রাস্তার অভাবে বিপাকে অর্ধ শতাধিক পরিবার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মানিকগঞ্জ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

শিক্ষা এবং চিকিৎসাসহ নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে গ্রাম থেকে শহরে পাড়ি জমায় সাধারণ মানুষ। পরিবার পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে শহরে জীবন যাপনের স্বপ্ন বিভোর প্রায় সকলেই।

তবে শুধুমাত্র যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় বিপাকে রয়েছে মানিকগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম সেওতা এলাকার অর্ধ শতাধিক পরিবারের কয়েকশ মানুষ। বন্যা এবং অতিবৃষ্টি হলেই সীমাহিন দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের।

মানিকগঞ্জ পৌরসভা থেকে রাস্তা নির্মাণের জন্য দুই বার অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় দুটি পরিবারের বাঁধার কারণে রাস্তা মেরামত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে অচিরেই এই সমস্যা সমাধানের দাবি জানান পশ্চিম সেওতার ভুক্তভোগি পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকা আরিচা মহাসড়ক থেকে পশ্চিম সেওতা এলাকা দিয়ে পিচ ঢালাই রাস্তা প্রবেশ করেছে শহর এলাকায়। ওই রাস্তা ধরে কিছুদুর সামনে গেলেই খবির মোল্লা এবং হাসেম মিয়ার বাড়ি। বাড়ি দুটির মাঝখান দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করেন পশ্চিম সেওতার পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দারা।

এই রাস্তা হয়েই যাতায়াত ওই এলাকার অর্ধ শতাধিক পরিবারের কয়েকশ মানুষের। তবে রাস্তাটি মূল রাস্তা থেকে অনেক নিঁচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি বা বন্যা হলেই দুর্ভোগে পড়তে হয় বাসিন্দাদের। পৌরসভায় কয়েক দফায় আবেদন করেও মুক্তি মিলেনি তাদের।

পশ্চিম সেওতা এলাকার বাসিন্দা ময়নাল হোসেন বলেন, শহরের প্রানকেন্দ্র বসবাস করেন তারা। তবে বাড়িটি একটু ভেতরে হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তির শেষ নেই। অল্প একটু রাস্তার জন্য সীমাহিন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

একই এলাকার হারুন-অর-রশিদ বলেন, খবির মোল্লা এবং হাসেম মিয়ার বাড়ির মাঝখানে যে অংশটুকু পায়ে হেটে চলাচলের জন্য রয়েছে সেখানে মাটি ফেলে রাস্তা নির্মাণের জন্য পৌরসভায় আবেদন করা হয়। তবে খবির মোল্লা এবং হাসেম মিয়া পরিবারের সদস্যরা রাস্তা নির্মাণে বাঁধা দেওয়ায় তা বিফলে যায়।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হাসেম মিয়া বলেন, তাদের নিজস্ব জমি থেকে তিন ফুট জমি ছেড়ে দিয়ে বাড়ির বাউন্ডারি করেছেন তারা। তবে পাশের বাড়ি থেকে রাস্তার জন্য জমি না রেখেই তারা বাউন্ডারি ও ভবন নির্মাণ করেছেন। যে কারণে পৌরসভা থেকে রাস্তা নির্মাণের কাজে তারা বাঁধা দিয়েছেন বলে জানান।

খবির মোল্লার ছেলে আজম হোসেন বলেন, তাদের জমি থেকে দুই ফুট জায়গা রেখে বাউন্ডারি ও ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নিজেদের রাখা জায়গায় পৌরসভা মাটি ফেললে রাস্তাটি সরকারি হয়ে যাবে। যে কারণে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাজে বাঁধা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ বলেন, পৌরসভা থেকে রাস্তাটি নির্মাণের জন্য দুই বার অর্থ বরাদ্দও দেওয়া হয়। তবে খবির মোল্লা এবং হাসেম মিয়ার পরিবারের সদস্যরা বাঁধা দেওয়ায় সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীরা নিজেদের সাথে আপোষ করে আসলে আগামী দুই মাসের মধ্যে পুনরায় ওই রাস্তা নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :