নিম্ন আদালতের বিচারকদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নিম্ন আদালতের বিচারকদের অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. বজলুর রহমান এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন কারণে নিম্ন আদালতের বিচারকদের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।

প্রধান বিচারপতি আশা করছেন যে তাদের (বিচারকদের) অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর এড়ানো উচিত যেন মামলাকারীরা দ্রুত বিচার সেবা পান এবং জাতীয় অর্থনীতিতে কোনো বিরূপ প্রভাব না পড়ে।

এ অবস্থায় প্রধান বিচারপতি নিম্ন আদালতের বিচারকদের অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ সফরের জন্য আবেদন না করতে নিষেধ করেছেন, প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

বন্ধুকে হত্যার দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, লক্ষ্মীপুর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

লক্ষ্মীপুরে টাকা ছিনতাইয়ের জন্য বন্ধুকে হত্যার মামলায় মো. বাহার নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুন) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন।

লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বাহার পলাতক রয়েছেন।

হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বাহার সদর উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের বড়বল্লভপুর গ্রামের জয়নাল আবেদিন খন্দকারের ছেলে।

আদালত সূত্র জানায়, হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বাহার মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। বাহার ও ভিকটিম আবদুর রব রাসেল বন্ধু ছিলেন। রাসেল বড়ভল্লবপুর গ্রামের আবদুল মোতালেবের ছেলে। রাসেলের বিদেশ যাওয়ার কথা ছিল। এতে ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি রাতে নিজ বাড়ি থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে পার্শ্ববর্তী চরমোহাম্মদপুর গ্রামে শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে হেঁটে রওনা দেয়। পথিমধ্যে বসুদৌহিতা গ্রামে পৌঁছলে বাহার পেছন থেকে লোহার চার্জার লাইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে রাসেল অচেতন হয়ে পড়ে। তাকে মৃত ভেবে টাকা নিয়ে বাহার পালিয়ে যায়। পরদিন সকালে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ঢাকায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় ২ মাস সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে ২৫ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ নেওয়ার পথে বাহার মারা যান। এ ঘটনায় ৩০ জানুয়ারি চন্দ্রগঞ্জ বাহারের মা আমেনা বেগমের লিখিত অভিযোগটি পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রুজু হয়। তদন্ত শেষে ওই মামলায় বাহারের বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ উপ-পরিদর্শক পুষ্প বরণ চাকমা ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ শুানানি শেষে আদালত বাহারের অনুপস্থিতিতে রায় দেয়।

;

ষড়যন্ত্র না হলে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন কেন বন্ধ হলো: হাইকোর্ট



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়েছে দুই দিন। সেতু দিয়ে যান চলাচলও শুরু হয়েছে। এই সেতু শুরুর প্রথম দিকে অর্থায়ন করার কথা ছিল বিশ্বব্যাংকের। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সেতু নির্মাণের অর্থ দেওয়া থেকে সরে দাঁড়ায় বিশ্বব্যাংক। এখন হাইকোর্টের প্রশ্ন ষড়যন্ত্র না হলে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ হলো কেন।

পদ্মা সেতু নির্মাণ চুক্তি নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠন প্রশ্নে জারি করা রুল শুনানিতে সোমবার (২৭ জুন) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ প্রশ্ন করেন।

হাইকোর্ট বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটা আমাদের অহংকার। এ ধরনের জাতীয় স্বার্থ উন্নয়নের বিরুদ্ধে যারা থাকেন, তারা জাতির শত্রু, দেশের শত্রু, তাদের চিহ্নিত করা দরকার।

শনিবার (২৫ জুন) উদ্বোধনের পর রোববার (২৬ জুন) ভোর ৬টায় যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ও প্রত্যাশিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু। কিন্তু এই সেতু নির্মাণকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির নানান গুজব ছড়ানো হয়েছে। কে বা কারা সেসব গুজব ছড়িয়েছিল–এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

পদ্মা সেতু নির্মাণ চুক্তি এবং দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যে থাকা প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিশন গঠন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং দোষীদের কেন বিচারের মুখোমুখি করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত।

মন্ত্রিপরিষদ, স্বরাষ্ট্র, আইন ও যোগাযোগ সচিব এবং দুদকের চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

;

সুপ্রিম কোর্টের ১২ বিচারপতি করোনাক্রান্ত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর থাবা পড়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টেও। সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের ১২ জন বিচারপতি শরীরে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

সোমবার (২৭ জুন) সকালে আপিল বিভাগে বিচারকাজ পরিচালনার সময় প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলকে মামলা পরিচালনায় সহযোগিতা চেয়ে বলেন, আমাদের ১২ জন বিচারপতি করোনায় আক্রান্ত। দ্বৈত বেঞ্চের একজন করোনায় আক্রান্ত হলে ওই বেঞ্চের বিচারকাজ বন্ধ থাকে।

‘করোনার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বেঞ্চে বিচারকাজ বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় আপনারা যদি সহযোগিতা না করেন তাহলে আমাদের জন্য বিষয়টি কঠিন হয়ে পড়ে। আপনারা সহযোগিতা না করলে আমাদের ভার্চুয়ালি কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারপরও ধৈর্য ধরেন আমরা দেখতেছি।’

আপাতত গুরুত্বপূর্ণ মামলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। এ সময় তিনি সব আইনজীবীর সহযোগিতা চান।

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, মাই লর্ড আমাদের অনেক আইনজীবীও করোনায় আক্রান্ত। আমরা আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল, বিচারপতি ইকবাল কবির লিটনসহ ১২ জন বিচারপতি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

;

‘জাতীয় কবি’র গেজেট চেয়ে ১০ আইনজীবীর হাইকোর্টে রিট



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্ট রিট দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুন) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের ১০ জন আইনজীবীর পক্ষে মো. আসাদ উদ্দিন এ রিট দায়ের করেন। রিটকারী আইনজীবী নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রিট আবেদনকারী অন্যান্য আইনজীবীরা হলেন মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন, মো. জোবায়দুর রহমান, আল রেজা মো. আমির, মো. রেজাউল ইসলাম, কে এম মামুনুর রশিদ, মো. আশরাফুল ইসলাম, শাহীনুর রহমান, মো. রেজাউল করিম এবং মো. আলাউদ্দিন।

রিট আবেদনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালকে বিবাদী করা হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির সাত কর্মদিবসের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

রিট আবেদনকারী আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, দেশের আপামর জনগণ এমনকি ছোট্ট শিশুটিও জানে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কিন্তু বাস্তবে এটির কোনও দালিলিক ভিত্তি নেই। মৌখিকভাবে তিনি জাতীয় কবি হিসেবে পরিচিত হলেও লিখিতভাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। বলা হয়ে থাকে, ১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার আলবার্ট হলে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে সর্বভারতীয় বাঙালিদের পক্ষ থেকে কবিকে জাতীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নজরুলকে ‘জাতীয় কবি’ হিসাবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে মুখে মুখে তিনি জাতীয় কবি হয়ে আছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সরকারিভাবে তাকে জাতীয় কবি হিসাবে ঘোষণা করে কোনও প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে কবিকে বাংলাদেশে আনা হয়। বসবাসের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ধানমন্ডিতে তাঁকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। এরপর ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে সরকারি আদেশ জারি করা হয়। ১৯৭৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ‘একুশে পদক’ দেওয়া হয়।

আসাদ উদ্দিন আরও বলেন, বাংলাদেশের দুটি আইনে জাতীয় কবি হিসেবে নজরুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি আয়োজনে তাকে জাতীয় কবি হিসেবে উল্লেখও করা হয়। কিন্তু সবই পরোক্ষ স্বীকৃতি। তিনি আমাদের ইতিহাসের অংশ। এ ছাড়া নজরুলকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণার দাবিতে কবি পরিবারের পক্ষ থেকেও বারবার দাবি তোলা হয়েছে।

;