কে কী বলল তা দেখে বিচার করি না: প্রধান বিচারপতি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, আমরা নথিপত্র দেখে মামলা বিচার করি। কে কী বলল সেটা দেখে বিচার করি না। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন এর আগে প্রধানমন্ত্রীর ‘তিনি রাজার হালে আছেন’ বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানলে প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সাড়ে ১১টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ এজলাসে আসেন।

তখন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ১২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করার দিন এগিয়ে আনার আর্জি জানান। তার সঙ্গে অন্য আইনজীবীরাও দাবি জানালে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এটা নজিরবিহীন। আপনারা বাড়াবাড়ি করছেন। বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে।’ তখন জয়নুল আবেদীন প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ টানেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, যে জামিন পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট থেকে পেয়েছেন। এখানে শক্তি দেখাচ্ছেন কেন?

এ পর্যায়ে খালেদার অপর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন তারিখ এগিয়ে আনার আর্জি জানান।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা এ মামলা আর শুনব না। বেঞ্চ কর্মকর্তা মামলার কার্যতালিকা থেকে ৮ নম্বর ডাকেন।

খালেদার আইনজীবীরা আবারও বললে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা আদেশ দিয়েছি। এখন আর শুনব না।

খালেদার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আপনারা অন্তত সোমবার দিন রাখুন। তিনি (খালেদা) গুরুতর অসুস্থ। আপনারা সর্বোচ্চ আদালত দয়া করে আগের আদেশ রিভিউ করুন। না হলে অন্তত এখানে হাজির করার আদেশ দিন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা সবাই মিলে এ আদেশ দিয়েছি। এরপর খালেদার পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা আদালত ছেড়ে চলে যেতে চাইলে জুনিয়র আইনজীবীরা বাধা দেন।

তখন কার্যতালিকার ৯ নম্বর ক্রমিকে থাকা মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি শুনানি শুরু করেন। তিনি মামলার শুনানি করার এক পর্যায়ে আইনজীবীরা পেছন থেকে স্লোগান দেওয়া শুরু করেন। তারা নজিরবিহীনভাবে আদালতে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে স্লোগান দেন। এক আইনজীবী চিৎকার করে বলেন, ‘আমাকে ফাঁসি দিন নেত্রীকে মুক্তি দিন।’

থেমে থেমে বিচার চলতে থাকলে খালেদার আইনজীবীরা হট্টগোল শুরু করেন। তারা স্লোগান দিলে প্রায় এক ঘণ্টা বিচার বন্ধ থাকে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ছয় বিচারপতি নীরবে এজলাসে বসে থাকেন।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিনসহ আইন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বেলা ১টা ১৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতিসহ বিচারপতিরা এজলাস ছেড়ে গেলে এজলাস ফাঁকা হতে শুরু করে।

আপনার মতামত লিখুন :