ঈদুল আজহা ১ আগস্ট



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদুল আজহা ১ আগস্ট, ছবি: সংগৃহীত

জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদুল আজহা ১ আগস্ট, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বছর ঘুরে আমাদের মাঝে আবারও ফিরে এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। বাংলাদেশে আগামী ১ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে। ঈদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। বাংলাদেশে ঈদুল আজহাকে কোরবানির ঈদও বলা হয়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি, ফলে ১ আগস্ট (শনিবার) পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

মঙ্গলবার বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সহ-সভাপতি মো. নূরুল ইসলাম।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দার, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব এস এম মাহফুজুল হক, ঢাকা জেলার এডিসি (সাধারণ) মো. ইলিয়াস মেহেদী, ওয়াকফ উপ-প্রশাসক মো. আবদুল কুদ্দুছ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (প্রশাসন) মুহা. নেছার উদ্দিন জুয়েল, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের পিএসও আবু মোহাম্মদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. আবদুল মান্নান, সরকারি আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. আলমগীর রহমান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান কাসেমী, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান ও লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ নেয়ামতুল্লাহসহ দেশের বিশিষ্ট আলেমগণ উপস্থিত ছিলেন। 

বৈঠকে সারাদেশ থেকে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সে হিসেবে ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার থেকে জিলহজ মাস শুরু হবে এবং ১ আগস্ট (শনিবার, ১০ জিলহজ) পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে। সভা থেকে বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) এবং আবহাওয়া অফিসের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে। কোনো সূত্র থেকেই চাঁদ দেখার খবর মেলেনি। 

মুসলমানরা হিজরি বর্ষের দ্বাদশ মাস জিলহজের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপন করেন। আল্লাহতায়ালার আদেশে হজরত ইবরাহিম (আ.) নিজ পুত্র হজরত ইসমাইলকে (আ.) আল্লাহর জন্য কোরবানি করার ইচ্ছা ও ত্যাগের কারণে সারা বিশ্বের মুসলমানেরা আল্লাহর কাছে নিজেদের সোপর্দ করে দেওয়ার লক্ষ্যে পবিত্র হজের পরদিন ঈদুল আজহা উদযাপন ও পশু কোরবানি করে থাকেন। আল্লাহতায়ালা নবী হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর আনুগত্যে সন্তুষ্ট হন এবং ছেলের পরিবর্তে তাকে পশু কোরবানি করার নির্দেশ দেন। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসরণে ঈদুল আজহার সময় মুসলমানরা পশু কোরবানি করেন।

জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে শরয়ি তরিকায় নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তির পশু জবাই করাকে কোরবানি বলা হয়। সকালে রক্তিম সূর্য ওপরে ওঠার সময়ে ‘কোরবানি’ করা হয় বলে ওই দিনটিকে ‘ইয়াওমুল আজহা’ বলা হয়ে থাকে।

এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৩১ জুলাই, ১ ও ২ আগস্ট সরকারি ছুটি থাকবে। এরমধ্যে ৩১ জুলাই ও ১ আগস্ট সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার।

করোনা পরিস্থিতির কারণে ঈদুল ফিতরের সময় গণপরিবহন বন্ধ ছিল। তবে করোনা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি না হলেও এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলছে। তাই নিয়ম মেনে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে ঈদুল আজহায় বাড়ি ফেরা যাবে।

এবার ৩০ জুলাই পবিত্র হজ এবং ৩১ জুলাই সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

ইবাদত-বন্দেগির গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মুমিনের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ

মুমিনের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ

  • Font increase
  • Font Decrease

মুমিনের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কিছু বিশেষ সময় কিংবা মুহূর্তকে মহান আল্লাহ তাদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ করেছেন। তন্মধ্যে অন্যতম সময় হলো- রাতের শেষ ভাগ। হজরত আমর ইবনে আবাসা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রাতের শেষ ভাগে মহান প্রভু আল্লাহ বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী হন। সুতরাং তুমি এই সময় আল্লাহর স্মরণ করতে পারলে তা করো।’ –সহিহ বোখরি : ১১৪৫

তা ছাড়া মহান আল্লাহ সকাল-সন্ধ্যাকেও ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে তৈরি করেছেন। পবিত্র কোরআনে হজরত দাউদ (আ.) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, ‘আমি (আল্লাহ) নিয়োজিত করেছি পর্বতকে, যাতে তারা সকাল-সন্ধ্যায় তার সঙ্গে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। এবং সমবেত বিহঙ্গকুলকেও। সবাই ছিল তার অনুগত।’ –সুরা সাদ : ১৮-১৯

বর্ণিত আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, সকাল-সন্ধ্যায় শুধু মানুষই নয়। গোটা সৃষ্টি জগৎই আল্লাহর তাসবিহে নিয়োজিত থাকে। সুতরাং এই দুটি সময়ও মুমিনের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

বান্দার দৈনিক আমলগুলো মহান আল্লাহর দরবারে দুই কিস্তিতে পেশ করা হয়। দিনের আমল দিন শেষে রাত আসার আগে। আর রাতের আমল প্রতি রাতের শেষে দিনের সূর্য উদিত হওয়ার আগে।

হজরত আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একবার হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের সামনে পাঁচটি কথা বললেন, আল্লাহ কখনও নিদ্রা যান না। নিদ্রিত হওয়া তার সাজেও না। তিনি তার ইচ্ছানুসারে তুলাদণ্ড নামান এবং উত্তোলন করেন। দিনের আগেই রাতের সব আমল তার কাছে উত্থিত করা হয় এবং রাতের আগেই দিনের সব আমল তার কাছে উত্থিত করা হয়। এবং তার পর্দা হলো নুর (বা জ্যোতি)। -সহিহ মুসলিম : ২৯৩

মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি সময় হলো, সিজদা। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সিজদারত বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী। সুতরাং সে সময় বেশি বেশি দোয়া করো।’ –সহিহ মুসলিম : ৪৮২

আজানের সময়ও মুমিনের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন মুয়াজ্জিন আজান দেয়, আসমানের দুয়ার খুলে যায় ও দোয়া কবুল হয়।’ -মাজমাউজ যাওয়ায়েদ : ১৮৮৪

আজানের পর থেকে নিয়ে ইকামতের মধ্যবর্তী সময়টিও গুরুত্বের দিক থেকে কম নয়। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময় দোয়া কবুল হয়। সুতরাং তোমরা দোয়া করো।’ –মেশকাত : ৬৭১

এ ছাড়া ইকামত, সৈন্য সমাবেশ ও বৃষ্টির সময় মহান আল্লাহ মানুষের দোয়া কবুল করেন। তাই এই মুহূর্তগুলোকেও অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা দোয়া কবুলের সুযোগ সন্ধান করো সৈন্য সমাবেশ, নামাজের ইকামত ও বৃষ্টি বর্ষণের সময়।’ -বায়হাকি

জুমার দিন বেলা ডুবার পূর্ব মুহূর্তটিও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের ১২টি মুহূর্ত। তার একটি মুহূর্ত এমন, যখন কোনো মুসলিম কিছু চাইলে আল্লাহ তা তাকে দান করেন। তোমরা আসরের পরের শেষ মুহূর্তে তা অনুসন্ধান করো।’ –সহিহ বোখারি : ৬০৩৭

এ ছাড়া ইফতারের সময়, কদরের রাতে, আরাফার ময়দানে অবস্থানের সময় ও কাবাঘরের সামনে অবস্থানের সময়টুকু বান্দার জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

 

;

নামাজে কাতার সংযুক্ত করে দাঁড়ানোর ফজিলত



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বিচ্ছিন্ন কাতারকে যুক্ত করা অনেক ফজিলতের কাজ, সওয়াবের আমল

বিচ্ছিন্ন কাতারকে যুক্ত করা অনেক ফজিলতের কাজ, সওয়াবের আমল

  • Font increase
  • Font Decrease

আমরা জানি, আল্লাহতায়ালার সামনে ফেরেশতারা গায়ে গায়ে লেগে লেগে মিলে মিলে দাঁড়ায়। তারা কাতারের মাঝে কোনো ফাঁকা রাখে না। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, অমনোযোগীতা ও অসাবধনতার কারণে আমরা কাতারের মাঝে বেশ ফাঁকা রেখেই নামাজে দাঁড়িয়ে যাই; ফলে কাতার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ বিচ্ছিন্ন কাতারকে যুক্ত করা অনেক ফজিলতের কাজ, সওয়াবের আমল।

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি (বিচ্ছিন্ন) কাতারকে যুক্ত করবে আল্লাহতায়ালা তাকে (তার রহমতের সঙ্গে) যুক্ত করবেন। আর যে কাতারকে বিচ্ছিন্ন করবে আল্লাহ তাকে (তার রহমত থেকে) বিচ্ছিন্ন করবেন।’ -সুনানে আবু দাউদ : ৬৬৬

বিচ্ছিন্ন কাতারকে যুক্ত করার সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো, এর দ্বারা মহান আল্লাহর রহমত লাভ হয় এবং ফেরেশতাদের দোয়া-ইস্তেগফার লাভ হয়।

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যারা (বিচ্ছিন্ন) কাতারকে যুক্ত করে আল্লাহতায়ালা তাদের ওপর রহমত নাজিল করেন এবং তার ফেরেশতারা তাদের জন্য দোয়া-ইস্তেগফার করে। আর যে কাতারের ফাঁকা জায়গা পূরণ করে আল্লাহ তাদের মর্যাদা সমুন্নত করেন।’ -সুনানে ইবনে মাজাহ : ৯৯৫

কাতারের ডান দিকে দাঁড়ানো
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম সব বিষয়ে ডান দিক পছন্দ করতেন। কাতারের ক্ষেত্রেও একই কথা। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) যখন নবীজীর পেছনে নামাজ পড়তেন তখন কাতারের ডান দিকে দাঁড়াতে চেষ্টা করতেন। হজরত বারা ইবনে আযেব (রা.) বলেন, ‘আমরা যখন হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে নামাজ পড়তাম তার ডানে দাঁড়ানো পছন্দ করতাম।’ -সুনানে আবু দাউদ : ৬১৫

হাদিস শরিফে কাতারের ডান দিকে দাঁড়ানোর বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যারা কাতারের ডান দিকে দাঁড়ায় আল্লাহতায়ালা তাদের ওপর রহমত নাজিল করেন এবং তার ফেরেশতারা তাদের জন্য দোয়া-ইস্তেগফার করে।’ -সুনানে আবু দাউদ : ৬৭৬

সুতরাং প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের স্বাভাবিকভাবেই কাতারের ডান দিকে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা দরকার। কিন্তু এর অর্থ এ নয় যে, কাতারের ডান দিকে দাঁড়ানোর জন্য সামনের কাতারের বাম দিক খালি রেখে পেছনের কাতারের ডান দিকে দাঁড়ানো হবে। বরং চেষ্টা করবে, না হলে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই নামাজে দাঁড়াবে।

;

ওয়াজ মাহফিলের উপকারিতা



মুহাম্মাদ নুরুল ইসলাম, অতিথি লেখক, ইসলাম
সুস্থ-সমাজ গঠনে ওয়াজ মাহফিলের গুরুত্ব অপরিসীম

সুস্থ-সমাজ গঠনে ওয়াজ মাহফিলের গুরুত্ব অপরিসীম

  • Font increase
  • Font Decrease

ওয়াজ মাহফিল- কৃষক, দিনমজুর থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষের জন্য সংক্ষিপ্ত পরিসরের একটি পাঠশালা। সেখানে শেখানো হয়, নামাজ কীভাবে পড়তে হয়? বলা হয়, নামাজ পড়ার ফজিলত, নামাজ না পড়ার ভয়াবহ শাস্তি। বয়ান করা হয়- দেশের প্রেক্ষাপট নিয়ে ও অবস্থা নিয়ে। সেই পাঠশালা থেকে মানুষ তার প্রয়োজনীয় ইলম (জ্ঞান) হাসিল করে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমার পক্ষ হতে একটি হাদিস হলেও মানুষের কাছে পৌঁছে দাও।’ -সুনানে তিরমিজি : ২৬৬৯

এই হাদিসের ওপর আমলের বেশি সুবিধা হয় ওয়াজ মাহফিল ও তাবলিগের মাধ্যমে। না হয় একজন একজন করে রাসুলের বাণী সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া অসম্ভব। ওয়াজ মাহফিলে মানুষের জমায়েত হয়, কৃষক, দিনমজুররাও উপস্থিত হয়, ফলে বক্তারা কথা বলতে আনন্দ পায়, মন খুলে কথা বলে। যার নিমিত্তে শ্রোতারাও আনন্দচিত্তে, খুশিমনে বক্তার নসিহত শ্রবণ ও আমল করার চেষ্টা করে।

নবী কারিম (সা.)-এর যুগেও সাহাবারা হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) কে ঘিরে বসে নসিহত শ্রবণ করত। যুগে যুগে এভাবে হয়ে আমাদের পর্যন্ত এসেছে। আয়োজনের ক্ষেত্রে ভিন্নতা ঘটেছে তবে কথা কোরআন ও হাদিসেরই। তখন খোলা আকাশের নীচে, গাছের নীচে সবাই বসতেন। এখন মানুষের সুবিধার্থে প্যান্ডেল, স্টেজ করা হয়। মাইকের ব্যবস্থা করা হয়।

সুস্থ-সমাজ গঠনে ওয়াজ মাহফিলের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, সেখানে বলা হয়, কীভাবে একটি সুস্থ, ইসলামি সমাজ গঠন করা যায়! ওয়াজ মাহফিল নিয়ে আসে ব্যক্তিজীবনের পরিবর্তন। যখন সাহাবা, অলি-আউলিয়াদের কথা বলা হয়, তখন নিজের মধ্যে একটা পরিবর্তন চলে আসে। নিজের জীবনেকে তাদের মতো করে গড়ার চেষ্টা করে।

ওয়াজ মাহফিল, ইসলামের ওপর চলার আগ্রহ বাড়ায়, ইসলামের ওপর চলতে সাহায্য করে। যখন ওয়াজে নামাজের ফজিলত, না পড়ার ভয়াবহ শাস্তির কথা বলা হয়, মেসওয়াক করার ফজিলত ও ফায়দার কথা বলা হয়, যখন হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণের কথা বলা হয়, তখন ইসলামের ওপর চলার আগ্রহী হয়। কারণ, একজন পাগলও তার লাভ-লোকসান বুঝে। সেখানে একজন সুস্থ-মস্তিষ্কের মানুষ কেন বোঝবে না যে, এই কাজটি করলে তার লাভ (জান্নাত) হবে, না করলে লোকসান (জাহান্নাম) হবে।

ওয়াজ মাহফিলে আল্লাহর কথা, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কথা বলা হয়। যেখানে কোরআন-হাদিস নিয়ে আলোচনা হয় আল্লাহর রহমত নাজিল হয়। রহমতের ফেরেশতারা বেষ্টন করে রাখে।

ওয়াজ মাহফিল দ্বারা কম বেশি সবাই সওয়াবের ভাগীদার হয়

 

ওয়াজ মাহফিল দ্বারা আমলে তেজ আসে। একটি বটিকে যদি ঘরে ফেলে রাখা হয়, সেটি ভোঁতা হয়ে যায়। ফেলে না রেখে কাজে লাগানো যায়, তাহলে তেজ বহাল থাকে। ঠিক তেমনি যত বেশি ওয়াজ মাহফিল হবে, সেখানে যত বেশি আমলের কথা বলা হবে, আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হবে, আমলের ফজিলতের কথা বলা হবে, ফলে আমলের তেজ থাকবে। যদি আমলের কথা বলা না হয় কিংবা শোনা না হয়, তাহলে আমলে অনীহা চলে আসবে, আস্তে আস্তে আমল ছেড়ে দেবে।

ওয়াজ মাহফিল দ্বারা কম বেশি সবাই সওয়াবের ভাগীদার হয়। মাহফিলে আমলের কথা শুনে কেউ যদি একটি আমল করে, যে আমল করল সে তো সওয়াব পাবে, যিনি এই আমলের কথা বললেন তিনিও সওয়াব পাবেন, যারা মাহফিলের আয়োজন করেছেন তারাও সওয়াবের ভাগীদার হবেন।

আমরা অনেকে বলে থাকি, এত এত ওয়াজ, মাহফিল হচ্ছে; কিন্তু কয়জন মানুষ হেদায়েত হচ্ছে? এক এলাকায় একটি মাহফিলই যথেষ্ট। এত ওয়াজ দিয়ে লাভ কী? এ ধরণের কথা যারা বলেন, তারা আজ থেকে এ কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। কেননা হেদায়েতের মালিক আল্লাহতায়ালা। তিনি যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দেন, যাকে ইচ্ছা দেন না। এই ব্যাপারে কোনো মানুষের প্রশ্ন ওঠানো অযৌক্তিক। আল্লাহতায়ালা হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলেন, আপনি যাকে পছন্দ করেন, তাকে হেদায়েত দিতে পারবেন না, তবে আল্লাহতায়ালাই যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দেন। কে সৎপথে আসবে, সে সম্পর্কে তিনিই ভালো জানেন। -সুরা কাসাস ৫৬

যেখানে স্বয়ং রাসুলকে এই ক্ষমতা দেননি যে, যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দেবে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু সৎপথের দিকে আহবান করতে পারবেন। অন্য আয়াতে বলেন, ‘আপনি উপদেশ দিন। কেননা, উপদেশ বিশ্বাসীদের উপকারে আসে।’ -সুরা আয-যারিয়াত : ৫৫

আল্লাহতায়ালা নবী কারিম (সা.)-কে উপদেশ দিতে বলছেন। হেদায়েতের মালিক আল্লাহ! তিনি যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দেবেন। আমাদের এতে মাথাব্যথা কেন? আলেমদের কাজ হলো- হক-বাতিল, হালাল-হারামের কথা বলে যাওয়া। যথাযথভাবে ইসলামের বিধান, কোরআন ও হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা মানুষের সামনে তুলে ধরা। মানুষকে উপদেশ দেওয়া। যে গ্রহণ করলো সে লাভবান হলো, যে গ্রহণ করলো না তার ক্ষতি হলো।

;

অনবরত সওয়াব লেখা হয় যে দোয়া পাঠে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
অনবরত সওয়াব লেখা হয় এই দোয়া পাঠে

অনবরত সওয়াব লেখা হয় এই দোয়া পাঠে

  • Font increase
  • Font Decrease

উচ্চারণ : ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি আদাদা খলকিহি, ওয়া রিজাকা নাফসিহি, ওয়া জিনাতা আরশিহি, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহ।’

অর্থ : আমি আল্লাহতায়ালার পবিত্রতা ও তার প্রশংসা বর্ণনা করছি, তার সৃষ্টি সংখ্যা পরিমাণ, তার মর্জি অনুযায়ী, তার আরশের ওজন পরিমাণ এবং তার কালামের কালির পরিমাণ।

উপকার : হজরত জুওয়াইরিয়া (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতসকালে আমার কাছ থেকে ঘরের বাইরে গেলেন এবং আমি জায়নামাজে বসে অজিফা পড়ছিলাম, তারপর চাশতের পর দিনের এক-চতুর্থাংশ চলে গেল। তখন হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ফের ঘরে এলেন। তখনও আমি একই অবস্থায় জায়নামাজে অজিফা পড়ায় মগ্ন ছিলাম। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) তা দেখে আমাকে বলেন, আমি যাওয়ার সময় তোমাকে যে অবস্থায় দেখেছি, এখনও কি তুমি সেই আগের অবস্থায় রয়ে গেছ? আমি বলেছি হ্যাঁ, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমি তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর যে চারটি কলেমা পাঠ করেছি, তা যদি তোমার সকাল থেকে এই পর্যন্তের সব অজিফার বিপরীতে ওজন করা হয়, তাহলে এই চারটি কলেমার ওজন বেশি ভারী হবে। -সহিহ মুসলিম : ৬৮০৬

অন্য বর্ণনায় হাদিসে উল্লেখিত দোয়ায় কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ‘সুবহানাল্লাহি আদাদা খালকিহি সুবহানাল্লহি রিজা নাফসিহি সুবহানাল্লহি জিনাতা আরশিহি সুবহানাল্লহি মিদাদা কালিমাতিহি।’ অর্থাৎ আমি আল্লাহর প্রশংসার সঙ্গে পবিত্রতা বর্ণনা করছি তার অসংখ্য মাখলুকের পরিমাণ, তার সন্তুষ্টির সমান, তার আরশের ওজন পরিমাণ এবং তার কালিমাসমূহের সংখ্যার সমান।’ –সহিহ মুসলিম : ৬৮০৭

;