ভূমি অফিসের সাবেক কর্মকর্তার ২৩ বছরের কারাদণ্ড



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার সাবেক সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার কবির আহাম্মদকে ২৩ বছর ও সামছুল হক ওরফে সামছু উদ্দিনকে নামে এক ব্যক্তিকে ১৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও পনের মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী স্পেশাল জজ আদালত-১ এর বিচারক এ.এন.এম মোরশেদ খান এ রায় দেন।

আসামিরা হলেন, সদর উপজেলার সাবেক সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার কবির আহাম্মদ ও অপর আসামি সামছুল হক ওরফে সামছু উদ্দিন। রায় ঘোষণার সময় তাঁরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চর জব্বর মৌজার সাড়ে ৪ একর ভূমির মালিক ও দখলদার এই মামলার বাদীপক্ষ। জরিপের ভুলে ২নং আসামি সামছুল হকের নামে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে ২৩২৪৯/২০১২ নং আপিল মামলা দায়ের করা হয়। সেই আপিল মামলায় বিবাদী পক্ষের নাম কেটে বাদি পক্ষের নাম লিপিবদ্ধ ও তামিল খতিয়ান করার আদেশ হয়। সে মোতাবেক ১নং বিবাদী বাদীপক্ষের নামে তামিল খতিয়ান ইস্যু করেন।

তবে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার কবির আহমদ বাদীর কাছ থেকে সংশোধনের কথা বলে সরবরাহকৃত জাবেদা নকল ও তামিল খতিয়ানের মূলকপি নিয়ে যায়। ওই রেকর্ড ফেরত চাইলেও তিনি সেসব কাগজ আর ফেরত দেয়নি। জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে সরকারী রেজিস্ট্রার ও মামলার নথিতে থাকা রায় পরিবর্তন করে ২নং বিবাদীর নামে রেকর্ড বহাল করেন।

এভাবে বিবাদী দণ্ডবিধির ১৬৭/৪২০/৪৬৬/৪৬৮/১০৯ ধারা তৎসহ ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেন।

অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সামছুল হক আপিলে হেরে গিয়ে ৪২ ধারার ক্ষমতাবলে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসারের কাছে আপিল না করে আপিল অফিসারকে প্রভাবিত করে আদেশ সংশোধনের আইনগত ক্ষমতা না থাকার পরও আদেশ সংশোধনের সার্টিফাইড কপি এবং খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি নেন। এভাবে তারা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি রেকর্ড নষ্ট করেন।