এ যেন ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত!



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, লালমনিরহাট
মসজিদ এবং মন্দির । ছবি: বার্তা২৪.কম

মসজিদ এবং মন্দির । ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ভোরে ফজরের সময় মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে মিষ্টি আজান শেষে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করে চলে যায়। তার কিছুক্ষণ পরেই মন্দিরে শোনা যায় উলুধ্বনি!, আর এখন চলছে হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পূজা-অর্চনার আনুষ্ঠানিকতা। এমনই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন বহন করছে লালমনিরহাট শহরের পুরান বাজারের শতবর্ষ মসজিদ-মন্দির।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সরজমিনে দেখা গেছে, এখানে মুসলমানদের নামাজ পড়ার জন্য গড়ে উঠেছে মসজিদের পাশেই কালীবাড়ি দুর্গা মন্দির পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। যে যার ধর্ম পালন করছেন। এ যেন ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

কালীমন্দির হিসেবে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ছবি: বার্তা২৪.কম

স্থানীয়রা জানান, ১৯৩৬ সালে কালীমন্দির হিসেবে এ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। যার কারণে এলাকাটির নামকরণও করা হয় কালীবাড়ী। পরে এখানে বাজার গড়ে উঠলে বাজারের ব্যবসায়ী ও শহরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মন্দিরের পাশেই প্রতিষ্ঠা করেন পুরান বাজার জামে মসজিদ। সেই থেকে এক উঠানে চলছে দুই ধর্মের দুই উপাসনালয়ের কার্যক্রম। পূজা শুরুর আগে মসজিদ ও মন্দির কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত মতে, আজানের সময় থেকে নামাজের প্রথম জামায়াত শেষ হওয়া পর্যন্ত মন্দিরের মাইক, ঢাক-ঢোলসহ যাবতীয় শব্দ বন্ধ থাকে। নামাজের প্রথম জামায়াত শেষ হলে মন্দিরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়। এখানে কোন বিশৃঙ্খলাও হয় না। শালীনতা বজায় রেখে একই উঠানে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন উভয় ধর্মের মানুষ।

একই উঠানে ধর্মীয় উৎসব পালন করছে উভয় ধর্মের মানুষ। ছবি: বার্তা২৪.কম

দিনাজপুর থেকে আসা লক্ষী রানী বলেন, আত্মীয়স্বজনের কাছে শুনে দেখতে এসেছি, কালীবাড়ি দুর্গা মন্দির একেই সাথে দাঁড়িয়ে আছে। যে যার ধর্ম পালন করে চলে যাচ্ছে। সত্যি এমন ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত চোখে পড়ার মতো।

কালীবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত শ্রী শ্রী শঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, ‘আজান ও নামাজের সময় বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়। ধর্মীয় সম্প্রীতির বিঘ্ন ঘটে- এমন অবস্থার মধ্যে আমাকে কোনো দিনই পড়তে হয়নি। বরং স্থানীয় মুসল্লিদের সহযোগিতা পেয়ে আসছি।’

মসজিদের মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মুসলমান এবং হিন্দুরা যে যার ধর্ম সুষ্ঠুভাবে পালন করছেন। আমরা নামাজ পড়ছি, তারা পূজা করছেন। কেউ কারো ধর্মে কোনো হস্তক্ষেপ করছেন না।’