ভারতের বায়োটেক ফার্মের করোনা টিকার প্রতি শটের দাম পড়বে হাজার রুপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস ডিজিজ-২০১৯ বা সংক্ষেপে কোভিড-১৯ এর কোনো প্রতিষেধক বা ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। এতে বিশ্বে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯ লক্ষাধিক মানুষ। এর মধ্যে মারা গেছেন তিন লক্ষাধিক। এজন্য বিশ্বব্যাপী জোর চেষ্টা চলছে করোনাভাইরাসের টিকা (ভ্যাকসিন) আবিষ্কারের।

এরই মধ্যে বিশ্বের বেশকিছু বড় ওষুধ ও ভ্যাকসিন আবিষ্কারক প্রতিষ্ঠান করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু করেছে। করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দৌড়ে শীর্ষস্থানে আছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩ এপ্রিল সারস-কোভিড-২ এর বিরুদ্ধে (করোনা রোগের ভ্যাকসিনের) ভ্যাকসিনের প্রথম পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। ১১১২ জন সুস্থ স্বেচ্ছাসেবককে একটি করে ডোজ দেওয়া হবে। যার উদ্দেশ্য, ভ্যাকসিনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির এবং সুরক্ষার ক্ষমতা সম্পর্কে জানা।

করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কার হলে এর উৎপাদন হবে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ আক্ষরিক অর্থেই বিশ্বে অন্তত ২০-৩০ মিলিয়ন শট ভ্যাকসিন দরকার। যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন করা হবে।

এর মধ্যে অন্যতম সম্ভাব্য নির্মাতা হলো ভারতের বায়োটেক ফার্ম সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এসআইআই)। ভারতের পুনেতে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠান বিশ্ব বাজারে নেতৃত্বদানকারী ভ্যাকসিন উৎপাদক।

এসআইআই অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন (ChAdOx1 nCoV-19) উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি কোভিড-১৯ এর সম্ভাব্য এ ভ্যাকসিনের প্রতিটি শটের দাম ১০০০ রুপি বা ১৩.২০ ডলার করে রাখার পরিকল্পনা করেছে।

তবে এসআইআইয়ের ডা. সাইরাস পুনেওয়ালা জানান, ভারত সরকার দেশের জনগণকে সম্ভাব্য এ ভ্যাকসিন বিনামূল্যে দেবে।

এসআইআইয়ের নির্বাহী পরিচালক সুরেশ যাদবের মতে, ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল (কয়েক হাজার মানুষকে দেওয়া ভ্যাকসিন) বা সম্মিলিত দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হলেই সংস্থাটি ভ্যাকসিন তৈরি শুরু করবে। পরীক্ষার শেষ দু’টি পর্যায় একত্রিত হলে জুনের শেষের মধ্যে ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরু করবেন তারা।

ট্রায়ালের ফলাফল যদি পরিকল্পনামাফিক হয়, তাহলে এ বছর শেষ হওয়ার আগেই ভ্যাকসিনের কয়েক মিলিয়ন ডোজ বের করার পরিকল্পনা করেছে অক্সফোর্ড। তবে এর জন্য ট্রায়ালের তৃতীয় অর্থাৎ চূড়ান্ত পর্বের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

এসআইআই পুনের পশ্চিমাঞ্জলে অবস্থিত তাদের দু’টি কারখানায় এ বছরের মধ্যে ৬০-৭০ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদনের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। আগামী বছরের মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন ডোজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

 

 

 

আপনার মতামত লিখুন :