যে পদ্ধতিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি প্রতীকী।

ছবি প্রতীকী।

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনায় স্থগিত থাকা এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সরাসরি গ্রহণ না করে এসএসসি এবং জেএসসির ফলাফলের গড় ভিত্তিতে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে সরাসরি কোনো পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের। তবে মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে একটাই প্রশ্ন কোন প্রক্রিয়ায় এই মূল্যায়ন হবে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এমন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি অনেকটাই পরিষ্কার করেছেন তিনি।

তিনি জানিয়েছেন, জেএসসি ও সমমান এবং এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে বিষয়ভিত্তিক গড় নম্বর দিয়ে ফলাফল তৈরি করা হবে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের। বিষয়ভিত্তিক গড় নম্বরের ভিত্তিতে ফলাফল তৈরি করে ডিসেম্বরে ফল প্রকাশ করা হবে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সব বিষয় রাখা হবে। কোনো বিষয় বাদ দেয়া বা নম্বর কমিয়ে মূল্যায়ন করা হবে না।

শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, ‘বিষয় কমিয়ে কিংবা সিলেবাস কমিয়ে হয়তো পরীক্ষা নেয়া যায়, কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকের প্রতিটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যে বিষয় কমিয়ে নেব, সেই বিষয়টিতে হয়তো কোনো পরীক্ষার্থীর ভালো প্রস্তুতি ছিল। পরীক্ষা নেয়া শুরু হলে পরীক্ষার্থী বা তার পরিবারের কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে কী হবে? এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় কী করা হয়েছে তা আমরা দেখেছি। বেশিরভাগ জায়গায় পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে বা এখনও স্থগিত রয়েছে। আমাদের কাছে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সরাসরি গ্রহণ না করে একটু ভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরীক্ষা না নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পরীক্ষা বোর্ডগুলোর জন্য একেবারেই নতুন। ফলে কীভাবে মূল্যায়ন করা হলে ফলাফল দেশে ও বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করবে এবং শিক্ষার্থীদের পরবর্তী জীবনে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে কিনা সে বিষয়গুলোও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা দুটি পাবলিক পরীক্ষা অতিক্রম করে এসেছে, জেএসসি ও এসএসসি। সেই দুটি পরীক্ষায় তাদের ফলাফল নির্ধারণ করে এইচএসসির মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ’

তিনি আরও জানিয়েছেন, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য অনুষ্ঠিত টেস্ট পরীক্ষার ফল গ্রহণ করা হবে না। জেএসসি ও এসএসসি দুটি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের গড় করেই এইচএসসির মূল্যায়ন করা হবে। পরীক্ষায় যতো ভালো প্রস্তুতি থাকে টেস্টে অতো ভালো প্রস্তুতি থাকে না। এই মুহূর্তে টেস্টের ফলাফল নিতে গেলে নানা সমস্যা হতে পারে। আমাদের হাতে তো দুটি পরীক্ষার ফলাফল রয়েছে, সে কারণেই এই দুটি ফলাফলের উপর ভিত্তি করে এই ফলাফল দিতে যাচ্ছি।’

যেসব শিক্ষার্থীরা গ্রুপ পরিবর্তন করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন তাদের মূল্যায়ন কীভাবে হবে তা নিরূপণে একটি কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই কমিটিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা প্রতিনিধি থাকবেন। ওই কমিটি মূল্যায়নের পদ্ধতি বের করে মূল্যায়ন করবে। আন্তর্জাতিক মানের মূল্যায়ন ফলো করে বিশেষজ্ঞরা কীভাবে মূল্যায়ন করতে হবে তার সুপারিশ করবেন।

উল্লেখ্য, দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৭৯ হাজার ১৭১ জন। অনিয়মিত পরীক্ষার্থী রয়েছেন ২ লাখ ৬৬ হাজার ৫০১ জন। এবার এক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ ১ লাখ ৬০ হাজার ৯২৯ জন, দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ ৫৪ হাজার ২২৪ জন এবং সকল বিষয়ে অনুত্তীর্ণ ৫১ হাজার ৩৪৮ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন। নিয়মিত-অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর বাইরে প্রাইভেট পরীক্ষার্থী রয়েছেন ৩ হাজার ৩৯০ জন। মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী রয়েছেন ১৬ হাজার ৭২৭ জন।