মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর নাম পরিবর্তন করতে নারাজ ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
১০ জুন আফ্রিকান আমেরিকান সমর্থকদের সাথে বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ছবি: সংগৃহীত

১০ জুন আফ্রিকান আমেরিকান সমর্থকদের সাথে বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কনফেডারেট জেনারেলদের নামে নামকরণ করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি সামরিক ঘাঁটির নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন যে নাম পরিবর্তনের কথা তিনি বিবেচনাও করবেন না।

১০টি সেনা ঘাঁটির নতুন নামকরণের পরামর্শ প্রত্যাখ্যান করে বুধবার (১০ জুন) এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমেরিকা বীরদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এসব পবিত্র স্থানে মোতায়েন করেছিল এবং তারা দু’টি বিশ্বযুদ্ধ জিতেছেন। ফলে আমার প্রশাসন এ মহৎ এবং বিখ্যাত সামরিক ঘাঁটিগুলোর নাম পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনাও করবে না। যা আমেরিকার ইতিহাস অযাচিতভাবে বদলে দেয়।’

তিনি আরো লিখেছেন, ‘কনফেডারেট জেনারেলরা আমেরিকার ঐতিহ্য, জয়ের ইতিহাস, বিজয় এবং স্বাধীনতার অংশ হয়ে গেছেন। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে আমাদের ইতিহাস পরিবর্তিত হবে না। আমাদের সেনাবাহিনীকে শ্রদ্ধা করুন!’

দেশটির মিনেসোটার শেতাঙ্গ পুলিশের নির্যাতনে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুকে ঘিরে দেশব্যাপী চলমান বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আমেরিকার বর্ণবাদের প্রতীক ১০টি সামরিক ঘাঁটির নাম পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছিল পেন্টগন। 

অনেকের মতে, কনফেডারেসি হচ্ছে আমেরিকার দক্ষিণের ১১টি দাসপ্রথা সমর্থিত রাজ্যের জোট (পরে আলাদা হয়ে গেছে)। যার প্ররোচনায় ১৮৬১-৬৫ সালে আমেরিকায় গৃহযুদ্ধ হয়েছিল। ফলে কনফেডারেসি আমেরিকার বর্ণবাদী অতীতকেই মনে করিয়ে দেয়। 

হোয়াইট হাউস বলেছে, কংগ্রেস এ ব্যাপারে চাপাচাপি করলে ট্রাম্প বার্ষিক প্রতিরক্ষা অনুমোদনের বিলে স্বাক্ষর করবেন না।

এদিকে, পুলিশের নিপীড়নে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুকে ঘিরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনীতে আমূল সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে শুনানি শুরু করেছে কংগ্রেস।  বুধবার কংগ্রেসের ওই বিলের শুনানিতে হাজির হয়ে কংগ্রেসকে পুলিশ বাহিনীতে আমূল সংস্কারের বিল পাস করে ‘ভাই হারানোর যন্ত্রণা থামানোর’ আহ্বান জানিয়েছেন নিহত জর্জ ফ্লয়েডের ভাই ফিলোনিজ ফ্লয়েড। ফিলোনিজ ফ্লয়েড বলেন, ‘তার ভাইকে যেন নিহত কৃষ্ণাঙ্গদের তালিকায় কেবল আরেকটি নাম হতে দেওয়া না হয়। তাকে এ দেশ, এ দুনিয়ার নেতাতে পরিণত করুন।’

২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় পুলিশ অন্যায়ভাবে নিরস্ত্র জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যা করছে এমন একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। হত্যার দ্বিতীয় দিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ মিছিল। এরপর বিশ্বজুড়ে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ নামে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, ৪৬ বছর বয়সী জর্জ ফ্লয়েডকে অন্যায়ভাবে পুলিশ সদস্যরা হত্যা করে। এ সময় জর্জ ফ্লয়েড নিরস্ত্র ছিলেন। হাঁটু দিয়ে জর্জ ফ্লয়েডের গলা চেপে ধরা হয়। সে বারবার নিশ্বাস নেবার জন্য আর্তনাদ করতে থাকে এবং বাঁচার আর্জি জানায়। অন্যায়ভাবে ফ্লয়েডকে মৃত্যুর ঘটনায় কৃষ্ণাঙ্গরা বিক্ষোভ শুরু করলেও এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

বিক্ষোভটি যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। কারফিউ জারি করা হয়েছে ৪০টি শহরে।