ফরিদুল হক খান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন সন্ধ্যায়



মুফতি এনায়েতুল্লাহ, বিভাগীয় প্রধান, ইসলাম, বার্তা২৪.কম
ফরিদুল হক খান দুলাল ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন সন্ধ্যায়, ছবি: সংগৃহীত

ফরিদুল হক খান দুলাল ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন সন্ধ্যায়, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রায় ছয় মাস খালি থাকা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে নতুন মুখ। জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. ফরিদুল হক খান দুলালকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তাকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন তিনি।

শপথের বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদুল হক খান দুলাল বার্তা২৪.কমকে ‘নিশ্চিত কিছু না বলে শুধু দোয়া চান এবং বলেন যদি কোনো দায়িত্ব আসে সেটা পালনে তিনি প্রস্তুত।’

১৩ জুন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয় মন্ত্রিশূন্য রয়েছে। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন সমাজ বিনিমার্ণ, হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, ধর্মীয় উৎসব উদযাপন ও দুঃস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা সেবা, অনুদান প্রদান এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কাজগুলো করে থাকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

ফরিদুল হক খান দুলাল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জামালপুর-২ আসন (ইসলামপুর) থেকে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সদস্য। তিনি ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

ফরিদুল হক খান ১৯৫৬ সালের ২ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার উত্তর সিরাজাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মো. হবিবর রহমান খান ও মাতার নাম মোসাম্মৎ ফাতেমা খানম।

জানা গেছে, তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তিনি দশম জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

১০ নভেম্বর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পুনর্গঠিত বোর্ড অব গভর্নসের গভর্নর হিসেবে ৩ বছরের জন্য মনোনীত হন।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে আওয়ামী লীগ। এরপর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে দল আওয়ামী লীগ। ৪৬ সদস্যের ওই মন্ত্রিসভায় ২৪ মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী ও ৩ জন উপমন্ত্রী রয়েছেন।

মন্ত্রিসভা গঠনের প্রায় সাড়ে ৪ মাসের মাথায় তা পুনর্বিন্যাস করা হয়। গত বছরের ১৯ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়।

একই দিন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারকে একই মন্ত্রণালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী করা হয়। এ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী করা হয় তাজুল ইসলামকে। তাজুল ইসলামকে আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও স্বপন ভট্টচার্যকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল স্বপন ভট্টাচার্যকে। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপর কর্তৃত্ব হারান তাজুল ইসলাম।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি তিন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দফতর রদবদল করা হয়। এরমধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমকে দফতর পরিবর্তন করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরুকে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী করা হয়।

বর্তমানে মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ২৫ জন, প্রতিমন্ত্রী ১৮ জন ও উপমন্ত্রী রয়েছেন ৩ জন।