দাম বেশি, তবুও চাহিদা বেড়েছে ডাবের

হাসান মাহমুদ শাকিল, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরে করোনাকালীন ডাবের প্রচুর চাহিদা বেড়েছে।

লক্ষ্মীপুরে করোনাকালীন ডাবের প্রচুর চাহিদা বেড়েছে।

  • Font increase
  • Font Decrease

লক্ষ্মীপুরে করোনাকালীন ডাবের প্রচুর চাহিদা বেড়েছে। তবে কমে গেছে নারিকেল উৎপাদন। গেল বছরও এ জেলায় প্রায় সাড়ে ৩শ কোটি টাকার নারিকেল উৎপাদন হয়েছে। আর এবার প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ডাব বিক্রি করেছে সংশ্লিষ্টরা। প্রতিটি ডাব ৩৫-৪০ টাকা দরে কিনে পানি পান করছে তৃষ্ণার্তরা। তবে দাম বেশি হলেও গরমে ক্লান্তি দূর করতে তৃষ্ণার্তদের কাছে ডাব সবচেয়ে বেশি নিরাপদ।

সম্প্রতি সদরের দালাল বাজার, রায়পুরের হায়দরগঞ্জ, রামগঞ্জের পানপাড়াসহ কয়েকটি বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, করোনাকালীন ডাবের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ডাব প্রাকৃতিক কোমল পানীয়। এজন্য ডাবের পানি পানে সবার চাহিদা বেশি। দাম বেশি হলেও মানুষের কাছে ডাবের চাহিদা বেশি ছিল।

লক্ষ্মীপুর শহরের কয়েকজন ডাব ব্যবসায়ী জানান, প্রতিটি মানুষের কাছেই ডাবের চাহিদা রয়েছে। তবে এ বছর করোনাকালীন ডাবের চাহিদা দ্বিগুণ বেড়েছে। বেশি দামেও চাহিদা কমেনি। বাজারে বাজারে ভ্যানে করে ডাব বিক্রি করা হচ্ছে। বিভিন্ন ফলের দোকানেও ডাব বিক্রি করতে দেখা যায়। আর এ জেলার ডাব ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ পিস ডাব বিক্রি হয়। প্রতিটি ডাব ৩০-৩৫ টাকা দরে বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ টাকার ডাব বিক্রি হয় এ জেলায়। ব্যবসায়ীরা স্থানীয়ভাবে ডাব সংগ্রহ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামে রপ্তানি করেন। এ বছর প্রায় ৪শ কোটি টাকার ডাব বিক্রি হয়েছে।

সদর উপজেলার দালাল বাজার এলাকার ডাব বিক্রেতা রবিউল ইসলাম ও সালেহ উদ্দিন জানান, ডাব ৩০-৩৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। প্রতিটি ডাবে বিক্রেতার ৫-১০ টাকা লাভ থাকে। আর চাহিদা থাকায় সহজেই বিক্রি করা যায়।

শহরের চকবাজার এলাকায় ডাব বিক্রেতা কাশেম হাওলাদার জানান, তিনি ৬০টি ডাব নিয়ে বের হয়েছেন। ৫০টি ডাব তিনি বিক্রি করতে পেরেছেন। প্রতিটি ডাব ৩৫ টাকা করে বিক্রি করেছেন। ডাবগুলো তিনি দালালবাজার ও চররুহিতা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে কিনে আনেন। প্রতিটি ডাব কৃষকের কাছ থেকে কেনা ও গাছ থেকে পাড়া পর্যন্ত ২০-৩০ টাকার মতো খরচ হয়।

চকবাজার এলাকার পোশাক ব্যবসায়ী রাকিব হোসেন জানান, প্রচণ্ড গরমে ডাবের পানি আরামদায়ক। আর এটি শরীরের জন্যও নিরাপদ। তবে দামি বেশি।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা আবুল হোসেন জানান, চাহিদা বেশি থাকায় জেলায় ডাব বিক্রি বেড়েছে। চাহিদা ও দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকরা ডাব বিক্রিতেই প্রাধান্য দিচ্ছে। এ জেলায় প্রতি বছর ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ কোটি টাকার নারিকেল বিক্রি হয়। কিন্তু এবার প্রায় ৪শ কোটি টাকার ডাব বিক্রি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।