হত্যার ১৪ বছর পর নয় জনের যাবজ্জীবন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
হত্যার ১৪ বছর পর নয় জনের যাবজ্জীবন

হত্যার ১৪ বছর পর নয় জনের যাবজ্জীবন

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ায় জমি নিয়ে বিরোধে আব্দুল জব্বার (৬২) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার ১৪ বছর পর নয় জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আর ৬ জনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়। যাজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ৯ জনের মধ্যে দুইজন পলাতক রয়েছেন।

বুধবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বগুড়ার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হাবিবা মন্ডল এ আদেশ দেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- বগুড়া সদর উপজেলার চালিতাবাড়ি নগরকান্দি গ্রামের ইসমাইল হোসেন ওরফে ইউনুছ, তার দুই ছেলে জাকির মিয়া ও মাসুদ মিয়া। একই গ্রামের আব্দুল খালেক, ইনতাজ আলী, সুলতান মোল্লা, মানিক মিয়া ও আব্দুল গফুর। দণ্ডপ্রাপ্ত ৯ জনের মধ্যে মানিক মিয়া ও আব্দুল গফুর পলাতক রয়েছেন।

মামলার বাদী মোহাম্মদ সাজু জানান, নিহত আব্দুল জব্বার তার বড় ভাই। আসামিদের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ২০০৮ সালের ২০ জুন দুপুরে শাখারিয়া ইউনিয়নের নুরইল বিল এলাকায় বিরোধপূর্ণ জমি মাপজোক চলছিল। এসময় আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আব্দুল জব্বারকে কুপিয়ে হত্যা করে।

এঘটনায় সাজু বাদী হয়ে ১৫ জনের নামে বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল আলম তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ নভেম্বর ১৫ জন আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার রায় ঘোষণা করা হয়।

মামলাটি বাদী পক্ষে পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট নাসিমুল করিম হলি এবং আসামিপক্ষে ছিলে অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু ও বিনয় কুমার দাস বিশু।

চট্টগ্রামে জেএমবির ৫ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে জেএমবির ৫ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রামে জেএমবির ৫ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ঈশা খাঁ ঘাঁটির ভেতরে মসজিদে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার মামলায় ৫ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মনোরঞ্জন দাশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন সকালে চট্টগ্রামের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুল হালিম এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন আবদুল মান্নান, রমজান আলী, এম সাখাওয়াত হোসেন, বাবলু রহমান ও আবদুল গাফফারের। তারা সবাই জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য। এরমধ্যে সাখাওয়াত পলাতক। বাকিরা কারাগারে রয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মনোরঞ্জন দাশ বলেন, এই মামলায় চলতি বছরের ২৩ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছিল। ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজকে আদালত এ রায় দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের নৌ-বাহিনী ঈশা খাঁ ঘাঁটির দুটি মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালীন সময়ে জেএমবি সদস্যরা বোমা হামলা চালায়। এ ঘটনায় ২৫ জন আহত হয়। মুসল্লিরা জেএমবির সদস্যদের আটক করে পুলিশে দেয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন নৌ-বাহিনীর সাবেক সদস্য।

;

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করে যে প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে তা কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ রুল জারি করেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিব, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যানসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পেট্রোলিয়ামের দাম নির্ধারণ নিয়ে ক্যাবের পক্ষে একাধিক রিট করেছেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, তিনি শুনানিতে অংশ নেন।

ইউনুছ আলী আকন্দ শুনানিতে বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আইনের বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে। আইনে আছে গণশুনানি করতে হবে, মূল্য নির্ধারণ করবে বিইআরসি। দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে গণশুনানি হয়নি। দাম নির্ধারণ করেছে সরকার।

আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, গণশুনানি ছাড়া দাম নির্ধারণের সুযোগ নেই। এখানে মন্ত্রণালয়ের দাম নির্ধারণ করার এখতিয়ার নেই। এ দাম নির্ধারণে বিইআরসির ক্ষমতা খর্ব করেছে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট রাত ১২টার পর জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর করে সরকার। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা, পেট্রোলের দাম ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা এবং অকটেনের দাম ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়।

;

সংসদ এলাকায় স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন বৈধ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
হাইকোর্ট

হাইকোর্ট

  • Font increase
  • Font Decrease

সংসদ ভবন এলাকায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের জন্য বাসভবন নির্মাণ অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করেছে আপিল বিভাগ।

এই রায়ের ফলে সংসদ ভবন এলাকায় নির্মিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন ‘বৈধ’ হিসেবে স্বীকৃত পেল বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করে এ রায় দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তানজিব উল আলম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ।

সংসদ ভবন এলাকায় ২০০২ সালে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হলে ২০০৩ সালে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন ও ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস হাইকোর্টে রিট আবেদন করে।

আবেদনে বলা হয়, লুই আই কানের মূল নকশা লঙ্ঘন করে সংসদ ভবন এলাকায় এসব আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ২১ জুন হাইকোর্ট ওই রিট আবেদন নিষ্পত্তিতে বলেন, সংসদ ভবন এলাকায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন নির্মাণ কার্যক্রম অবৈধ। সেইসঙ্গে রায়ে সংসদ ভবন এলাকাকে জাতীয় ঐতিহ্য ঘোষণার নির্দেশ দেন।

তবে হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) করলে তা মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত আপিল করেন। অবশ্য হাইকোর্টের রায় স্থগিত থাকা অবস্থায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন নির্মাণ শেষ হয়। ২০১৫ সালে আপিল শুনানিকালে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষকে লুই আইকানের মূল নকশা জমা দিতে বলেন। পরে মূল নকশা বিদেশ থেকে এনে আদালতে জমা দেওয়া হয়।

;

সুইস রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য রাষ্ট্রকে বিব্রত করেছে: হাইকোর্ট



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সুইস ব্যাংকে জমা রাখা অর্থের বিষয়ে ঢাকার সুইস রাষ্ট্রদূত যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে রাষ্ট্র বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে বলে মনে করেন হাইকোর্ট। তার বক্তব্য যে সঠিক নয় সেটা প্রমাণিত হয়েছে। এজন্য তার বক্তব্য প্রত্যাহার করা ছাড়া কোনো উপায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন উচ্চ আদালত।

রোববার (১৪ আগস্ট) এ বিষয়ে এক শুনানি করে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন।

আদালত বলেন, রাষ্ট্রদূত কীভাবে বললেন বাংলাদেশিদের অর্থ জমার বিষয়ে কোনো তথ্য চাওয়া হয়নি, তা আমাদের বোধগম্য নয়।

আদালত রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা যে তথ্য উপস্থাপন করেছেন তাতে প্রমাণিত রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য সাংঘর্ষিক।

এর আগে রোববার সকালে হাইকোর্টে আসা বিএফআইউ-এর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

ওই প্রতিবেদনের ওপর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হয়।

এর আগে রোববার সকালে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এর প্রতিবেদন হাইকোর্টে আসে। সেখানে জানানো হয়, সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ জমা সংক্রান্ত তথ্য বিভিন্ন সময়ে দেশটির আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা এফআইইউয়ের কাছে চাওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ গত ১৭ জুন এফআইউয়ের কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছিল বিএফআইইউ।

গত ১০ আগস্ট সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা নিয়ে নির্দিষ্ট করে সুইজারল্যান্ড সরকারের কাছে বাংলাদেশ সরকার কোনো তথ্য চায়নি বলে জানান ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড।

এর জবাবে ১১ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার সুইজারল্যান্ড সরকারের কাছে নির্দিষ্ট করে কারো সম্পর্কে  সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ জমা নিয়ে কোনো তথ্য চায়নি, এ নিয়ে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড মিথ্যা কথা বলেছেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদনে তথ্য পাওয়া গেছে, দুই দশকের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংক বা সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ অর্থ জমা হয়েছে গত বছর। বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে এসব অর্থ জমা হয়েছে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে।

২০২১ সাল শেষে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা হওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। প্রতি সুইস ফ্রাঁর বিনিময় মূল্য ৯৫ টাকা ধরে হিসাব করলে দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা।

গত ২০২০ সালে সেখানকার ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ ছিল ৫৬ কোটি ২৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা রাখা অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা বা ৫৫ শতাংশ বেড়েছে।

;