শায়খুল হাদিস ও তার দলের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা নেই

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
শীর্ষ আলেমদের সাংবাদিক সম্মেলন, ছবি: বার্তা২৪.কম

শীর্ষ আলেমদের সাংবাদিক সম্মেলন, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সহিহ হাদিসের কিতাব বোখারি শরিফের প্রথম বঙ্গানুবাদক, শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহমাতুল্লাহি আলাইহির বিরুদ্ধে বেসরকারি টেলিভিশন যমুনা টিভিতে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে দেশের শীর্ষ আলেমরা সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেশের শীর্ষ আলেমরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের পক্ষে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। বক্তব্যে বলা হয়, রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক কিংবা অন্য যেকোনো জায়গা থেকে আজ অবধি আল্লামা আজিজুল হক (রহ.) কিংবা তার দলের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার ন্যূনতম কোনো অভিযোগ ওঠেনি। আল্লামা আজিজুল হকের বিরুদ্ধে যমুনা টিভির এহেন মনগড়া অপপ্রচার দেশবাসীর মনে তীব্র ক্ষোভ, ঘৃণা, নিন্দা ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘সর্বজন শ্রদ্ধেয় শায়খুল হাদিসকে জঙ্গিনেতা আখ্যা দিয়ে মিথ্যা বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রচারের জন্য যমুনা টিভিকে অবশ্যই নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। প্রতিবেদক, নিউজরুম এডিটর, সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকসহ এই মিথ্যা প্রতিবেদনের প্রচার ও সম্পাদনা কাজে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শায়য়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.) এদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ও সম্মানীত একটি নাম। একজন প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ও বুজুর্গ আলেমেদ্বীন হিসেবে তিনি পরিচিত। অর্ধশতাব্দীরও অধিককাল তিনি বোখারি শরিফের অধ্যাপনা করেছেন, বাংলা ভাষায় তিনিই প্রথম বোখারি শরিফের ব্যাখ্যাসহ পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেছেন। স্কলার হিসেবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে অধ্যাপনা করেছেন। জাতীয় ঈদগাহের খতিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদেশের রাজনীতি ও ইসলামি আন্দোলনের ময়দানে শাইখুল হাদিস (রহ.)-এর ভূমিকা ও অবদান অসামান্য। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি, খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র-নায়েবে আমিরের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সালের ৮ ডিসেম্বর উলামায়ে কেরাম ও দ্বীনদার বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ১৯৯১ সালে সমমনা ইসলামি কয়েকটি দল নিয়ে ইসলামি ঐক্যজোট গঠন করেন এবং এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তার দল ও জোট একাধিকবার জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের উগ্র হিন্দু কর্তৃক বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হলে এর প্রতিবাদে শাইখুল হাদিস মিছিল, মিটিং ও আন্দোলনে সক্রিয় হন। ১৯৯৩ সালের ২-৪ জানুয়ারি বাবরি মসজিদ পুনঃনির্মাণের উদ্দেশে ঢাকা থেকে যশোর বেনাপোল হয়ে অযোধ্যা অভিমুখে লংমার্চে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯৯ সনে তৎকালীন বিরোধীদল বিএনপিসহ চারদলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন তিনি। বর্তমান সরকার কওমি মাদরাসা শিক্ষার যে সনদ প্রদান করেছে, এই স্বীকৃতি আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন শাইখুল হাদিস। ২০০৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর কওমি সনদের স্বীকৃতিসহ ইসলামি আদর্শিক পাঁচ দফার ভিত্তিতে শাইখুল হাদিসের সঙ্গে জোট করেছিল বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

আল্লামা আজিজুল হক (রহ.) আমৃত্য বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস করেছেন। দলটি নির্বাচন কমিশনের একটি নিবন্ধিত ইসলামি দল, যার নিবন্ধন নম্বর ৩৩।

রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক কিংবা অন্য যেকোনো জায়গা থেকে আজ অবধি আল্লামা আজিজুল হক (রহ.) কিংবা তার দলের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার ন্যূনতম কোনো অভিযোগ ওঠেনি। এমন একজন জাতীয় নেতাকে হুজির (হরকাতুল জিহাদ) প্রতিষ্ঠাতা পরিচয় দিয়ে গত ২৬ নভেম্বর সংবাদ প্রচার করে যমুনা টিভি। এর প্রতিবাদে দেশের শীর্ষ ইসলামি নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানানো ও বিচার দাবি করা হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী (মহাসচিব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ), মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী (আমির, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন), মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, (চেয়ারম্যান, ইসলামি ঐক্যজোট), মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী (আমির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফি (সহ-সভাপতি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ), মাওলানা নূরুল ইসলাম (সহ-সভাপতি, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া), মাওলানা আব্দুল হালিম পীর সাহেব মধুপুর, মাওলানা মাহফুজুল হক (মহাসচিব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), ড. ঈসা শাহেদী (চেয়ারম্যান, ইসলামি ঐক্য আন্দোলন), মাওলানা শফিকুদ্দীন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, আবুল খায়ের (মহাসচিব, মুসলিম লীগ), মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান (যুগ্ম-মহাসচিব, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ), মাওলানা সাখাওয়াত রাজি, মাওলানা মুসা বিন ইজহার (মহাসচিব, নেজামে ইসলাম পার্টি), মাওলানা গোলাম মুহিউদ্দীন ইকরাম, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদি (নায়েবে আমির, খেলাফত আন্দোলন) ও মাওলানা গাজী ইয়াকুব (যুগ্ম-মহাসচিব ইসলামি ঐক্যজোট)।

দলীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, মাওলানা সাঈদ নূর, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা কুরবান আলী কাসেমী, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, মাওলানা এনামুল হক মুসা ও মাওলানা রুহুল আমিন খান।

আপনার মতামত লিখুন :