালিফোর্নিয়া একাডেমি অফ সাইন্সের গবেষকরা এ বছর এই ৭১টি প্রজাতির সন্ধান পান। যা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সিএনএন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

উদ্ভাবন হওয়া নতুন প্রজাতির মধ্যে রয়েছে ফুল, মাছ, কোরাল, মাকড়শা, সামুদ্রিক শামুক, পিঁপড়া এবং গিরগিটি। গবেষকরা জানায় নতুন প্রজাতির তিনটি মহাসাগরে, পাঁচটি গুহায় ও বনে এবং বাকিগুলো সমুদ্রের গভীরতম স্থানে পাওয়া গেছে।

নতুন উদ্ভাবন হওয়া এসব প্রজাতির ফলে পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা ব্যক্ত করছেন বিজ্ঞানীরা।

এ বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়া একাডেমি অফ সাইন্সের প্রধান বিজ্ঞানী শ্যানন বেনেট বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে পৃথিবীর সর্বাধিক পরিচিত এবং প্রত্যন্ত স্থানগুলোকে খোঁজার পরেও আমাদের মতো জীববৈচিত্র্য বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছেন প্রকৃতির ৯০ শতাংশের বেশি প্রজাতি অজানা রয়ে গেছে।’

ওয়াকান্দা নামে একটি মাছ

তিনি আরও বলেন, ‘সমস্ত জীবন ব্যবস্থার আন্তঃসংযোগ আমাদের জলবায়ু সংকটের মুখে সম্মিলিত স্থিতিস্থাপকতা সরবরাহ করে। প্রতিটি নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতির বাস্তুতন্ত্রকে আরও ভালোভাবে বুঝতে হবে। এদের সংরক্ষণে আমাদের কাজ করতে হবে।’

নতুন এসব প্রজাতির পাঁচটির বিবরণ দেওয়া হলো

১. ওয়াকান্দা নামে একটি মাছ

ওয়াকান্দা জাতির মাছটি কেবল হলিওডের মার্ভেল কমিক্স ছবি সুপারহিরো ব্ল্যাক প্যান্থারের বাড়ি হিসাবে উপস্থিত করা হয়। গবেষকরা বিশ্বাস করেন, তারা পানির নীচে একটি সংস্করণ পেয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের ২৬০ ফুট নীচে গোপনীয় শৃঙ্খলে মাছটিকে আবিষ্কার করেছেন তারা। এর আগে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করতেন, এই প্রজাতির মাছটি তানজানিয়া উপকূলে ভারত মহাসাগরে অন্ধকার প্রবাল প্রাচীরগুলোতে বাস করে। স্থানীয় ভাবে এসব মাছকে টুইলাট জোন নামে পরিচিত।

২. বিপন্ন টিকটিকি এবং গেকোস

২০১৯ সালে একাডেমি রিসার্চ অ্যাসোসিয়েটস অ্যারোন বাউর, মাত্র ১৫টি গেকোস ও তিন জাতীয় গিরিযুক্ত টিকটিকি পেয়েছিল। যার সবকটি বিপন্ন প্রজাতির। বিপন্ন এসব প্রাণী সম্পর্কে বাউর বলেন, সময়মতো এই প্রজাতিগুলো সন্ধান করে তাদের জনসংখ্যার জন্য বৃদ্ধি না করলে আমরা তাদের খুব দ্রুত হারিয়ে ফেলবো। এছাড়া তাদের হুমকিসমূহ নির্ধারণ করা আমাদের মূল বিষয়। কর্মজীবন চলাকালীন, বাউর ২০৫ টিরও বেশি সরীসৃপ আবিষ্কার করেছেন।

বিপন্ন টিকটিকি এবং গেকোস

৩. সামুদ্রিক স্লাগস

সামুদ্রিক স্লাগস ছদ্মবেশে থাকে। এটি সদ্য আবিষ্কৃত একটি প্রজাতি ‘মাদ্রেলা অ্যাম্ফোরা’। দেখতে শামুকের ডিমের মতো।

ইনভারটিবারেট জুলজির একাডেমি কিউরেটরি টেরি গসলিনার বলেছেন, ‘আমরা সম্প্রতি জেনেটিক্সের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছি যে, সমুদ্র স্লাগগুলো অন্যান্য প্রজাতির রঙ নকল করে। গসলিনার সামুদ্রিক স্লাগ সম্পর্কিত বিভিন্ন আবিষ্কারের জন্য পরিচিত।

সামুদ্রিক স্লাগস

৪. মুখরোচক ফুল

এ বছর একটি বিরল ফুল গাছের আবিষ্কার করা হয়েছে। এরা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ফুলগুলো গবেষকদের আঙ্গুলের চারদিকে ঘোরাফেরা করে। ট্রিম্বলিয়া আলটোপ্যারাইসেনসিস নামে সাদা রঙের ফুলটি একটি সুন্দর উদ্ভিদ। প্রায় একশ বছর আগে একবার ফ্রান্সোইস মেরি গ্লাজিউ নামে একজন বিখ্যাত উদ্ভিদবিজ্ঞানী এটি আবিষ্কার করেছিলেন। আধুনিক সময়ে গাছটিকে বাস্তবে বর্ণনা করার কঠিন ছিল।

একাডেমির উদ্ভিদবিদ্যালয়ের এমেরিটাস কিউরেটর ফ্র্যাঙ্ক আলমেদার সঙ্গে পিএইচডি শিক্ষার্থী রিকার্ডো প্যাসিফিকো বলেন, ‘মানুষ মনে করেন উদ্ভিদ চলাচল করতে পারে না, তবে তারা তা করে। পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উদ্ভিদগুলো তাদের প্রয়োজনে স্থানান্তরিত হয়।’

মুখরোচক ফুল

ট্রিম্বলিয়া আল্টোপ্যারাইসেনিস ব্রাজিলের চাঁপাডা ডাস ভিডেইরোস ন্যাশনাল পার্কের গিরিখাতগুলোতে বাস করে।
এ বছর মাদাগাস্কারের জাতীয় উদ্যানের একটি নতুন প্রজাতিসহ মোট আটটি ফুলের গাছ পাওয়া গেছে।

৫. গভীর সমুদ্রের কোরাল

দূর থেকে চালিত যানবাহনগুলো গভীর সমুদ্র সমীক্ষার সময় কোরাল আবিষ্কার করতে এবং বুঝতে গবেষকদের সহায়তা করেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে এনওএএ অভিযানে ক্রোমোপেক্সুরা কর্ডেলব্যাঙ্কেনসিস নামে একটি সুন্দর হলুদ কোরালের সন্ধান পাওয়া যায়।

একাডেমির ইনভার্টেবারেট প্রাণিবিদ্যা কিউরেটর গ্যারি উইলিয়ামস বলেন, ‘আমরা সমুদ্রের উপরের বিষয়গুলো জানি। কিন্তু গভীর সমুদ্রে বিষয়গুলো আমাদের অজানা দেখা যায়।’

গভীর সমুদ্রের কোরাল

সান ফ্রান্সিসকো উপকূল থেকে ৬০ মাইল দূরে কর্ডেল ব্যাংকের জাতীয় মেরিন অভয়ারণ্যে এ বছর দুটি নতুন বৈচিত্র্যময় কোরাল পাওয়া গেছে।

আপনার মতামত লিখুন :