শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আরো বাড়ছে: শিক্ষামন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আরো বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় করোনাকালীন শিক্ষার বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

ছুটি বাড়বে কিনা এ বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ছুটি বাড়ছে। ছুটি বাড়াতে তো হবেই। শীঘ্রই তারিখটা জানিয়ে দেবো।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে গাইডলাইন তৈরির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের ঠিক করাই আছে যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবো তখন কিভাবে খুলবো। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েরও দিক নির্দেশনা রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর কেউ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এসে আক্রান্ত না হয়ে বাইরে হলেও কিন্তু বলা হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার কারণেই হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীর সুরক্ষা নিশ্চিত করে তাদের শিক্ষার বিষয়ে নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেই আমরা নজর দিচ্ছি। সকল অভিভাবক শিক্ষার্থী সবাই এটি নিয়ে ভাবছে।

বার্ষিক পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, বার্ষিক পরীক্ষা, আগামী এসএসসিসহ অনেক পরীক্ষা নিয়েই সবার প্রশ্ন আছে। কিন্তু এই পরীক্ষা নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। শীঘ্রই এটি আমাদের একটি সভা আছে, সেখানে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আমরা এখন নানান অপশন নিয়ে ভাবছি, কোন পরীক্ষা না নিয়ে অটোপ্রমোশন দেয়া; আবার পরীক্ষা নিয়ে প্রমোশন দেয়া। আমরা সব বিষয় নিয়েই কাজ করছি। শীঘ্রই এ বিষয়ে জানাতে পারবো। আমরা সব দেশের পরিস্থিতিই দেখছি।

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে তিনি বলেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ক্ষেত্রে আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সবার স্বাস্থ্যবিধির দিকে নজর রেখে সব করছি। একইসাথে শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকেও নজর রাখছি। সব দিক বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনার সময়ে ধাপে ধাপে আমরা ছুটি বাড়িয়েছি। এটি ছাড়া তো সম্ভব ছিলো না। ধাপে ধাপে বাড়ানো ছাড়া একসাথে অনেক ছুটি বাড়ানোর যুক্তি নেই। শিক্ষার্থীরাতো অনলাইনে পড়াশুনা করছেন, তাদের শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ আছে। আমরা চাই দ্রুত সব ঠিক হোক, দ্রুত আমরা স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে চাই

"ও" লেভেলের পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, "ও" লেভেলের প্রতিদিন ১৮০০ পরীক্ষার্থী। সেখানে মোট ৬ হাজার শিক্ষার্থী। তাদের ৩৫টির বেশি পরীক্ষা কেন্দ্রে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের কাজ করা অনেক সহজ হবে। তাদের সব শর্তই দেয়া হয়েছে। এবং যারা অক্টোবরের মধ্যে দিতে না পারবে, নারা মে মাসের আগে আর দিতে পারবেন না।

কওমির ক্ষেত্রে বলেন, কওমি মাদরাসা খোলার বিষয়ে একটি অন্যতম বিষয় তারা অনেকটাই আবাসিক। তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর কথা জানিয়েছে। সেজন্যই তারা আমাদের কাছ থেকে অনুমতি পেয়েছেন। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার স্বার্থে তাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে। যাতে কোন সমস্যা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে অনেক সমস্যা হয়। সারাদেশে এতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তাদের অনেক ধরনের সমস্যা থাকে। এটি নিয়ে একটি নীতিমালা হচ্ছে। সেটি চূড়ান্ত করতে একটি সংসদীয় উপকমিটি করে দেয়া হয়েছে। তারা ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি চূড়ান্ত করতে পারবেন।

এমসি কলেজের বিষয়ে তিনি বলেন, এমসি কলেজের সেই ঘটনাটি আমরা খতিয়ে দেখছি। ঘটনা ঘটার সাথে সাথে আমরা সব ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ ধরনের পরিস্থিতির যেন উদ্ভব না ঘটে সেজন্য আমাদের করণীয় কি, সেটি নিয়ে কাজ করছি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম বিষয়ে তিনি বলেন, যারা নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাচ্ছে না তাদের আমরা বার বার তাগাদা দিচ্ছি। কেউ কেউ ইতোমধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে গেছে। তবে কারো বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সেটি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান সংযুক্ত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, করোনার কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি আছে।