সুখি পরিবারের বড়ই প্রয়োজন



মাহমুদ আহমদ, অতিথি লেখক, ইসলাম
বিবাহবহির্ভূত অবৈধ সম্পর্ক থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হলে ইসলামি শিক্ষার ওপর আমল করার বিকল্প নেই

বিবাহবহির্ভূত অবৈধ সম্পর্ক থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হলে ইসলামি শিক্ষার ওপর আমল করার বিকল্প নেই

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রতিটি মানুষ তার পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করবে- এটাই ইসলামের শিক্ষা। একটি সুখি-সমৃদ্ধ পরিবারের যাত্রা শুরু হয় বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে। কিন্তু বর্তমান পারিবারিক অশান্তি বেড়েই চলেছে আর প্রতিনিয়ত ভেঙে যাচ্ছে সুখের সংসার। আমরা দেখতে পাই, বর্তমানে অনেক পরিবারই ধ্বংস হচ্ছে কেবলমাত্র পরকীয়ার জেরে। বিবাহবহির্ভূত এমন অবৈধ সম্পর্কের কারণে সংসারে অশান্তি-ভাঙন এমনকি জঘন্য হত্যাকান্ডের মতো ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। পরকীয়ায় এমনভাবে আশক্ত হচ্ছে যে গর্ভধারী মা তার নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করতেও দ্বিধা করছে না।
বিবাহবহির্ভূত অবৈধ সম্পর্ক থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হলে ইসলামি শিক্ষার ওপর আমল করার বিকল্প নেই। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে নারীদের উদ্দেশ্য করে ঘোষণা করেছেন, ‘(হে রাসুল! আপনি) ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। সাধারণতঃ প্রকাশমান ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বুকের ওপরে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, বাবা, শ্বশুর, ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, স্ত্রীলোক অধিকারভূক্ত বাদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও এমন বালক-যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতিত অন্য কারো সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। এমনকি তারা যেন তাদের গোপন সাজসজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা কর; যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’ -সুরা নুর : ৩১

কোরআনে কারিমে আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সঙ্গে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না। যার ফলে সে ব্যক্তির কুবাসনা সৃষ্টি হয়, যার অন্তরে আসক্তি আছে। তোমরা উত্তম (সংযত) কথাবার্তা বলো।’ -সুরা আহজাব : ৩২

পুরুষদের উদ্দেশ্য করে আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘(হে রাসুল! আপনি) মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা রয়েছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহতায়ালা সে ব্যাপারে খবর রাখেন।’ -সুরা নুর : ৩০

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা সেই মহিলাদের নিকট গমন করো না যাদের স্বামীরা বিদেশে আছে। কারণ, শয়তান তোমাদের রক্তশিরায় প্রবাহিত হয়।’ -তিরমিজি

নবী কারিম (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের কেউ যেন কোনো (বেগানা) নারীর সঙ্গে নির্জনে না বসে। কেননা শয়তান তাদের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে যায়। (সে তাদের কুমন্ত্রণা দেয়)।’ -তিরমিজি

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো- স্বামীর জন্য স্ত্রী এবং স্ত্রীর জন্য স্বামী। তারা উভয়ে সুন্দর, সুখের নীড় এবং সভ্যতা নির্মাণে ভূমিকা রাখেন। পারিবারিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক হবে শ্রদ্ধাশীল, অনুগত ও ভালোবাসাপূর্ণ। পারস্পরিক প্রেম-ভালোবাসা বিশ্বাস পারিবারিক বন্ধনকে অটুট রাখে এবং পারস্পারিক অনাস্থা, সন্দেহ-সংশয়, অবিশ্বাস, আনুগত্যহীনতা সর্বোপরি অবাধ স্বাধীনতা পরিবার ব্যবস্থা ধ্বংস করে।

হজরত সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুখ ও লজ্জাস্থানের হেফাজতের জামিনদার হবে আমি তার বেহেশতের জামিনদার হবো।’ –সহিহ বোখারি

সন্তানকে সুন্দর করে গড়তে বাবা-মায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ আর সন্তান যদি পারিবারিক অশান্তির মধ্যে বড় হয়, এটি তার মনের ওপর ভীষণ চাপ ফেলে। এর প্রভাব পড়ে তার পরবর্তী জীবনেও। শিশুদের বিকাশের জন্য সুন্দর পারিবারিক পরিবেশ জরুরি।

আমরা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে চাই তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই অবৈধ সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্তুতির মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও অবৈধ প্রেম ভালোবাসা ত্যাগ করে প্রকৃত ইসলামের শিক্ষার ওপর থেকে জীবন পরিচালনার চেষ্টা করি।

মহররম মাসে বরকতময় আশুরার রোজা



আবুল খায়ের মোহাম্মদ, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
মুহররম মাসের বরকতময় আশুরা। সংগৃহীত

মুহররম মাসের বরকতময় আশুরা। সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

 

শুরু হয়ে গেছে মহিমান্বিত মহররম মাস। যে মাসে ১০ তারিখ আশুরা দিবসের রোজা অত্যন্ত বরকতময়।

সকল মুসলমানই জানেন যে, হিজরি সনের প্রথম মাসের নাম মহররম। ইসলামের দৃষ্টিতে মহররম একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ মাস। অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রহস্যময় তাৎপর্য নিহিত আছে এ মাস ঘিরে।

মহররম মাসের ১০ তারিখ পৃথিবীর ইতিহাসে এবং মুসলিম সভ্যতায় বহু তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। যার মধ্যে সর্বাপেক্ষা আলোড়িত ও আলোচিত বিষয় হলো কারবালার মর্মান্তিক ইতিহাস। এছাড়াও আশুরার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ও স্মরণীয় ঘটনার শীর্ষে স্থান পায় মুসা (আ.)-এর একটি ঘটনা। এই দিনে তিনি অত্যাচারী শাসক ফিরাউনের কবল থেকে তাঁর জনগোষ্ঠীকে আল্লাহর অশেষ রহমতে রক্ষা করেছিলেন।

ইমাম বুখারি (রহ.) তাঁর প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থে সাহাবি হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, 'মহানবী (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় পৌঁছে সেখানে ইহুদিদের আশুরার দিনে রোজা পালন করতে দেখেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের জিজ্ঞেস করেন, এই দিনে কী ঘটেছে যে তোমরা এতে রোজা পালন করো?

তারা বলে, এই দিনটি অনেক বড় দিন, এই দিনে আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও তাঁর সঙ্গীদের ফিরাউন থেকে মুক্ত করেছিলেন এবং ফিরাউন ও তার বাহিনীকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। এর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মুসা নবী রোজা রাখতেন, তাই আমরাও আশুরার রোজা পালন করে থাকি।

ইহুদিদের জবাব শুনে রাসুলে করিম (সা.) বলেন, মুসা (আ.)-এর কৃতজ্ঞতার অনুসরণে আমরা তাদের চেয়ে বেশি যত্নশীল হওয়ার অধিকারী। অতঃপর তিনি নিজেও আশুরার রোজা রাখেন এবং মুসলমানদের তা পালন করতে নির্দেশ প্রদান করেন।' (বুখারি, হাদিস : ৩৩৯৭, মুসলিম, হাদিস : ১১৩৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই রোজা নিজে পালন করেছেন এবং উম্মতকে রাখার প্রতি নির্দেশ করেছেন, তাই তাঁর অনুসরণ করা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া অসংখ্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজার ফজিলত বর্ণনা করেছেন। কয়েকটি হাদিস নিম্নে উপস্থান করা হলো:

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, 'রমজান মাসের রোজার পর সর্বোত্তম রোজা মহররম মাসে আশুরার রোজা।' (সুনানে কুবরা, হাদিস : ৮৪২১০)

আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এই রোজা বিগত বছরের গুনাহ মুছে দেয়। (মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)

মুসলিম শরিফে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) যখন আশুরার দিনে রোজা রাখেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ প্রদান করেন, তখন সাহাবিরা অবাক হয়ে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, বিধর্মীরা তো এই দিনটিকে বড় দিন মনে করে। এই দিনে তারাও রোজা পালন করে। আমরা যদি এই দিনে রোজা রাখি তাহলে তো এদের সঙ্গে সামঞ্জস্য হবে। তাদের প্রশ্নের জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন (তারা যেহেতু এদিন একটি রোজা পালন করে), আগত বছর ১০ তারিখের সঙ্গে ৯ তারিখ মিলিয়ে দুই দিন রোজা পালন করব, ইনশাআল্লাহ। (মুসলিম, হাদিস : ১১৩৪)

অন্য বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, 'তোমরা আশুরার দিনে রোজা রাখো, তবে এ ক্ষেত্রে ইহুদিদের সঙ্গে মিল না হওয়ার জন্য ১০ তারিখের আগের দিন অথবা পরের দিন আরো একটি রোজা রেখে নিয়ো।' (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২১৫৪)

সহিহ হাদিসগুলোর আলোকে প্রমাণিত হয় যে আশুরার রোজা হবে দুটি—মহররমের ১০ তারিখ একটি, আর ৯ তারিখ অথবা ১১ তারিখ আরো একটি।

প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর কর্তব্য হলো মুহররম মাসে আশুরার দুটি রোজা পালন করা, আল্লাহতায়ার ইবাদত, বন্দেগি, জিকিরে সবিশেষ মনোযোগী ও মশগুল হওয়া এবং পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিবার-পরিজন, আহলে বাইত, সাহাবিদের প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করা।

;

পবিত্র আশুরা ৯ আগস্ট



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
পবিত্র আশুরা ৯ আগস্ট

পবিত্র আশুরা ৯ আগস্ট

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের আকাশে আজ পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে রোববার (৩১ জুলাই) থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা শুরু হবে। সে অনুযায়ী আগামী ৯ আগস্ট (মঙ্গলবার) সারা দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. আ. আউয়াল হাওলাদারের সভাপতিত্বে এ সভা হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়নি।

শনিবার পবিত্র মহররম মাস পূর্ণ হবে। এ অবস্থায় আগামী রোববার থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা শুরু হবে। সে পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১০ মহররম, ৯ আগস্ট ২০২২ খ্রি. (মঙ্গলবার) পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

হিজরি মহররম মাসের ১০ তারিখ আশুরায় বাংলাদেশে সরকারি ছুটি থাকে। এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে শহীদ হন। সেই থেকে মুসলিম বিশ্বে কারবালার শোকাবহ ঘটনাকে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে পালন করা হয়।

;

৩১ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে শাহাদাত এ কারবালা মাহফিল



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
৩১ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে শাহাদাত এ কারবালা মাহফিল

৩১ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে শাহাদাত এ কারবালা মাহফিল

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রতি বছরের মত এ বছরও আহলে বায়তে রাসুল (সা.) স্মরণে ১০ দিন ব্যাপী ৩৭তম আন্তর্জাতিক শাহাদাত-এ কারবালা মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে বাগদাদ শরীফ, মিশর, মালয়েশিয়া, ভারত, শ্রীলংকাসহ বাংলাদেশের পীর মাশায়েখ, সাংসদ ও মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন।

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দুপুরে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পরিষদ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সমাজসেবায় একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিল্পপতি সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিশোধ নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসাই হলো নবী পরিবারের বৈশিষ্ট্য। কারাবালা যুদ্ধে নিজেদের জীবন দিয়ে ভালোবাসার সেই নজির রেখে গেছেন আহলে বাইতে রাসূল। খতীবে বাঙাল মাওলানা মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন আলকাদেরী ১৯৮৬ সালে জমিয়াতুল ফালাহ কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই হিজরি নববর্ষ, মাহে মহররম ও আহলে বাইতে রাসূলের স্মরণে ১০ দিনব্যাপী শাহাদাতে কারবালা মাহফিল করে আসছিলেন। এ বছরও যথারীতি ৩৭তম আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান বলেন, শাহাদাতে কারবালা মাহফিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে মূলত আহলে বাইতে রাসূলের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাই প্রদর্শন করেন ইমানি চেতনায় উদ্দীপ্ত আহলে বাইতপ্রেমী মুসলমানরা। তাই আহলে বাইতে রাসূলের আত্মত্যাগের ঘটনা মুসলমানদের মাঝে সতেজ রাখা ইমানি দায়িত্ব। দ্বীন ও সত্যের প্রতি সবাইকে উদ্দীপ্ত ও উজ্জীবিত রাখতে শাহাদাতে কারবালা মাহফিল আয়োজন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এতে অংশগ্রহণ ইমানি দায়িত্ব।

এবারের শাহাদাতে কারবালা মাহফিলে দেশ ও বিদেশের উলামা-মাশায়েখ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, ইসলামী চিন্তাবিদ রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, মন্ত্রী, সরকারি বেসকারি পদস্থ ব্যক্তিরা অতিথি ও আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন।

ইরাকের বাগদাদ শরীফের বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রা.) আওলাদ আশ্-শাইখ আস্-সৈয়দ আল্লামা আফিফুদ্দীন আল্ জিলানী আল বোগদাদী, ভারতের কাসওয়াসা দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন কায়েদে মিল্লাত হযরত শাহ সূফী সৈয়দ মাহমুদ আশরাফ আশরাফী আল জিলানী, ফখরুল মাশায়িখ হযরতুল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ আশরাফ আশরাফি আল জিলানী, তাজুল উলামা হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ নূরানী মিয়া হাশেমী, শ্রীলংকার আল্লামা মুহামম্মদ ইহসান ইকবাল কাদেরী ও খতীবে লা-সানী মাওলান আকবর ইহসানী প্রমুখ মাহফিলে উপস্থিত থাকবেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আঞ্জুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মহসিন, সেক্রেটারি জেনারেল আনোয়ার হোসেন, গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান পেয়ার মোহাম্মদ কমিশনার, পিএইচপি ফ্যামিলির পরিচালক ও মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের প্রধান সমন্বয়ক আলী হোসেন সোহাগ, শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পরিষদের সহসভাপতি খোরশেদুর রহমান, সিরাজুল মোস্তফা, সফিউল আজম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. জাফর উল্লাহ, মো. দিলশাদ আহমেদ, মো. সাইফুদ্দিন, মো. ছগীর চৌধুরী, অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন, জাফর আহমদ সওদাগর, আলমগীর পারভেজ, মাহবুবুল আলম, মনছুর শিকদার, আবদুল হাই মাসুম প্রমুখ।

৬১ হিজরির ১০ মহররম কারবালা ময়দানে ইয়াযিদ বাহিনীর হাতে নৃশংসভাবে শহীদ হন প্রিয় নবী পরিবারের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)-সহ আহলে বায়তের নিষ্পাপ সদস্যরা। ইয়াযিদি বর্বরতা থেকে সেদিন নারী-শিশুও বাদ যায়নি। পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম মর্মন্তুদ কারবালার ঘটনা স্মরণে মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটে। নবীপ্রেমী ও আহলে বাইতে রাসূলের প্রতি যারা ভালোবাসা হৃদয়ে ধারণ ও লালন করেন তাদের জন্য মহররম মাস তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্ববহ। হযরত ইমাম হোসাইনের নেতৃত্বে আহলে বায়তে রাসূল সদস্যরা সেদিন ইয়াযিদি শক্তির কাছে মাথা নত না করে, ইসলামের ন্যায়, সত্য ও ইনসাফের ঝাণ্ডাকে উড্ডীন করেছেন। কারবালার ময়দানে নবী পরিবারের তুলনাহীন আত্মত্যাগ ও কোরবানির মধ্য দিয়ে ইসলামের ভিত্তি মজবুত হয়েছে। দ্বীন ইসলামের পুনরুজ্জীবন ঘটে কারবালার হৃদয়ভেদী ঘটনার মধ্য দিয়ে।

কঠিন মুসিবত সত্ত্বেও হযরত ইমাম হোসাইনের (রা.) দ্বীন ও হকের ওপর অবিচল থাকার নজীর মুসলমানদেরকে সত্যের পথে উৎসর্গীত হওয়ার প্রেরণা জোগায়। কারবালার এ প্রেরণা ইসলামের পুনর্জাগরণে এবং মুসলমানদের আত্মমর্যাদা ও আত্মশক্তি নিয়ে উন্নত শিরে বেঁচে থাকতে উৎসাহিত করে।

;

বিমানের প্রথম ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফিরলেন ৪১৬ হাজি



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিমানের প্রথম ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফিরলেন ৪১৬ হাজি

বিমানের প্রথম ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফিরলেন ৪১৬ হাজি

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র হজ পালন শেষে হাজিগণ দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর চলতি মৌসুমের প্রথম ডেডিকেটেড ফিরতি হজ ফ্লাইট বিজি ৩৫০২ এর মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৪১৬ জন হাজি। ফ্লাইটটি ১৪ জুলাই জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় দুপুর ১২:১৫ টায় যাত্রা করে ঢাকার স্থানীয় সময় রাত ১০:২৫ টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

এসময় বিমানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও, বিমানের পরিচালক গ্রাহক সেবা, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর চেয়ারম্যান, শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালকসহ বিমানের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে হাজিগণকে স্বাগত জানান। 

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর তত্ত্বাবধানে হাজিগণকে জমজমের পানি সরবরাহ করা হয়। সুষ্ঠুভাবে পবিত্র ভূমিতে গমন ও পবিত্র হজ পালন সম্পন্নের পর নিরাপদে দেশে ফিরে হাজিগণ বিমানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ধন্যবাদ জানান। এবছর বিমানসহ সৌদিয়া ও ফ্লাইনাস-এর মাধ্যমে দেশে আগত হাজিগণ-কে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর তত্ত্বাবধানে জমজমের পানি সরবরাহ করা হবে। 

উল্লেখ্য, বিমান লীজ ব্যতীত নিজস্ব ০৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর উড়োজাহাজ দিয়ে হজ ফ্লাইটের পাশাপাশি সৌদি আরবে নিয়মিত শিডিউল ফ্লাইট পরিচালনা করছে। গত ০৫ জুন থেকে ০৩ জুলাই পর্যন্ত বিমান প্রি-হজে ৬৭টি ডেডিকেটেড ফ্লাইট ও ২০টি শিডিউল ফ্লাইটসহ সর্বমোট ৮৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। পোস্ট হজে বিমানের সর্বমোট ৮০টি ফ্লাইটের শিডিউল রয়েছে। উক্ত শিডিউল অনুযায়ী আগামী ০৬ আগস্ট বিমানের পোস্ট হজ ফ্লাইট সমাপ্ত হবে।

;