কালিগঙ্গা নদী রক্ষা বাঁধ ভাঙনে দিশেহারা শহরবাসী

খন্দকার সুজন হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মানিকগঞ্জ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দু’দফা বন্যার পর ফের পানি বাড়ছে মানিকগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কালিগঙ্গা নদীতে। এতে করে নদীটির বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে ভাঙনের। যার প্রভাব পড়েছে কালিগঙ্গা নদীর শহর রক্ষা বাঁধেও। বাঁধটিতে ভাঙনের ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে শহরবাসী।

কালিগঙ্গা নদীর ভাঙন রোধে প্রায় ১০ বছর আগে ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এতে করে ভাঙন কবল থেকে সাময়িকভাবে রক্ষা পায় শহরবাসী। তবে ফের দ্রুত গতিতে ভাঙন শুরু হওয়ায় বিপাকে পড়েছে প্রায় হাজার খানেক পরিবার। দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই বাঁধটি নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর।

মানিকগঞ্জ শহরের বোয়ালিয়া এলাকার আলম মিয়া বলেন, কালিগঙ্গা নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণের পর থেকে বেশ নিরাপদে থাকলেও সম্প্রতি বাঁধে ভাঙন শুরু হওয়ায় এখন দিশেহারা অবস্থায় দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। প্রায় সপ্তাহ খানেক ধরে বাঁধে ভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ে বাঁধ রক্ষা না করা হলে বসত ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হবে বলে জানান তিনি।

ছবি: বার্তা২৪.কম

একই এলাকার সেতু আক্তার নামে এক গৃহিনী বলেন, বসত ভিটা ছাড়া তাদের আর দাঁড়ানোর জায়গা নেই। যেকোন মুহূর্তে নদী গর্ভে বিলীনের পথে তাদের বসত ভিটা। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী দিশেহারা। ভাঙন আতংকে সারারাত নির্ঘুম কাটে। ভাঙনের হাত থেকে এলাকাবাসীদের রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

শাহজাহান মিয়া নামে এক এলাকাবাসী বলেন, কালিগঙ্গা নদীর শহর রক্ষা বাঁধে ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। এলাকাবাসীর আয়োজনে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করে বাঁশ ও মাটির বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করা হলেও তা কোন কাজেই আসেনি।

এছাড়া নদী দিয়ে দিন-রাতভর ছোট বড় বিভিন্ন ধরণের নৌযান চলাচল করে। নদী দিয়ে নৌযানগুলো যাতায়াতের পর পানির ঢেউ এসে সরাসরি ভাঙনে আঘাতের ফলে আরও বেশি ক্ষতি হচ্ছে। কাজেই দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধটির ক্ষতিগ্রস্থ অংশ মেরামত না করা হলে প্রায় হাজার খানেক বসত ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ছবি: বার্তা২৪.কম

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইনুদ্দিন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ২০১০-১১ অর্থ বছরে শহরের বান্দুটিয়া থেকে বোয়ালিয়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

সম্প্রতি কালিগঙ্গা নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বোয়ালিয়া ও আশেপাশের বেশ কয়েকটি স্থানের বাঁধে ভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ রক্ষার জন্য মেরামত কাজ শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।