ইতালির দাবি, করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করে ফেলেছে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কলকাতা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে গিয়েছে! এমনটাই দাবি করেছেন ইতালির গবেষকরা। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই ভ্যাকসিনে যে অ্যান্টিবডি রয়েছে, তা মানব কোষেও কাজ করবে। এই অ্যান্টিবডি করোনাভাইরাসকে সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম।

রোমের ল্যাজেরো স্প্যালোনজানি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ইনফেকশাস ডিজিসের গবেষকরা এই ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছেন। এটি বাজারে আনবে টকিস নামে একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা।

ওই সংস্থার সিইও লুইগি এরিসিচ্চিও বলেছেন, বিশ্বে এই প্রথম করোনাভাইরাসের ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। যা ভাইরাসটিকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে। এই মুহূর্তে ইতালির পরীক্ষাগারে সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গ্রীষ্মকাল গেলেই মানুষের উপরেও এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হবে।

তবে শুধু ইতালি নয়, বিশ্বের একাধিক দেশ ভ্যাকসিন তৈরি করতে নিরন্তন গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। তালিকায় রয়েছে ইসরায়েল, আমেরিকা, চীন, ব্রিটেন ও ভারতের মত দেশগুলো। মঙ্গলবারই (৫ মে) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেট একটি কার্যকরী অ্যান্টিবডি তৈরি কথা জানিয়েছেন।

এছাড়া আমেরিকার একাধিক সংস্থা করোনার ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক তৈরির দাবি করে আসছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন যে, চলতি বছরের মধ্যেই আমেরিকা প্রতিষেধক তৈরি করে ফেলবে।

ভ্যাকসিন তৈরির দাবি করেছে চীনও। ‘হু’ জানিয়েছে, চীন চারটি ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল চালাচ্ছে।

তবে হাত গুটিয়ে নেই ভারতও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, দেশটিতে সম্ভাব্য ভ্যাকসিন নিয়ে অন্তত ৩০টি গবেষণা চলছে।

এদিকে, প্রতিদিন গোটা বিশ্বে করোনা-মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ। পাশাপাশি, আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭ লাখ ৫৬ হাজার ছাড়িয়েছে।

তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমেরিকা। সবমিলিয়ে আমেরিকায় মৃত্যু হয়েছে ৭২ হাজার ৩২১ জনের। আক্রান্ত ১২ লাখ ৩৯ হাজার মানুষ।

প্রাণহানির নিরিখে ইতালিকে টপকে এখন ইউরোপে সবার ওপরে চলে এসেছে ব্রিটেন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ২৯ হাজার ৪১৭ জন। পাশাপাশি, ইতালিতে মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৩১৫ জন।

আফগানিস্তানও ক্রমশ দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দেশটিতে এখনও পর্যন্ত ২ হাজার ৯০০ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৯০ জনের। কিন্তু, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে মোট জন সংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ সংক্রমণের শিকার হতে পারে।

ভারতেও আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলেছে। দেশটিতে মরণঘাতী ভাইরাসের শিকার হয়েছেন ৫৩ হাজারের বেশি মানুষ। সেই সঙ্গে মৃতের সংখ্যাও ১ হাজার ৭৮৫-তে পৌঁছে গিয়েছে।

এদিকে, করোনাকে জয় করে কাজে ফিরেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। বুধবারই তিনি হাউস অব কমনসে ফিরেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :