হ্যালুসিনেট করে যে খাবারগুলো!



নাছরিন আক্তার উর্মি, বার্তা২৪.কম
হ্যালুসিনেশন হচ্ছে মানুষের অভ্যন্তরীণ শক্তিশালী বিশ্বাস। ছবি: সংগৃহীত

হ্যালুসিনেশন হচ্ছে মানুষের অভ্যন্তরীণ শক্তিশালী বিশ্বাস। ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হ্যালুসিনেশন হচ্ছে মানুষের অভ্যন্তরীণ শক্তিশালী বিশ্বাস। যার বাস্তবিক উপস্থিতি না থাকলেও কারও কারও মনে হতে পারে যে এটি আছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এর সুস্পষ্ট উপস্থিতি টের পায়। যা অন্য কেউ পায় না। উদাহরণস্বরূপ, আপনি এমন একটি ভয়েস শুনতে পাচ্ছেন কিংবা এমন কোনও কিছু দেখতে পাচ্ছেন যা আসলে নেই এবং অন্য কেউ তা শুনতে বা দেখতে পাবে না।

হ্যালুসিনেশন মানসিক অসুস্থতা, ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, অ্যালকোহল পান এমনকি কিছু সাধারণ খাবার গ্রহণের কারণেও হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন খাবারগুলো হ্যালুসিনেশন তৈরি করে-

লাল মরিচ:

মরিচ হ্যালুসিনোজেনিক হতে পারে দুই কারণে- প্রথমত, মরিচের ঝালের তীব্রতা যদি এন্ডোরফিনের কারণে হয়। দ্বিতীয়ত, এটি তামাকের মতো একই বোটানিকাল পরিবারভুক্ত।

মরিচ হ্যালুসিনোজেনিক হতে পারে
মরিচ হ্যালুসিনোজেনিক হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

জায়ফল:

জায়ফলে মরিস্টিকিন নামক এক ধরনের জৈব যৌগ রয়েছে। এটা অতিরিক্ত গ্রহণ করলে চঞ্চল এবং অদ্ভুদ বোধ করতে পারেন। যা একপর্যায়ে হ্যালুসিনেশন সৃষ্টি করতে পারে।

জায়ফলে মরিস্টিকিন নামক এক ধরনের জৈব যৌগ রয়েছে।
জায়ফলে মরিস্টিকিন নামক এক ধরনের জৈব যৌগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

কফি:

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত একটি সমীক্ষা সতর্ক করে দিয়েছে যে, প্রতিদিন পাঁচ কাপ কফি পান করলে নিজের স্বর নিজেই শুনতে পারেন। সহজ কথায় বলতে গেলে, অতিরিক্ত ক্যাফিন গ্রহণ শ্রবণ হ্যালুসিনেশনের কারণ হতে পারে।

অতিরিক্ত ক্যাফিন গ্রহণ শ্রবণ হ্যালুসিনেশনের কারণ হতে পারে
অতিরিক্ত ক্যাফিন গ্রহণ শ্রবণ হ্যালুসিনেশনের কারণ হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

স্টিলটন পনির:

সাদা পনির স্বাদ এবং সুগন্ধের জন্য সুপরিচিত। ২০০৪ সালে ব্রিটিশ পনির বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল যে, ৭৫% পুরুষ এবং ৮৫% নারী যারা ঘুমের আগে স্টিলটন পনির খেয়েছিলেন তারা অস্বাভাবিক এবং উদ্ভট স্বপ্ন দেখেছিলেন।

নীল ও সাদা পনির স্বাদ এবং সুগন্ধের জন্য সুপরিচিত
নীল ও সাদা পনির স্বাদ এবং সুগন্ধের জন্য সুপরিচিত। ছবি: সংগৃহীত

ম্যালবেরি:

অপরিষ্কার ম্যালবেরি পেট খারাপ করে এবং হালকা হ্যালুসিনেশনও সৃষ্টি করতে পারে। এই ফলের রস স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে।

এই ফলের রস স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে।
এই ফলের রস স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। ছবি: সংগৃহীত

পোস্তদানা:

পোস্তদানা হলো পপি বীজ থেকে প্রাপ্ত তেলবীজ। এতে সামান্য পরিমাণে মরফিনের উপস্থিতি থাকে যা হ্যালুসিনেশনের প্রভাব ফেলতে যথেষ্ট নয়। যদি এটি প্রচুর পরিমাণে গ্রহণ করা হয় তবে হ্যালুশিনেসন তৈরি করতে পারে।

অ্যাজটেকরা এই মাশরুমকে ‘ইশ্বরের শরীর’ বলে অভিহিত করে
অ্যাজটেকরা এই মাশরুমকে ‘ইশ্বরের শরীর’ বলে অভিহিত করে। ছবি: এনডিটিভি

ম্যাজিক মাশরুম:

ম্যজিক মাশরুমে সাইকোডিলিক যৌগ রয়েছে যেমন সিলোসাইবিন এবং সিলোসিন নামে পরিচিত। অ্যাজটেকরা এই মাশরুমকে ‘ইশ্বরের শরীর’ বলে অভিহিত করে। বহু বছর ধরে মধ্য আমেরিকায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ম্যজিক মাশরুম ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

রবিতে এটি 'স্বপ্ন তৈরি করে এমন মাছ' নামে পরিচিত
আরবিতে এটি 'স্বপ্ন তৈরি করে এমন মাছ' নামে পরিচিত। ছবি: সংগৃহীত

ব্রীম মাছ:

অদ্ভুদ শোনালেও প্রকৃতপক্ষে ব্রীম মাছ হ্যালুসিনেশনের কারণ হতে পারে। আরবিতে এটি 'স্বপ্ন তৈরি করে এমন মাছ' নামে পরিচিত। ব্রীম মাছ শৈবাল এবং প্লাঙ্কটনে পাওয়া ইন্ডোল নামক একটি পদার্থ খায় যা মাছের মাথার মধ্যে জমে থাকে। ফলে এই মাছ খেলে হ্যালুসিনেশন হতে পারে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি