‘এলপিজি প্রাইসিং ফর্মুলার বিষয়ে সুপারিশ দেবো’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

এটাই এলপিজির দাম নির্ধারণের চূড়ান্ত সভা নয়, আমরা সাজেশন দেবো তারপর চূড়ান্ত হবে। আমাদের রিপোর্টিংয়ে অনেক গ্যাপ আছে, সেই গ্যাপ পূরণ করার চেষ্টা আজকের মতবিনিময়। আপনাদের আরও কোনো সুপারিশ থাকলে এই সপ্তাহের মধ্যে মেইল করতে পারেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত এলপি গ্যাসের খুচরা মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় এমন মন্তব্য করেছেন কমিটির চেয়ারম্যান মকবুল ই-ইলাহী চৌধুরী।

তিনি আরও বলেন, এই কমিটি এলপিজির দাম চূড়ান্ত করবে না। আমরা ফর্মুলার বিষয়ে সুপারিশ দেবো। আপনাদের আরও অনেক পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মেইল করে পাঠালে আমরা সেগুলো যুক্ত করার চেষ্টা করবো।

এলপি গ্যাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেন, কতগুলো সিরিয়াস ইস্যু ঝুলে আছে। পেট্রোলিয়াম আইন (১৯৭৪) অনুযায়ী বিপিসির সঙ্গে চুক্তি করে মার্কেটিং করতে হবে। বিপিসির মার্কেটিং ফি দেই, আবার বিইআরসিকে বছরে ৫ লাখ টাকা দেই। এলপিজির মূল্য কে করবে, বিপিসি নাকি বিইআরসি। এই সংঘাত আগে দূর করতে হবে। বিইআরসি এমন কতগুলো ফি নির্ধারণ করেছে অনেকটা টেলকোগুলোর মতো।

অটোমেটেড প্রাইসিং ফর্মুলা করা যেতে পারে। প্রতিমাসে সিপি ঘোষিত হলে এখানে সে দরে বিক্রি হবে। না হলে যে অবস্থা রয়েছে অনেক অপারেটরের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। অনেকে কমমূল্যে বিক্রি করে লস দিচ্ছে। এই সেক্টরে এখন বিলিয়নের ওপর বিনিয়োগ রয়েছে। অশুভ প্রতিযোগিতায় অনেকে মুলধন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে মন্তব্য করেন আজম জে চৌধুরী।

প্রমিটা এলপিজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মজিবুর রহমান বলেন, প্রত্যেক মাসে প্রাইস হলে ভালো। কমিটির সঙ্গে অপারেটরদের প্রতিনিধি নেন তাহলে ভালো হয়। ভার্চুয়ালের পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব মেনে ফিজিক্যাল সভা হতে পারে। আমরা হোস্ট হতে পারি। প্রাইসিং জরুরি এতে জনগণ, সরকার এবং ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে।

এনার্জি এন্ড পাওয়ারের এডিটর মোল্লাহ আমজাদ হোসেন বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এলপিজি কোম্পানি লিমিটেড তাদের এলপিজির দাম ৬৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে। আদৌ কি ৬৫০ টাকা দামে কোথাও পাওয়া যায়। সরকার কি তাহলে ভোক্তাদের উষ্কাচ্ছে। এলপিজির কে রেগুলেটর, মন্ত্রণালয়, বিইআরসি নাকি বিপিসি। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে যারা পাইপলাইনে গ্যাস পাচ্ছে না। তাদের জন্য এলপিজিতে ভর্তুকি দিতে হবে। বিইআরসি ফেয়ার প্রাইসিং পলিসি করতে হবে। না হলে একটি নম্বর হলে কার্যকর কিছু হবে না।

ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, বিপিসি মূল্য নির্ধারণ করে। এটি বিইআরসির আইনের লঙ্ঘন, বিপিসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এতোদিন মন্ত্রণালয় বলেনি বলে, বিইআরসি প্রাইসিং করেনি। বিইআরসি মন্ত্রণালয়ের অধিদপ্তরে পরিণত হয়েছে।

টিএমএসএস চেয়ারম্যান ড. হোসনে আরা বেগম বলেন, ভারতের সঙ্গে অনেক কিছুতে মিল রয়েছে আমাদের। ভারত এলপিজিতে ভর্তুকি দেয়। বঙ্গবন্ধুর চেতনা হচ্ছে বৈষম্য দূর করা। আমাদের জ্বালানি খাতে বৈষম্য রয়েছে। কেউ পাইপলাইনে কম দামে গ্যাস পাচ্ছে। আবার বিপুল শ্রেণি চড়া দামে এলপিজি ব্যবহার করছে। যারা লাইনে গ্যাস পাচ্ছে না তাদের কথা একটু ভাবেন। তাদেরকে ভর্তুকি দিয়ে এলপিজি সরবরাহ করা দরকার।

প্রফেসর ড. নুরুল ইসলাম বলেন, শুধু এলপিজি নিয়ে চিন্তা করাটা খন্ডিত চিন্তা হচ্ছে। ন্যাচারাল গ্যাসের মিটার গোষ্ঠী, মিটার ছাড়া একটি গোষ্ঠী, আরেকটি গোষ্ঠী হচ্ছে এলপিজি ব্যবহারকারী। আবার কেউ কেউ বিদ্যুতে রান্না করছে। আমি মনে করি ন্যাচারাল গ্যাসের পাইপ লাইনে ভোক্তাদের মূল্য বাড়িয়ে এলপিজিতে ভর্তুকি দেওয়া উচিত।

প্রফেসর বদরুল ইমাম বলেন, ২০১৭ সালে দুর্ঘটনায় ৮১ জন ২০১৮ সালে ১৫ জন মারা গেছে। সিলিন্ডার স্ট্যাডার্ড মেইনটেইন করা জরুরি। যারা মেনে চলবে না তাদের লাইসেন্স বাতিল করা যেতে পারে।

বেক্সিমকো এলপি গ্যাসের সিইও মৃণাল রায় বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের মিলবে না। তাদের পাবলিক সেক্টর এটি নিয়ন্ত্রণ করছে। আমাদের মংলা এবং চট্টগ্রামের পরিবহন খরচ তারতম্য রয়েছে। চট্টগ্রামে বড় জাহাজ ভিড়তে পারে। অনেকগুলো ফ্যাক্টর বিবেচনায় নিতে হবে। একটি সিলিং করা যেতে পারে যে, এর থেকে কমে এবং এর থেকে বেশি দামে বিক্রি করা যাবে না। সরকারের পক্ষ থেকে ফলোআপ করা হবে। না হলে অনেক কোম্পানি টিকতে পারবে না।

বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের প্রতিনিধি জাকারিয়া জালাল বলেন, সিলিন্ডারে শতকোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। সিলিন্ডার তৈরিতে খরচ হচ্ছে ২ হাজার টাকার মতো। আর মার্কেটে ছাড়া হচ্ছে ৮’শ টাকায়। এই ভর্তুকি সরকার দিচ্ছে না।

ড. মজিবুর রহমান বলেন, ভারতের বায়ার এবং ডিস্ট্রিবিউটর সরকার। তাই তাদের সমস্যা নেই, যেমন বাংলাদেশের পেট্রোলের ক্ষেত্রে কোনো প্রশ্ন উঠছে না। আমাদের ব্যবসায়ীদের ৫ টাকা প্রফিট দিলে আমরা অনেক খুশি। আমরা বহু মিটিংয়ে দাম নির্ধারণ করার চেষ্টা করেছি লাভ হয় নি।

বিন হাবিব বিডি এমডি সালমান বলেন, ২০১৭ সালে নীতিমালায় স্টোরেজ ক্যপাসিটি ৫ হাজার মেট্রিক টন করা হয়েছে। যা আগের নীতিমালায় ছিল না। বিষয়টি আদালত আটকে দিয়েছে তবুও কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করা হচ্ছে। অতি বিনিয়োগের কারণে অনেকেই ঋণ খেলাপির দ্বার প্রান্তে।

জেএমআই ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক, আজিজুল ইসলাম, ড. জেনিফার হাকিম লুপিন, ড. নিলুফার বানু বলেন, রুমানা ইয়াসমিন প্রমুখ আলোচনায় অংশ বিইআরসির উপ-পরিচালক (ট্যারিফ) কামরুজ্জামান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।