বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার দুটোই কম: প্রধানমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

  • Font increase
  • Font Decrease

মানবতার সেবা করাই একজন চিকিৎসকের প্রথম ও প্রধান কাজ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আশা করি যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনারা (চিকিৎসক) আপনাদের দায়িত্ব ভুলে যাবেন না।

তিনি বলেছেন, আমাদের প্রচেষ্টা এবং চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমই পারে বাংলাদেশে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে। আমাদের সৌভাগ্য বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার দুটোই কম।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট আয়োজিত ‌‌‘ক্রিটিকাল কেয়ার-২০২০' শীর্ষক প্রথম আন্তর্জাতিক ই-সম্মেলনে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভার্চুয়াল এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার রেকর্ডেড বক্তব্যে বলেন, চিকিৎসা একটি মহান পেশা। একজন অসুস্থ মানুষের সেবা করে একজন চিকিৎসক মূলত মানবতার সেবা করেন। সুতরাং আপনি যখন ডাক্তার হবেন, আপনার প্রথম ও প্রধান কাজ হবে মানবতার সেবা করা। আশা করি যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনারা আপনাদের দায়িত্ব ভুলে যাবেন না।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টার সঙ্গে চিকিৎসকসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের শ্রম ও ত্যাগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা এবং চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমই পারে বাংলাদেশে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে। আমাদের সৌভাগ্য বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার দুটোই কম। আশা করি আগামী দিনগুলোতে এই মহামারির আরও বিস্তার রোধ করতে সক্ষম হব আমরা।

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার চিকিৎসক এবং ৫ হাজার নার্সসহ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগসহ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

করোনা মহামারি মোকাবিলায় দায়িত্বপালনকালে মারা যাওয়া চিকিৎসকদের ত্যাগের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও স্বজন হারানো পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।

দেশের স্বাস্থ্য সেক্টরের উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্য সেবা উন্নত করতে আমার সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই আমরা শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে, ডাক্তার ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনসহ চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ করেছি।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে আমরা দেশে বেশ কয়েকটি নতুন বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করেছি। আমাদের শক্তিশালী বেসরকারি সেক্টরও চিকিৎসা সেবা প্রদানে এগিয়ে এসেছে। গ্রামের মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদানে আমরা প্রায় ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র করেছি। সেখানে ৩০ প্রকার ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করছে সরকার।

অ্যানেস্থেসিওলজির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্জারির আগে, চলাকালীন সময়ে ও পরে রোগীদের পেরিওপারেটিভ যত্নের সঙ্গে অ্যানেস্থেসিওলজির বিষয়ে সর্বত্রই বিশেষ মনোযোগ বাড়ছে। এর কারণ এর আওতায় অ্যানেস্থেসিয়া, নিবিড় যত্নের ওষুধ, ক্রিটিক্যাল জরুরি ওষুধ ও ব্যথার ওষুধ। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। আমরা তাদের অবদানকে যথাযথ ভাবে স্বীকৃতি দেব।

তিনি বলেন, সংকটাপন্ন রোগীদের ম্যানেজমেন্টের পাশাপাশি অ্যানেস্থেসিওলজিস্টরা অপারেশন থিয়েটারে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কোভিড-১৯ মহামারিতে আমাদের অ্যানেস্থেসিওলজিস্টরা আইসিইউতে এবং আইসিইউ'র বাইরের কোভিড-১৯ রোগী ম্যানেজমেন্টে দুর্দান্ত কাজ করে চলছেন।

গুরুতর রোগীদের সেবায় সর্বশেষ জ্ঞান ও প্রযুক্তি দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত রাখতে অ্যানেস্থেসিওলজিস্টদের প্রতি অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট সোসাইটি ‌কোভিড আইসিইউ ম্যানেজমেন্টে জাতীয় নির্দেশিকা প্রস্তুত করতে সহায়তা করেছে। তারা সারাদেশে আইসিইউ সেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং করোনা রোগী ম্যানেজমেন্টে আইসিইউ ডাক্তার এবং স্টাফদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে।