পাতকুয়া ও লো-লিফট পাম্পে ভাগ্য বদলাচ্ছে চরবাসীর



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) লো লিফট পাম্প (এলএলপি) ও পাতকুয়া স্থাপনে এখন পদ্মার চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে। পবার হরিপুরের চরমাঝারদিয়াড়ে এরই মধ্যে এই সেচের আওতায় চাষিরা সবজিসহ ফলের আবাদে ঝুঁকছে।

পদ্মা নদী থেকে এই এলএলপির মাধ্যমে চর এলাকার তিনশ থেকে পাঁচশ বিঘা জমিতে সেচ সুবিধা পাবে চাষিরা। এছাড়াও প্রতিটি পাতকুয়া থেকে সেচ দিয়ে সবজি আবাদ করা যাবে ৩০-৩৫ বিঘা জমিতে।

বিশেষ করে পাতকুয়া থেকে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ পাচ্ছেন কৃষক পরিবার। এছাড়াও পতিত কৃষি জমিতে সেচ দিয়ে চাষাবাদ করতে পারছেন তারা। ফলে একদিকে যেমন বিশুদ্ধ খাবার পানি পাচ্ছেন এবং অন্যদিকে সবুজ হচ্ছে পতিত জমি। আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষক।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চরমাঝারদিয়াড়ে একটি এলএলপি ও ছয়টি পাতকুয়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন। প্রায় সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এসব পাতকুয়া ও এলএলপি। যা সম্পূর্ণ সোলার সিস্টেমে (সৌর বিদ্যুতে) চলবে।

পদ্মা নদীর ওপারে হওয়ায় চর মাঝারদিয়াড়ে এতদিন সুপেয় ও সেচের পানির জন্য গ্রীষ্মকালে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হতো চর এলাকার মানুষের। তবে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পাতকুয়া থেকে পানি পাওয়ায় সেই চর অঞ্চলে এখন পানির সমস্যার সমাধান হয়েছে।

তারা এখন জমিতে বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, লাউ, মরিচ চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, টমেটো, আলু, আবাদের জন্যও পানি পাচ্ছে চর অঞ্চলের মানুষ। সবজির পাশাপাশি তারা ফলের আবাদে মেতেছে। বিশেষ করে আম, পেয়ারা ও কলা চাষ করছেন। চরের এই বিষমুক্ত ফলের চাহিদা, মান ও দাম সবই বেশী। চাষিরা এখন সবজির পাশাপাশি ফলের আবাদ করে লাভবান হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বজলে রেজবি আল হাসান মুঞ্জিল জানান, চরাঞ্চলে খাবার পানির সমস্যা প্রকট ছিলো। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে পানি পাওয়া যেত না। হাতকলেও তেমন পানি মিলতো না। এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। এলএলপি ও পাতকুয়া স্থাপনে তাদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। পাতকুয়ার কারণে সহজেই মিলছে খাবার বিশুদ্ধ পানি। আবার চাষাবাদও হচ্ছে।

বিএমডিএ রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী (এসডাব্লুউআইপি) শরীফুল হক বলেন, পাতকুয়া ব্যবহারের সুফল অনেক। এটি ব্যবহারে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে।

তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলে যত বেশি গভীর নলকূপের ব্যবহার কমানো যায় ততই ভাল। এছাড়া খরার সময় খরা প্রবণ এলাকায় স্বল্প সেচের ফসল উৎপাদন ধরে রাখা যায়। বিশেষ করে আগাম শিম, লাউ, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, পেঁপে, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, আলু, করলা, শসা এসবের আবাদের জন্য এখন পাতকুয়া নির্ভরশীল হয় উঠেছে। প্রতিটি পাতকুয়ায় ব্যয় হয়েছে ১৩ লাখ টাকা এবং একটি এলএলপিতে ব্যয় হয়েছে ৪৫ লাখ টাকা