শাওয়ালের ছয় রোজা



আবুল খায়ের মোহাম্মদ, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

রোজার আবহে রমজান মাস পালনের পর পরই শাওয়াল মাসের ছয় রোজা মুসলমানদের জন্য খুবই বরকতময় একটি আমল। অশেষ সাওয়াব আর কল্যাণ নিহিত রয়েছে শাওয়ালের ছয় রোজায়।

রমজানের পরের মাস হলো হিজরি সনের দশম মাস শাওয়াল। এ মাসের প্রথম দিনে মুসলিম উম্মার সর্ববৃহৎ জাতীয় উৎসব, ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। বস্তুতপক্ষে, উৎসব আনন্দে মুসলমানগণ যাতে রমজানের কৃচ্ছ্রব্রত ও রোজার মহৎ শিক্ষা বিস্মৃত না হয়, সে জন্যই রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান পরবর্তী শাওয়াল  মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখতে উম্মতকে উৎসাহিত করেছেন।

হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি রমজান মাসের সব ফরজ রোজাগুলো রাখল এবং অতঃপর শাওয়াল মাসে আরও ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারাবছর ধরেই রোজা রাখল' (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬৪)।

পুরো রমজান মাস রোজা রাখার পরে শাওয়াল মাসে আরও ছয়টি রোজা রাখলে তবেই পূর্ণ এক বছর নফল রোজা রাখার সওয়াব লাভ করা যাবে সে কথাই হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন।

বস্তুত উক্ত হাদিসে পবিত্র কোরআনেরই একটি আয়াতের ব্যাখ্যাসহ বক্তব্য উপস্থাপিত হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে কেউ কোন নেক আমল করবে তাকে তার দশ গুণ সওয়াব প্রদান করা হবে ’ (সুরা আল-আনআম: ১৬০)। সুতরাং রমজানের এক মাসের ১০ গুণ হলো দশ মাস আর শাওয়াল মাসের ছয়দিনের দশগুণ হলো ৬০ দিন অর্থাৎ দুইমাস।

হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাওয়াল মাসের ভেতর ছয় রোজা রাখার কথা বলেছেন। মাসের প্রথম দিকে, মধ্যভাগে না শেষাংশে সে কথা হাদিসে উল্লেখ নেই। আবার ছয়টি রোজা একসঙ্গে লাগাতার রাখতে হবে, না-কি বিরতি দিয়ে দিয়ে রাখতে হবে, সে কথারও কোনো উল্লেখ নেই। তাই বিজ্ঞ ফকিহ ও আলিমগণের অভিমত হল, যেহেতু শাওয়াল মাসের প্রথম দিন মুসলিম উম্মাহর জাতীয় উৎসব এবং ওই দিনে রোজা রাখা হারাম, সেহেতু ঈদুল ফিতরের দিনটি বাদ দিয়ে মাসের যে কোনো ছয়দিনে রোজা রাখলেই উল্লিখিত সওয়াব লাভ করা যাবে।