নেদারল্যান্ডস পার্লামেন্টে প্রথম হিজাবি নারী এমপি



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
কৌথার বাউচলখাট, ছবি: সংগৃহীত

কৌথার বাউচলখাট, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নেদারল্যান্ডস পশ্চিম ইউরোপের একটি দেশ। অতীতে হল্যান্ড নামে পরিচিত ছিল। নেদারল্যান্ডসের লোকেরা ‘ডাচ’ হিসেবে পরিচিত। ১২টি প্রদেশ নিয়ে গঠিত নেদারল্যান্ডসের মোট জনসংখ্যা প্রায় পৌনে দুই কোটি। বেশিরভাগ মানুষ রোমান ক্যাথলিক ধর্মমতের অনুসারী খ্রিস্টান। সংখ্যালঘুদের মধ্যে রয়েছে মুসলমান, বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী। নেদারল্যান্ডসে মুসলমানদের সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ। বেশিরভাগই সুন্নি মুসলিম, তবে অল্পসংখ্যক শিয়া ও কাদিয়ানি রয়েছে। নেদারল্যান্ডসে ইসলাম দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্ম।

২০১০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী পুরো নেদারল্যান্ডসে ৫৫৩টি মসজিদ রয়েছে। সরকার অনুমোদিত বেশ কিছু মাদরাসা, প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় মুসলমানরা পরিচালনা করেন। সেখানে সরকারি পাঠক্রমের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করা হয়। রাজনীতিতে মুসলমানরা বেশ সক্রিয়। ১৫০ সদস্যবিশিষ্ট পার্লামেন্টে সব সময় মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব থাকে।

এরই ধারাবাজিকতায় নেদারল্যান্ডস পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো একজন হিজাবি মুসলিম নির্বাচিত হয়েছেন। ২১ মার্চ নেদারল্যান্ডসের জলবায়ু কর্মী কৌথার বাউচলখাটকে পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।

টুইটারের এক পোস্টে বাউচলখাট জানান, ‘সব বাধার পর আমরা বিজয়ী। সবার প্রতি ধন্যবাদ। সবার সঙ্গে মিলে ঘৃণাকে জয় করে সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আশা করি।’

২৭ বছর বয়সী বাউচলখাট মরক্কান বংশোদ্ভূত একজন জলবায়ুকর্মী। নেদারল্যান্ডসের গ্রোয়িন লিংকস পার্টি থেকে তিনি পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করবেন। অবশ্য নির্বাচনের আগে, বাউচলখাটের বিরুদ্ধে ডানপন্থী দলের সদস্যরা ঘৃণা ও বৈষম্যমূলক প্রচারণা চালিয়েছে। নির্বাচনে তার দলের পরাজয়ের পরও বাউচলখাটের বিজয়কে তার ব্যক্তিত্বের বিজয় বলে উল্লেখ করেছেন।

গত ডিসেম্বরে এক খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করে যুক্তরাজ্যের শতাধিক রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বাউচলখাটের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং বর্ণবাদ ও ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে নিন্দা জানান।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, কৌথার বাউচলখাট নির্বাচনে ১৯ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। জলবায়ু বিষয়ক সচেতনতা ও কর্মতৎপরতা স্থানীয়দের আস্থা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেন তিনি।

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর স্থানীয় এক সাংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাউচলখাট বলেন, ‘নেদারল্যান্ডসের অনেকে আমার ধর্মকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে নেতিবাচকভাবে সম্পৃক্ত করতে চান। তা ছাড়া আমার মতো মুসলিমকে জলবায়ু বিষয়ক কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত দেখে বেশ অবাক হন। আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে পৃথিবী দান করেছেন। পৃথিবীকে বসবাসযোগ্য রাখা আমাদের সবার কর্তব্য।’

ফিলিস্তিনের সমর্থনে সক্রিয়তার কারণে ডাচ্ সংবাদমাধ্যমে বাউচলখাটকে সেমিটিজমবিরোধী বলে অভিযুক্ত করা হয়। আটরেচট ডাটা স্কুল এবং ডি গ্রোইন আমস্টারডামের ম্যাগাজিনের গবেষণামতে ৩০ ভাগের বেশি টুইট বার্তায় তার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো হয়েছে।

-এবাউট ইসলাম ডটকম অবলম্বনে