পটুয়াখালীতে স্পিডবোট ডুবি: নিখোঁজ পাঁচজনের সন্ধান মেলেনি



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, পটুয়াখালী
স্পিডবোট ডুবির ঘটনায় উদ্ধার অভিযান চলছে।

স্পিডবোট ডুবির ঘটনায় উদ্ধার অভিযান চলছে।

  • Font increase
  • Font Decrease

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার কোড়ালিয়া-পানপট্টি নৌরুটের আগুনমুখা নদীতে স্পিডবোট ডুবিতে নিখোঁজ পাঁচ যাত্রীর এখনো সন্ধান মেলেনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মধ্য রাতের পর শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে আবারো স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করছে। তবে নদী উত্তাল থাকায় অভিযান পরিচালনা করতে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের কিছুটা বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।

স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন- রাঙ্গাবালী থানার পুলিশ কনস্টেবল মহিব্বুল্লাহ (৪৫), কৃষি ব্যাংক রাঙ্গাবালীর বাহেরচর শাখার পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান (৩৫), এনজিও আশার রাঙ্গাবালীর খালগোড়া শাখার ঋণ অফিসার হুমায়ুন কবির (৩০), গলাচিপার আমখোলার হাসান (৩৫) ও বাউফলের কনকদিয়ার ইমরান (৩৪)।

স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরা নদীপাড়ে অপেক্ষা করছেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে রাঙ্গাবালী উপজেলার কোড়ালিয়া থেকে পানপট্টির উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী স্পিডবোট ডুবির ঘটনা ঘটে। এতে চালকসহ ১৩ যাত্রী জীবিত উদ্ধার হলেও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।

জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট থেকে ১৭ জন যাত্রীসহ আহম্মেদ এন্টারপ্রাইজের মালিকানাধীন একটি স্পিডবোট গলাচিপার পানপট্টির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। পথিমধ্যে আগুনমুখা নদীর মাঝখানে ঢেউয়ের তোড়ে তলা ফেটে ১৭ যাত্রী এবং একজন চালকসহ স্পিডবোটটি তলিয়ে যায়। এর দেড় ঘণ্টা পর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে চালকসহ ১৩ জন যাত্রীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও ৫ জন যাত্রীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় যাত্রীরা জানান, দুর্ঘটনার শিকার স্পিডবোটে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট দেয়া হয়নি। নদী উত্তাল দেখে স্পিডবোট নিয়ে ঘাটে ফিরে আসতে বললেও চালক যাত্রীদের কথা শোনেনি।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে স্পিডবোট পরিচালনা করায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়।

পটুয়াখালী নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক খাজা সাদিকুর রহমান জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মেরিন কোর্টে মামলা দায়ের করা হবে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান ও রাঙ্গাবালী থানার ওসি আলী আহম্মেদ জানান, উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।