আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে বন্যার পানিতে ডুবে ১২ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

মাহিদুল মাহিদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাভার (ঢাকা)
ছবিঃ বার্তা২৪.কম

ছবিঃ বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চলমান দুর্যোগ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে যখন অসহায় গোটা জাতি, তখন নতুন করে দেশে হানা দিয়েছে বন্যা। এতে প্লাবিত হয়েছে সাভারের নিম্নাঞ্চলসহ ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকা। প্লাবিত এসব এলাকায় ১ সপ্তাহে পানিতে ডুবে ১২ জনের মৃত্যুসহ নিখোঁজ হয়েছে আরও দুই শিশু।

মৃতদের বেশির ভাগই ডিঙ্গি নৌকা উল্টে পানিতে ডুবে মারা গেছে। এদের মধ্যে কিশোর-কিশোরী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। তবে বৃদ্ধসহ ২৬ বছরের এক নারী বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায়।

বন্যার পানিতে ডুবে মৃতরা হলেন- ধামসোনা ইউনিয়নের উনাইল গ্রামের রাজমিস্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৬) ও তার ৪ বছরের শিশু সন্তান, ধামরাইয়ের ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের মান্দারচাপ গ্রামের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী শিফা (১৩) ও মীম (১২), ধামরাইয়ের সুয়াপুর ইউনিয়নের কুটিরচর গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে সোহাগ (৩), ধামরাইয়ের বাইল্লা গ্রামের মৃত রহমত আলীর ছেলে হাকিম আলি (৭০), ও তার নাতনি প্রবাসী জুলহাস আলীর মেয়ে মুন্নী (১১), আশুলিয়ার বলিভদ্র এলাকার আবুল হোসেনের মেয়ে আরফিন (১৭), মানিকগঞ্জ জেলার আব্দুল হামিদের মেয়ে পন্থি (১৩)। সে আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকায় ভাড়া থেকে লেখাপড়া করতো। এছাড়া কুষ্টিয়া জেলার আব্দুস সালামের ছেলে সুজন (১৭)। সে জিরানী বাজারের মাধপপুর এলাকায় ভাড়া থাকতো।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, ২৯ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়নের উনাইল গ্রামে সন্তানসহ নৌকাযোগে পার্শ্ববর্তী বাড়িতে যাওয়ার সময় নৌকা উল্টে পানিতে ডুবে যায় আছিয়া বেগম (২৬) ও তার দুই শিশু সন্তান। এর মধ্যে ৫ বছরের শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও আছিয়া ও তার ৪ বছরের শিশু সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

১ আগস্ট দুপুরে ধামরাইয়ের ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের বংশী নদীতে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে মোট ৫ শিক্ষার্থী নৌকা ভ্রমণে যায়। এসময় নৌকা উল্টে গেলে ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও মারা যায় শিফা (১৩) ও মীম (১২) নামের দুই শিক্ষার্থী।

৩ আগস্ট বিকেল ৬টার দিকে ধামরাইয়ের সুয়াপুর ইউনিয়নের কুটিরচর গ্রামের নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে বন্যার পানিতে ডুবে যায় সোহাগ নামের এক শিশু। এসময় তাকে উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

৪ আগস্ট দুপুরে ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের বাইল্লা এলাকায় চিকিৎসা শেষে নৌকা যোগে বাড়ি ফেরার সময় দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির কবলে পড়ে নৌকাটি উল্টে জুলহাস আলীর বাবা হাকিম আলী, সন্তান মুন্নী ও তার স্ত্রী পানিতে ডুবে যায়। এসময় হাকিম আলী ও মুন্নী মারা যায়। তবে জুলহাস আলীর স্ত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

ছবিঃ বার্তা২৪.কম

একই দিন দুপুরে ধামরাইয়ের সুয়াপুর ইউনিয়নের রৌহারটেক এলাকার বন্যার পানিতে নৌকায় করে ঘুরতে বের হয় শিক্ষার্থীসহ ৪ জন। এসময় বৃষ্টি ও বাতাস শুরু হলে ডিঙ্গি নৌকা উল্টে গিয়ে নৌকায় থাকা ৪ জন পানিতে ডুবে যায়। এদের মধ্যে দুই জন সাঁতার দিয়ে ডাঙ্গায় উঠতে পারলেও আফরিন ও পন্থি নামের দুই শিক্ষার্থী পানিতে ডুবে যায়। এদের মধ্যে আফরিনের মরদেহ উদ্ধার হলেও নিখোঁজ থাকে পন্থি। তবে পরদিন পন্থির মরদেহও উদ্ধার করা হয়। তারা বন্যার পানি দেখার জন্য ওই এলাকার আত্মীয়ের বাসায় গিয়েছিলেন।

এদিন আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের বড় রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় বন্ধুদের সাথে বন্যার পানিতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সুজন নামের এক শিক্ষার্থী। পরে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা অভিযান পরিচালনা করে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল।

এছাড়া ধামরাইয়ের হাজিপুর ব্রিজে বন্যার পানি দেখার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে গত ৩০ জুলাই থেকে নিখোঁজ রয়েছে সালেহুন সিদ্দিক সুফি (১৩) ও সাকরান সাজিদ সানি (৬) নামের দুই ভাই। তারা ঝিনাদহের মহেশপুরের বাথানগাছি গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। আব্দুর রাজ্জাক স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে ধামরাইয়ের পাঠানটোলা মহল্লার নাসিমের বাসায় ভাড়া থেকে মুন্নু সিরামিক কারখানায় চাকরি করেন।

এছাড়া শুক্রবার ৭ আগস্ট সকালে ধামরাইয়ের সুতিপাড়া ইউনিয়নের নওগাঁও গ্রামে বাড়ির পাশে খেলার সময় বন্যার পানিতে ডুবে আপিয়া আক্তার (২) ও সোমভাগ ইউনিয়নের দেপাশাই গ্রামে সোমা আক্তার (৩) নামের দুই শিশুর মৃত্য হয়।

এ ব্যাপারে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুর রিফফাত আরা সাঁতার না জানা সকলকে নিরাপদে ও নৌকা ভ্রমণ না করার আহবান জানিয়েছেন। এছাড়া শিশুদের প্রতি বাড়তি নজরদারির তাগিদ দেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :