বসত ভিটায় ফিরতে চান মুক্তিযোদ্ধা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
বসত ভিটায় ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বসত ভিটায় ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বসত ভিটা ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা পেয়ার মোহাম্মদ ও তার পরিবারের সদস্যরা। কর্ণফুলী উপজেলা যুবলীগ সভাপতি সোলায়মান তালুকদার তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে তাদের বসতবাড়ি ভেঙে ১০ বিঘা সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এ ভুক্তভোগী।

সোমবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনে ল রিপোর্টার্স ফোরাম কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন তিনি এই অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা পেয়ার মোহাম্মদের পক্ষে তার ভগ্নীপতি রেজাউল করিম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নৈশ প্রহরী সোলায়মান তালুকদার আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। এই সম্পদ গড়তে গিয়ে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার ও নির্যাতন করেছেন। আমার বসত বাড়ি ভেঙে ১০ বিঘা জমি দখলে নিয়েছেন সোলায়মান তালুকদার। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের আমলে আমার জমি দখল হলে কষ্ট পেতাম না। বঙ্গবন্ধু কন্যার সরকারে আমলে আমাদের ৩ পরিবারের ২০ সদস্যকে ভিটা মাটি ছাড়া করা হয়েছে। এটা বেদনাদায়ক।

এ সময় পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মো. নুর আলম ও মো. শাহা সুলতান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, সোলায়মান তালুকদারের পিতা ১৯৭১ সালে রাজাকার ছিলেন। স্বাধীনতার পর মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিল যা এলাকার সবাই অবগত। এক সময় ভাঙা কুড়ে ঘর ছিলো। নৈশ প্রহরীর চাকরি পাওয়ার পর যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে বর্তমানে কোটি কোটি টাকার মালিক। তার রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ী। চলাফেরাও করেন বিলাসবহুল গাড়ীতে। এলাকার সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও তার অপকর্মে অতিষ্ঠ। সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মান তালুকদারের অপকর্ম নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।

বর্তমানে বসত ভিটা হারিয়ে পেয়ার মোহাম্মদ ও তার দুই ভাই, পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। শেষ বয়সে নিজের ভিটায় মরতে চান তিনি।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছেও লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয় লিখিত বক্তব্যে।