বগুড়ায় সরকার নির্ধারিত ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে না আলু



গনেশ দাস, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
মজুদ করা আলু।

মজুদ করা আলু।

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ায় পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরেও সরকার নির্ধারিত ৩০ টাকা কেজি দরে আলু কিনতে পারছে না জনগণ। আলুর দাম কমাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও তেমন একটা কাজে আসছে না। এখনো বগুড়ার বিভিন্ন হাটবাজারে আলু সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) বগুড়ার বিভিন্ন খুচরা বাজারে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে আলু খুচরা পর্যায়ে ৩৫ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ৩০ টাকা ও হিমাগার পর্যায়ে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রির জন্য দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়। কিন্তু তারপরেও বগুড়ার কোনো এলাকাতেই ৩০ টাকা কেজি দরে আলু কিনতে পারেনি কেউ।

তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারণে খুচরা বাজারে পাকরী (লাল) আলু ৪৫ টাকা আর কার্ডিনাল আলু ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একই আলু আড়তে ৩০ টাকা এবং ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, আড়ত থেকে তারা যে দামে আলু কিনছেন, সেই আলু কেজি প্রতি দুই টাকা লাভে খুচরা বিক্রি করছেন।

বগুড়া শহরের রাজাবাজারের পাইকারি আলু ব্যবসায়ী লক্ষণ চন্দ্র বণিক বলেন, ‘হিমাগার থেকে সরকারি মূল্যে আমরা আলু কিনতে পারছি না। এ কারণে আমরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে আলু বিক্রি করতে পারছি না। অথচ হিমাগার থেকে আমাদের ২৭ টাকা কেজির মেমো ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। আলু কেনার পর আবার বাজারে নিয়ে আসতে কেজিতে ২-৩ টাকার মতো খরচ হয়। ’

বগুড়ার এএইচজেড কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক আতিয়ার রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন ব্যবসায়ী হিমাগারে আলু মজুদ করেন। এখান থেকে তারাই আলু বিক্রি করেন। সরকার আলুর মূল্য নির্ধারণ করে দেয়ার পর আমরা নোটিশ দিয়েছি। কিন্তু কে শোনে কার কথা।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা বগুড়া। দ্বিতীয় রংপুর জেলা, তৃতীয় দিনাজপুর এবং চতুর্থ জয়পুরহাট। দেশের আলুর চাহিদা মেটায় উত্তরাঞ্চলের এই জেলাগুলো। বগুড়া জেলায় বছরে আলুর চাহিদা থাকে ১ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন। অতিরিক্ত আলু ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়।