‘হারামাইনের দরজা সবার জন্য দ্রুত উন্মুক্ত হোক’



মুহিউদ্দীন ফারুকী, অতিথি লেখক
মানুষশূন্য কাবা চত্বর, ছবি: সংগৃহীত

মানুষশূন্য কাবা চত্বর, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে আসন্ন রমজান মাসে মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জনস্বার্থ বিবেচনায় সৌদি স্বাস্থ্য বিষয়ক যৌথ কমিটির পরামর্শে এই প্রধান দুই মসজিদে পবিত্র রমজান মাসেও সর্বসাধারণের জন্য তারাবিসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে উপস্থিতি স্থগিত থাকবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় রাত নয়টার হারামাইন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. আবদুর রহমান আস সুদাইস এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, রমজানে তারাবির জামাত সংক্ষিপ্ত আকারে দশ রাকাত আদায় করা হবে।

মক্বা-মদিনার প্রধান দুই মসজিদে ১০ রাকাত তারাবি

এছাড়া রমজানে হারামাইনে ইতিকাফ ও চিরাচরিত ইফতার বিতরণ বন্ধ থাকবে। তবে, হারামাইনের ইফতার মক্কা ও মদিনায় প্যাকেট করে বিতরণ করা হবে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত উমরা বন্ধই থাকছে।

আত্মশুদ্ধির মাস রমজান, ইবাদতের বসন্তকাল রমজান। বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে পবিত্রতম এ মাসে মুসলমানদের বিষাদময় ও নিরানন্দভাবে কাটাতে হবে। ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য বিষয়টি বেশ কষ্টকর। তাই রমজান উপলক্ষে হারামাইনের সতর্কতামূলক এসব ব্যবস্থা ও কর্মপদ্ধতি ঘোষণার পর তারাবির রাকাত সংখ্যা কমানো, ইতেকাফ ও উমরা বন্ধের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

অনেকেই বলছেন, এভাবে নামাজের রাকাত কমানো সিদ্ধান্তটি পূর্ববর্তীদের সময়ে কখনও দেখা যায়নি। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনার দাবি রাখে।

কেউ কেউ বলছেন, যেহেতু মসজিদে হারামে লোক সমাগম বন্ধ থাকবে, আর এলাকাটিও বেশ বড়, ইচ্ছা করলে স্থান বদলিয়ে এবং কিছুটা বিরতি দিয়ে হলেও তারাবি বিশ রাকাত পড়া যেতো।

অনেকে দোয়ার পরিমাণ কমানোয় আশ্চর্য প্রকাশ করেছেন। তাদের কথা হচ্ছে, এই বিপদের সময়ে আমাদের আরও বেশি বেশি করে দোয়া করা প্রয়োজন। সেখানে দোয়ার পরিমাণ কমানোর সিদ্ধান্ত সময়োচিত নয়।

অনেকে বলছেন, অন্তত কিছু মানুষকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ইতেকাফের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে রমজানের পরিবেশ এবং সুন্নতের ওপর আমল হতো। ইসলাম মতে, ইতেকাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।

শায়খ সুদাইসের সংবাদ সম্মেলনের পর অনেকেই দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এ ধরনের সংবাদ মন ভেঙে দেয়; হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়।

অনেকে অবশ্য আল্লাহতায়ালার রহমত কামনা করে দোয়া করেছেন যেন এই অবস্থা দ্রুত শেষ হয়ে যায়। আবার হারামাইনের দরোজা সবার জন্য দ্রুত উন্মুক্ত হয়।

উল্লেখ্য, মক্কা ও মদিনায় বর্তমানে ২৪ ঘন্টার কারফিউ চলমান।

এদিকে সৌদি আরবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তৌফিক আল রাবিয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, দেশটিতে বর্তমানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল অনুদান দিয়েছেন, যা করোনা মহামারি মোকাবিলায় কাজে লাগানো হবে।

সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০ এপ্রিল সৌদি আরবে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১২২ জন, মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ৪৮৪ জন, মারা গেছেন ৬ জন। এই নিয়ে দেশটিতে মৃত্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৩ জনে। অন্যদিকে সুস্থ হয়েছেন ৮৮ জন, দেশটিতে সর্বমোট সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১ হাজার ৪৯০ জন। এদের মধ্যে ২৭ ভাগ সৌদির ও ৭৩ ভাগ প্রবাসী। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৭৭ ভাগ আর নারী ২৩ ভাগ।

-সৌদি সংবাদ সংস্থা ও হারামাইন প্রসিডেন্সির ওয়েবসাইট অবলম্বনে