আশুরার রোজার ফজিলত



মাহমুদ আহমদ
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামের ইতিহাসে মহররম মাস একটি সম্মানিত মাস ও দোয়ার মাস। এ মাসের ৯, ১০ অথবা ১০, ১১ তারিখে ২টি রোজা রাখা উত্তম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় থাকতেও আশুরার রোজা পালন করতেন। হিজরতের পর মদিনায় এসেও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখতে পেলেন, ইয়াহুদিরা এই দিনে রোজা রাখছে। মহানবী (সা.) রোজা রাখার কারণ জানলেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে বললেন, ‘মুসা আলাইহিস সালামের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ইয়াহুদিদের চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ ও অগ্রগণ্য। সুতরাং তোমরাও আশুরায় রোজা রাখ। তবে তাদের অনুকরণ বা সাদৃশ্য যেন না হয় সে জন্য তিনি আগের কিংবা পরের ১ দিন রোজা পালনের কথাও বলেছেন।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে হজরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রোজা রাখার জন্য এত অধিক আগ্রহী হতে দেখিনি যত দেখেছি এই আশুরার দিন এবং রমজান মাসের রোজার প্রতি।’ (বোখারি)

হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি একবার রাসুল (সা. )-এর দরবারে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমরা রমজানের পর সবচেয়ে বেশি রোজা রাখব কোন মাসে? তিনি বলেন, তোমরা যদি রমজানের পর কোনো মাসে রোজা রাখতে চাও, তাহলে মহররম মাসে রাখো। কেননা এটি আল্লাহর মাস। এই মাসে এমন একটি দিন আছে, যেদিন আল্লাহ আগের এক জাতির তাওবা কবুল করেছেন এবং পরবর্তীদের তাওবাও কবুল করবেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৭৪০; ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৪২)

অপর এক হাদিসে এসেছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রমজানের রোজার পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো মহররম মাসের রোজা।’ (মুসলিম)

১০ মহররমকে কেন্দ্র করে অতিরঞ্জিত কিছু না করে আমরা চেষ্টা করব হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) সত্য প্রচারের যে আদর্শ রেখে গেছেন তা যেন আমরা সব সময় আঁকড়ে ধরে রাখতে পারি আর এর জন্য আমাদেরকে প্রাণপন চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

তাই আমরা চেষ্টা করব এ মাস ইবাদত-বন্দেগিতে রত থেকে অতিবাহিত করা। আমরা যেন এমন কিছু না করি যা আমাদেরকে ইসলাম অনুমতি দেয় না। যেমন কান্নাকাটি করা, মাতম-মর্সিয়া করা, শরীরের রক্ত বের করা ইত্যাদি থেকে আমরা বিরত থাকব।

আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা অনুসরণ করে জীবন পরিচালনার তৌফিক দিন, আমিন।

লেখক: ইসলামী গবেষক কলামিস্ট, ই-মেইল- [email protected]