করোনা যুদ্ধে জয় দেখিয়ে দিয়েছে দ. কোরিয়া

খুররম জামান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় কীভাবে জিততে হবে তা দেখিয়ে দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ভাইরাসটির সংক্রমণ বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী চুং সে-কিয়ুং।

শুক্রবার ( ২৭ মার্চ) এশিয়া টাইমসের এক প্রতিবেদনে এর বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘অন্যান্য দেশের তুলনায় এখন আমাদের অনেক বেশি অভিজ্ঞতা আছে। তাই সংক্রমণ বিস্তারের আগেই আমাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা অন্যান্য দেশগুলো প্রয়োগ করলে আমরা খুশি হব।’

কোরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে করোনাভাইরাসের সংকট দেখা দিয়েছিল। বিশ্বজুড়ে সংবাদ মাধ্যম এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দক্ষিণ কোরিয়ার এই সংকট মোকাবিলার প্রশংসা করেছে। অন্যদিকে কানাডা, সৌদি আরব, স্পেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা করোনা রোধে দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞতা জানতে দেশটির রাষ্ট্রপতি মুন জা-ইন’র সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় দক্ষিণ কোরিয়া গত মাসে যেখানে চীনের পরেই দ্বিতীয় স্থানে ছিল। অন্যান্য দেশগুলোর আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে দেশটি ১০তম স্থানে নেমে যায়। এটি সম্ভব হয়েছে বিস্তৃত পরীক্ষা ও চিকিৎসা, অব্যাহত সন্ধান, প্রাথমিক চিকিৎসা। আর এ কারণেই মৃত্যু এক শতাংশের নিচে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুসারে শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় ৯৯ হাজার ৩৩৩ জনের সংক্রমণ রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৩৯ জন। কোরিয়া সেন্টার ফর ডিজিজেস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা কেসিডিসি অনুসারে আক্রান্তদের মধ্যে ৪ হাজার ৫২৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সংকটময় সময়কে অতিক্রম করেছি। সংক্রমণ দুই সংখ্যায় নেমে এসেছে। আমরা এমন অবস্থানে রয়েছি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছি। চীন এবং ইউরোপীয় পদক্ষেপের বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া দেশব্যাপী লকডাউন ছাড়াই এটি অর্জন করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা লকডাউন না করে যতটা সম্ভব সব কিছু খুলে রাখার চেষ্টা করছি। এমনকি সংক্রমণের চূড়ান্ত সময়কালেও কোরিয়ার প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল দক্ষিণ-পূর্বের দাগু শহর কখনোই বন্ধ ছিল না। শহরটিতে গণপরিবহন সর্বত্রই চালু ছিল।’

চুং সে-কিয়ুং বলেন, ‘আমাদের পদ্ধতির দিকনির্দেশক নীতিগুলো চারটি মূল ধারণায় সংক্ষিপ্ত করা যেতে পারে। এগুলো হলো- গতি, স্বচ্ছতা, উদ্ভাবন এবং স্বেচ্ছাসেবী নাগরিক অংশগ্রহণ। গতির দিক দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া দিনে ১০ হাজারের এরও বেশি পরীক্ষা চালিয়েছে। প্রয়োজনে প্রতিদিন ২০ হাজার পরীক্ষা করার ক্ষমতা রয়েছে। পরীক্ষা এবং পরবর্তী চিকিৎসা করা হয়েছে বিনামূল্যে।’

কেসিডিসির মতে এখন পর্যন্ত ৫১ মিলিয়ন জনসংখ্যার দক্ষিণ কোরিয়া ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৬১১টি টেস্ট করেছে। যা জনসংখ্যার অনুপাতে বিশ্বে এক নম্বর। একাধিক টেস্ট স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে, ড্রাইভ-থ্রু লোকেশনসহ যেখানে টেস্টার এবং পরীক্ষকের মধ্যে কোনো শারীরিক যোগাযোগ নেই।

চুন উল্লেখ করেন, সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো কোভিড-১৯ সঙ্গরোধ সেন্টারে রূপান্তরিত হয়েছে। যাদের গুরুতর লক্ষণ নেই, তাদের বাড়িতে সঙ্গরোধে রেখে স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে নজরদারি করা হয়। মেডিকেল কর্মী, স্থানীয় সরকার কর্মী, সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবী সবাইকে একত্রিত করা হয়েছিল এবং স্বল্প সমর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :