দরিদ্রদের কাছে মোদির ক্ষমা প্রার্থনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতে চলছে ২১ দিনের লকডাউন। কিন্তু মৃত্যু যেমন বাড়ছে তেমনি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব নিয়ে সমালোচনাও বাড়ছে। এ কারণে রোববার (২৯ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের দরিদ্র মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) তিন সপ্তাহের লকডাউন জারি করে ভারত সরকার। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের কয়েক মিলিয়ন দরিদ্র মানুষ চরম বেকায়দায় পড়েছেন। বহু ক্ষুধার্ত এবং বেকার প্রবাসী শ্রমিকদের শহর ছেড়ে পালাতে হচ্ছে এবং গ্রামের পথে শত শত কিলোমিটার পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হচ্ছে।

মোদি দেশব্যাপী প্রচারিত এক রেডিও বার্তায় বলেন, ‘আমি প্রথমেই আমার দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’ তিনি মানুষকে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেন যে তার আর কোন উপায় ছিল না।

‘দরিদ্র মানুষরা নিশ্চয়ই ভাবছে এ কেমন প্রধানমন্ত্রী, যিনি কিনা আমাদের এমন বিপদে ফেলে দিয়েছেন।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেগুলো ভারতকে করোনার বিরুদ্ধে জয়ী করবে।’

রোববার (২৯ মার্চ) পর্যন্ত ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭৯ জনে এবং মোট মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের।

মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার ও দরিদ্রদের সহায়তা করার জন্য বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ২২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ভারত সরকার।

২০১৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী অভিজিৎ ব্যানার্জী এবং এসথার ডুফলো রোববার প্রকাশিত এক মতামত বার্তায় জানান, দরিদ্রদের এর চেয়ে অনেক বেশি সাহায্য প্রয়োজন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত ঐ বার্তায় তারা বলেন, সাহায্য ছাড়া চাহিদার সঙ্কট অর্থনৈতিক ধস নামাবে এবং মানুষের তখন আইন অমান্য করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।

ছয় বছরের মধ্যে ভারতের প্রবৃদ্ধি যখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে, ঠিক এই সময়ে লকডাউন অর্থনৈতিক দুর্দশাকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করে হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :