ফিলিস্তিনি পশুপ্রেমী গাসসানের মৃত্যু, কষ্টে আছে আল আকসার পশু-পাখিরাও



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
আল আকসা প্রাঙ্গণে গাসসান ইউনুস আবু আইমান, ছবি: সংগৃহীত

আল আকসা প্রাঙ্গণে গাসসান ইউনুস আবু আইমান, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ফিলিস্তিনের হাইফা জেলার আরা গ্রামটি জেরুজালেম থেকে এক শ’ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পথের এই দূরত্বকে অতিক্রম করে ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ প্রতিদিন আল আকসা মসজিদে উপস্থিত হতেন সেখানকার বিড়াল ও শশু-পাখিদের খাওয়াতে।

গাসসান ইউনুস আবু আইমান। প্রায় তিন দশক আল আকসা মসজিদের আঙিনায় জমা হওয়া বিড়াল ও পাখিদের তিনি এভাবেই খাইয়ে আসছিলেন। এ জন্য প্রতিদিন নিজের বাড়ি থেকে এক শ’ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে জেরুজালেমের আল আকসায় আসতেন। কখনও তিনি নিজে যেতে না পারলে, বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের পাঠাতেন আল আকসার আঙিনায় বিড়াল ও পাখিদের খাওয়াতে।

বিড়ালদের খাবার দিচ্ছেন গাসসান, ছবি: সংগৃহীত

আল আকসা মসজিদের বিড়ালদের খাবার দেওয়া ও যত্ন নেওয়ার কারণে তিনি জেরুজালেমের বাসিন্দাদের কাছে আল আকসার ‘আবু হুরায়রা’ (বিড়ালের বাবা) হিসেবে পরিচিতি পান।

সম্প্রতি করোনাভাইরাস সংক্রমণে ইন্তেকাল করেছেন তিনি। তার মৃত্যুতে ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা শোকাচ্ছন্ন।

কবুতরকে খাবার দিচ্ছেন গাসসান, ছবি: সংগৃহীত

গাসসান ২০১৬ সালে আল জাজিরার কাছে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, ‘আমার চলার সময় সবদিক থেকেই সব বিড়ালকে আমার কাছে আসতে দেখি। তারা আমার সঙ্গেই চলতে থাকে যতক্ষণ না আমি কুব্বাতুস সাখারার (ডোম অব রক) আঙিনায় পৌঁছাই।’

অপর এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ আমাকে এই দায়িত্বের সম্মান দিয়েছেন। বিড়ালগুলো আমাকে ভালোই চেনে এবং আমি তাদের সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ।’

জেরুজালেমের বাসিন্দা ও অন্য ফিলিস্তিনিরাও গাসসানের মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই শোক প্রকাশ ও গাসসানের সঙ্গে তাদের স্মৃতি তুলে ধরেছেন।

বাচ্চাদের উপহার দিচ্ছেন গাসসান, ছবি: সংগৃহীত

মারওয়া হাসিন নামে একজন তার টুইট বার্তায় লিখেন, ‘কিয়ামতের দিন আল আকসার পাখি ও বিড়াল এমনকি মানুষও সাক্ষ্য দেবে আপনি কী করেছিলেন।’

আলিয়া তিমা নামে অপর একজন টুইটারে গাসসানের আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গনে শিশুদের গণনা শেখানোর এক ভিডিও প্রকাশ করেন।

রিদওয়ান ওমর নামে জেরুজালেমের বাসিন্দা অপর এক ফিলিস্তিনি গাসসানের বিভিন্ন ছবি সংযুক্ত করে একটি শোকবার্তা পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লিখেন, ‘আজকে সবাই আপনার জন্য কাঁদছে। শিশু, পাখি, পাথর, (আল আকসার) আঙিনা, সবাই। যারাই আপনাকে চিনতো, আপনাকে ভালোবাসতো।’

গাসসান ইউনুস আবু আইমান যেভাবে নিয়ম করে আল আকসা প্রাঙ্গণে খাবার দিতেন পশু-পাখিদের, সেভাবে এখনও কেউ খাবার দেওয়া শুরু করেননি। অবশ্য দর্শনার্থী কিংবা নামাজিরা প্রায়ই খাবার নিয়ে আসেন।