স্বাস্থ্যকর তেল রাখুন প্রতিদিনের রান্নায়

ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইফস্টাইল
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নিত্যদিনের খাবার প্রস্তুতে তেল অনেক বড় একটি অংশ দখল করে আছে। এ কারণে খাবারের সাথে বেশ অনেকটা তেলও গ্রহণ করা হয়। এক্ষেত্রে রান্নায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় সয়াবিন তেল। যা পরিচিত ও সহলভ্য অন্যান্য সকল তেলের ভেতর। তবে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষক দল জানাচ্ছে, খাদ্যাভ্যাসে সয়াবিন তেলের ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এই তেল গ্রহণের সঙ্গে ওবেসিটি, ডায়াবেটিসসহ মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। নিজেকে সুস্থ রাখতে জানুন রান্না ও খাবারে ব্যবহারের জন্য স্বাস্থ্যকর তিন তেল সম্পর্কে।

নারিকেল তেল

oil

নারিকেল তেল এখন আর শুধুই চুলের পরিচর্যার অনুষঙ্গ নয়। কিটো ডায়েটের জন্য রান্নায় নারিকেল তেলের ব্যবহারের প্রচলন ও চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে অনেকটা। ৯০ শতাংশ স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও প্রাকৃতিক মিডিয়াম-চেইন ট্রাইগ্লিসারাইড পাওয়া যাবে বিশুদ্ধ নারিকেল তেল থেকে। বেশ কিছু গবেষণা থেকে দেখা গেছে, নারিকেল তেল রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধিতে কাজ করে। বেকিং কিংবা সতে করার জন্য নারিকেল তেল সবচেয়ে উপযুক্ত।

অলিভ অয়েল

কিটো ডায়েটের পাশাপাশি আরেকটি ডায়েট পাশ্চাত্যে দারুণ পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা পেয়েছে, দ্য মেডিটেরিয়ান ডায়েট। এই ডায়েটের ফলে ওজন কমার সঙ্গে শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকিও সমান হারে কমে আসে এবং জীবনীশক্তিও বৃদ্ধি পায় বলে দাবী করছেন বিশেষজ্ঞরা। মেডিটেরিয়ান ডায়েটের অনেক বড় একটি অংশই হল অলিভ অয়েল। অলিভ অয়েলের মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শুধু এই ডায়েটেই নয়, সাধারণ খাদ্যাভ্যাসের জন্যেও অনেক বড় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। ২০১৪ সালের একটি গবেষণার ফল থেকে দেখা গেছে, প্রাকৃতিক এই তেলের মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকরভাবে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। তবে অলিভ অয়েলে রান্না করতে হলে অল্প থেকে মাঝারে আঁচে রান্না করতে হবে, কারণ অলিভ অয়েলের স্মোকিং অয়েন্ট অন্যান্য তেলের তুলনায় বেশ কম। অর্থাৎ বাড়তি তাপে সহজেই এই তেল পুড়ে যায়।

তিলের তেল

oil

সিসেমি অয়েল তথা তিলের তেল থেকে একসাথে পাওয়া যাবে মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং খুবই অল্প পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট। এতে রয়েছে সিসেমল ও সিসামিন নামক শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। পরীক্ষা থেকে প্রমানিত, এই সকল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তচাপ কমাতে অবদান রাখে। বীজ থেকে তৈরিকৃত এই তেলটি প্রতিদিনের রান্নায় ব্যবহারের জন্য খুবই উপকারী। এছাড়া তিলের তেল রান্নায় বাড়তি স্বাদ ও গন্ধ যোগ করে খাবারকে লোভনীয় করে তোলে।

আপনার মতামত লিখুন :