জাতির কল্যাণে আলেমদের অবদান অনস্বীকার্য: আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
হাটহাজারী মাদরাসার বার্ষিক মাহফিল ও দস্তারবন্দী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, ছবি: সংগৃহীত

হাটহাজারী মাদরাসার বার্ষিক মাহফিল ও দস্তারবন্দী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর বার্ষিক মাহফিল ও দস্তারবন্দী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১ জানুয়ারি) বাদ ফজর হাটহাজারী মাদরাসার প্রাঙ্গণে জামিয়ার মজলিসে ইদারীর প্রধান মুফতি আবদুস সালাম চাটগামীর উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয়। সম্মেলনে দেশের বিশিষ্ট আলেমগণ বক্তব্য রাখেন। বাদ এশা দাওরায়ে হাদিস উত্তীর্ণ দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে পাগড়ী প্রদান করা হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে দেশ ও জাতির উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ নসিহত পেশ করেন জামিয়ার শায়খুল হাদিস ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

প্রধান আলোচক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী তার বক্তব্যে বলেন, মানবতার মুক্তির দূত হজরত মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্ববাসীর জন্য শান্তির বার্তাবাহক হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন। নবুওয়ত প্রাপ্তির পর ইলমে অহির মাধ্যমে বর্বরতার যুগের নিকৃষ্ট মানুষগুলোকে সোনার মানুষে পরিণত করেছিলেন। তাদের অন্ধকারাচ্ছন্ন আত্মাগুলোকে নির্মল ও পরিশুদ্ধ করেছিলেন। বর্বরতার যুগের সেই মানুষগুলোকে সরল সঠিক পথ সিরাতে মুস্তাকিমের ওপর ফিরিয়ে আনার জন্য মক্কায় দারে আরকম এবং মদিনায় সুফফার মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রচলিত কওমি মাদরাসাসমূহ সেই দারে আরকাম আর সুফফা মাদরাসার শাখা। কওমি মাদরাসাসমূহ মুসলিম উম্মাহর ঈমান আকিদা সংরক্ষণের মজবুত দূর্গ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কওমি মাদরাসাগুলো দেশ ও জাতির বিশাল খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে। মুসলিম উম্মাহর ঈমান-আক্বিদা রক্ষা ও দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের সংরক্ষণে কওমি মাদরাসা ও উলামায়ে কেরামের অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে ও থাকবে।

হাটহাজারী মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলে উপস্থিত শ্রোতার একাংশ, ছবি: সংগৃহীত

সূরা জুমুআর ২ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, পবিত্র কোরআনে নবী-রাসূলদের (আ.) মৌলিক চারটি কাজের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা এ প্রসঙ্গে ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদেরকে তার আয়াতগুলো পড়ে শোনান, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন। অথচ এর আগে তারা সুস্পষ্ট গোমরাহিতে নিমজ্জিত ছিল।’ নবীগণের এ কাজ চলমান থাকবে। আমাদের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অবর্তমানে এ কাজ সম্পাদন করবেন হক্কানী উলামায়ে কেরাম।

মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন, আল্লামা আবদুল হালিম বোখারী, হজরত মাওলানা আল্লামা শেখ আহমদ, মাওলানা ইয়াহইয়া, মাওলানা সালাহ উদ্দীন, মাওলানা নূরুল ইসলাম, হযরত মাওলানা নোমান ফয়জী, মুফতি জসীম উদ্দীন, মুফতি কিফায়াতুল্লাহ, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, মাওলানা সাজেদুর রহমান, মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা লোকমান, মাওলানা খোবাইব, মুফতি হাবীবুর রহমান, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা আব্দুল বাসেত খান সিরাজী, মাওলানা সাআদাত, মাওলানা নূরুল আবছার, মাওলানা আজীজুল হক আল-মাদানী ও মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী।