সাংবাদিকরা সংবাদের সোর্স প্রকাশে বাধ্য নন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দুর্নীতি বিষয়ক তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকরা যেকোনো সরকারি-বেসরকারি অফিসে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সম্পর্কিত এক পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেন, 'সংবাদের সোর্স জানাতে সাংবাদিকদের বাধ্য করা যাবে না। কোনো সংবাদে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তিনি প্রেস কাউন্সিলে প্রতিকার চাইতে পারবেন।'
আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছে, ‘সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলে দেয়া আছে। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এটা গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আধুনিক বিশ্বে জানার অধিকার সবারই আছে।’

রায়ে আদালত আরও বলেছে, ‘গণতন্ত্র ও আইনের শাসন রক্ষায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। গণমাধ্যমের কাজ হলো জনগণকে সজাগ করা। বর্তমান সময়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ছে। আর এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
নোয়াখালী জেলা জজ আদালত

নোয়াখালী জেলা জজ আদালত

  • Font increase
  • Font Decrease

পরকীয়া প্রেমের জের ধরে স্বামী আবু সোলাইমান মাহমুদ মহুরীকে (৩৫) হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালী বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এএনএম মোর্শেদ খান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নিহতের স্ত্রী রহিমা আক্তার ধনি, বেগমগঞ্জ উপজেলার রায়কৃষ্ণপুর গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে হেঞ্জু মিয়া (৫০) ও সদর উপজেলার আনোয়ার উল্লাহর ছেলে সামছুদ্দিন (৪০)।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের ৭ মার্চ আবু সোলাইমান মাহমুদ মহুরী অপহরণের অভিযোগ এনে সুধারাম থানায় মামলা দায়ের করেন স্ত্রী রহিমা আক্তার ধনি। এরপর মামলার তদন্তে তদন্তকারী কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান ঘটনার এক বছর পর ১৯৯৮ সালে ২৮ মে অজ্ঞাত একটি মরদেহ উদ্ধার করেন। তদন্তে জানা যায়, মরদেহটি সোলেমান মুহুরীর। স্ত্রী রহিমা আসামি হেঞ্জু মিয়ার সঙ্গে পরকীয়ার জের ধরে স্বামীকে হত্যা করে লাশ গুম করে তারা। গৃহশিক্ষক সামছুদ্দিন টাকার লোভে হত্যাকাণ্ডে সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তখন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিহতের স্ত্রীসহ ৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। স্বামী খুনের দায় স্বীকার করে স্ত্রীসহ ৩ আসামি আদালতে জবানবন্দি দেন।

মামলার সরকারি কৌঁসুলী মো. এমদাদ হোসেন কৈশোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ২৬ বছর পর ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ মামলার রায় প্রদান করে। আসামিরা জামিন নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছে।

;

হত্যা মামলায় একই পরিবারের ৩ জনের যাবজ্জীবন



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কক্সবাজার
কক্সবাজার জেলা আদালত

কক্সবাজার জেলা আদালত

  • Font increase
  • Font Decrease

কক্সবাজারের টেকনাফে কৃষক আব্দুল করিম হত্যা মামলায় পিতা, পুত্র ও স্ত্রীসহ তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডিত আসামির একজনকে ৫০ হাজার টাকা ও অপর দুইজনকে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৫ এর বিজ্ঞ বিচারক নিশাত সুলতানা এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী গ্রামের মো. মকবুলের ছেলে মঞ্জুর, মঞ্জুরের স্ত্রী আমিনা খাতুন ও তাদের ছেলে মো. ফোরকান। মামলার প্রধান আসামি ফোরকান পলাতক রয়েছেন। অন্য দুজন আদালতে হাজির ছিলেন।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের জেলা নাজির বেদারুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় টেকনাফের বাহারছড়ার উত্তর শীলখালী বইল্যাছড়া এলাকায় আব্দুল করিম নামে এক ব্যক্তির ওপর হামলা করা হয়। পরদিন তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় মামলা করেন নিহত আব্দুল করিমের স্ত্রী খোরশিদা বেগম। এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর অভিযোগ গঠন করা হয়। তার আগে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন।

রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মোজাফ্ফর আহমদ হেলালী এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট সেলিমুল মোস্তফা ও অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম (৪) মামলাটি পরিচালনা করেন।

;

বিএনপি নেতা শিমুল বিশ্বাস-সালাউদ্দিন টুকুর জামিন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি মো. শাহেদ নূরউদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই জামিন দেন। একই সঙ্গে তার নিয়মিত জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেছেন আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে শিমুল বিশ্বাসের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। টুকুর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও জহিরুল ইসলাম সুমন। জামিন আদেশের ফলে শিমুল ও টুকুর মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানান তাদের আইনজীবীরা।

গত বছরের ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পুলিশের ওপর হামলা, হামলায় পরিকল্পনা ও উসকানির অভিযোগে ৮ ডিসেম্বর পল্টন থানায় মামলায় করে পুলিশ।

;

জাপানি মায়ের কাছেই থাকবে ২ শিশু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাপানি মা নাকানো এরিকোর জিম্মায় দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে রাখার আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসাথে মেয়েদের নিয়ে জাপান যেতে পারবেন মা। এছাড়া বাবা ইমরান শরীফ যে মামলা করেছিলেন তা খারিজ করে দেন আদালত।

নাবালিকা দুই শিশু কোথায় থাকলে কল্যাণ হবে সে দিক বিবেচনায় রেখে এ রায় দেয়া হয়। রোববার দুপুরে রায় ঘোষণা করেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত সহকারী জজ ও পারিবারিক আদালতের বিচারক দুরদানা রহমান।

এর আগে ২২ জানুয়ারি দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন একই আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রায় দেয়া হলো। তারও আগে ১৫ জানুয়ারি তাদের বক্তব্য শুনে তা রেকর্ড করেন আদালত।

২০০৮ সালে জাপানি চিকিৎসক নাকানো এরিকোর সাথে বাংলাদেশী প্রকৌশলী ইমরান শরীফের বিয়ে হয়। দাম্পত্য কলহের জেরে ২০২০ সালের শুরুতে বিচ্ছেদের আবেদন করেন এরিকো। এরপর ইমরান স্কুলপড়ুয়া বড় দুই মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। আর ছোট মেয়ে থেকে যান জাপানে মা এরিকোর সাথে।

তবে ওই দুই মেয়েকে জিম্মায় পেতে মহামারীর মধ্যে গত বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশে আসেন এ জাপানি নারী। তিনি হাইকোর্টে রিট করলে তাদের সমঝোতায় আসতে বলেন বিচারক। তবে ওই দম্পতি সমঝোতায় না আসায় কয়েক মাস ধরে শুনানির পর হাইকোর্ট দুই সন্তানকে বাবার হেফাজতে রাখার সিদ্ধান্ত দেন। পাশাপাশি মা যাতে সন্তানদের সাথে দেখা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বাবাকে খরচ দিতে বলা হয়।

এরপর হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন নাকানো এরিকো। পরে আপিল বিভাগ এক আদেশে শিশু দুটিকে মায়ের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দিলেও বাবা তা না মানায় বিচারকরা উষ্মা প্রকাশ করেন। পরে আদালত শিশু দুটিকে বাবার হেফাজত থেকে এনে তাদের সাথে কথা বলেন এবং পরে মায়ের হেফাজতে দেয়ার আদেশ দেন।


এরপর এই দুই মেয়ে কার জিম্মায় থাকবে তার নিষ্পত্তি পারিবারিক আদালতে হবে এবং তার আগ পর্যন্ত দুই শিশু তাদের মায়ের কাছেই থাকবে বলে সিদ্ধান্ত দেন আপিল বিভাগ। গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি এই আদেশ দেয়া হয়। এরপর আপিল বিভাগ থেকে মামলাটি পারিবারিক আদালতে যায়।

এসব ঘটনার মধ্যে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর রাতে দুই সন্তান নিয়ে জাপানে যাওয়ার জন্য ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান এরিকো নাকানো। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় তাকে বিমানবন্দর থেকে পুলিশ ফিরিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় ২৯ ডিসেম্বর দুই সন্তানের বাবা ইমরান শরিফ ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাতুল রাকিবের আদালতে মামলা করেন। আদালত বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

;