আমরা তরুণ প্রজন্মের কথা শুনতে প্রস্তুত: রাদওয়ান মুজিব

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ সাময়িকী 'হোয়াইটবোর্ড'র যাত্রা শুরু হয়েছে। এখানে দেশ ও দেশের বাইরে যারা বিভিন্ন বিষয়ে অবদান রাখছেন তারা তাদের অর্জনগুলো তুলে ধরতে পারবেন। শুধু ইতিবাচক দিকই না, কোনো নেতিবাচক দিক থাকলেও তাদের মতামত প্রকাশ করার সুযোগ থাকবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কথা শুনতে উন্মুক্ত হোয়াইটবোর্ড। বিগত দশ বছরে প্রতিষ্ঠালগ্নের নীতিতে ফিরে যাওয়া বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়নে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র এবং সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)-এর ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পলিসি ম্যাগাজিন হোয়াইটবোর্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা রাদওয়ান মুজিব আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার 'সবাইকে নিয়ে চলো' নীতি বঙ্গবন্ধুই প্রথম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি এই ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক। আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ এই সাময়িকী 'হোয়াইটবোর্ড' নিয়ে এসেছে।

হোয়াইটবোর্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের মেধাবীদের জন্য একটি অবস্থান তৈরি হবে। পাশাপাশি বিদেশে থেকে বাংলাদেশের জন্য কাজ করে যাওয়া মানুষগুলোর জন্যও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কাজ করে যাবে হোয়াইটবোর্ড। সদ্য চালু হওয়া পলিসি ম্যাগাজিন হোয়াইটবার্ড নীতিনির্ধারকদের সর্বদা 'সুষম উদ্দেশ্যমূলক ও স্পষ্ট বার্তা' দেবে বলে জানিয়েছেন এর সম্পাদক-রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক।

ম্যাগাজিনটি মূলত তরুণদের জন্য এমন জানিয়ে রাদওয়ান মুজিব বলেন, 'আমরা আমাদের মূল পাঠক তরুণদের কথা শুনতে সর্বদা প্রস্তুত।'

তিনি বলেন, হোয়াইটবোর্ড উজ্জ্বল মনের জায়গা তৈরি করবে শুধু বাংলাদেশেই নয়। দেশের বাইরেও অনেক ভালো করছেন, নাম করছেন, ওনারা যেন একটু স্পেস পায় সেদিকে খেয়াল রেখেই এই হোয়াইটবোর্ড। বাংলাদেশের কেউ হয়তো নাসায় রোবট বানাচ্ছে, আবার কেউ হয়তো অন্য কোনো দেশে ভ্যাকসিন বের করছে। ওনাদের কথাগুলো আমরা শুনব। ওনাদের মেধাটা কাজে লাগিয়ে নীতি নির্ধারকদের কাছে তুলে ধরা হবে।

এখনই কেনো হোয়াইটবোর্ডের আত্মপ্রকাশ এর ব্যাখ্যায় এডিটরস নোটে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক লেখেন, 'আমরা এখন কেনো এই উদ্যোগ নিলাম? কারণ তরুণদের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ এখন দ্রুত উন্নতি করছে এবং নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ৩০ শক্তিশালী অর্থনৈতিক দেশের তালিকায় স্থান পেতে চায় বাংলাদেশ। কিন্তু আমাদের দেশে কী হচ্ছে তার তথ্য নির্ভর কোন বিশ্লেষণ নেই।'

আর সে কারণেই হোয়াইটবোর্ড যাত্রা শুরু। দেশে ও দেশের বাহিরে থাকা শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রফেশনাল, নীতি নির্ধারক ও বাস্তবায়নকারীদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করবে হোয়াইটবোর্ড। এখানে অর্থনীতি থেকে শুরু করে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা, টেকনোলজিকাল উদ্ভাবন থেকে শুরু করে তরুণদের কর্মসংস্থান সবকিছু নিয়ে তথ্য নির্ভর বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করা হবে। সেখানে কিছুই বাদ যাবে না।

এর প্রথম সংখ্যায় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে গড়ার জন্য নেয়া নীতি নির্ধারণ ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ সাময়িকী 'হোয়াইটবোর্ড'র যাত্রা শুরু

বঙ্গবন্ধুর নেয়া নীতি নির্ধারণগুলো এখনো কিভাবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখছে তা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক বলেন, বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশ তার জন্মলগ্নের কিছু নীতি নির্ধারণীতে ফিরে গেছে যার মধ্যে একটি ছিলো 'বন্ধুত্ব সবার তরে, কারো প্রতি শত্রুতা নয়'। এর ফলে অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

সিআরআই সূত্রে জানা যায়, এর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের ১৬ সদস্যকে হত্যার পর তার প্রশাসনকে নিয়ে প্রচারিত ভ্রান্ত ধারণাগুলোর দূর হয়েছে এবং সত্য প্রকাশিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অসাধারণ সব অর্জনের কাছে তার প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনাগুলো বেশ ম্লান মনে হলেও সেগুলো সম্পর্কে বর্তমানের নীতি নির্ধারক ও তরুণদের জানা প্রয়োজন।

এই ম্যাগাজিন নিয়ে কাজ করা প্রতিটি মানুষ এই লক্ষ্য সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখে। ম্যাগাজিনের প্রথম সংখ্যায় প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান, মানবাধিকার কর্মী জুলিয়ান ফ্রান্সিস এবং সাংবাদিক সৈয়দ বদরুল আহসান, অধ্যাপক শামস রহমান এবং রাষ্ট্র বিজ্ঞানী রওনক হাসানের মত মানুষের লেখা স্থান পেয়েছে।

এবারে ম্যাগাজিনে 'ইমারজিং ফ্রম দ্য ভিলেজ টু মার্ক অ্যা নিউ কান্ট্রি অন দ্য ম্যাপ', ‌'মুজিব'স ইকোনমিক পলিসিস অ্যান্ড দেয়ার রিলিভেন্স টুডে', ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট থ্রু পলিটিকাল স্ট্যাবেলিটি', "জাস্ট লাইক টুডেস প্রোগ্রেসিভ পলিটিক্স", 'বাকশাল ওয়াজ সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক ইন ন্যাচার', 'বাংলাদেশ'স কনস্টিটিউট অব ১৯৭২: অ্যান এক্সপোজিশন অব মুজিবস পলিটিকাল ফিলসফি', হাউ মুজিব কো ম্যানেজড অন অব দ্য লার্জেস্ট রিলিফ অপারেশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড', 'ফ্রেন্ডশিপ টুওয়ার্ডস অল ওয়াজ অ্যা মাস্টারস্টোক' এবং 'মুজিবস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পলিসি অ্যাকশন টাইমলাইন' শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

এছাড়াও বিস্তারিত এক সাক্ষাৎকারে সৈয়দ বদরুল আহসান বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) নিয়ে তৈরি হওয়া ভুল ধারণাগুলোর ওপর আলোকপাত করেন। 'বাকশাল শব্দটি অনেক সমালোচিত বা মর্যাদাহানীকরভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু এটিকে বঙ্গবন্ধুর লালন করা দ্বিতীয় বিপ্লব হিসেবে বর্ণনা করা উচিত। মুজিবুর রহমানের প্রথম বিপ্লব ছিলো মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ। আর দ্বিতীয় বিপ্লবটি ছিলো দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অগ্রগতির। তিনি এভাবেই বিষয়টিকে দেখেছিলেন।'- সাক্ষাৎকারে এভাবে বাকশাল নিয়ে কথা বলেন সৈয়দ বদরুল।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সামিয়া হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ম্যাগাজিনের সহ-সম্পাদক সৈয়দ মফিজ কামাল।