কক্সবাজার সৈকতে শতাধিক প্রতিমা বিসর্জন



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কক্সবাজার
অসমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন। ছবি: বার্তা২৪.কম

অসমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, বাঁকখালী নদী, মাতামুহুরী নদীসহ বিভিন্ন স্থানে একযোগে প্রতিমা বিসর্জন দেয় হিন্দু ধর্মের ভক্ত-অনুরক্তরা।

কেন্দ্রীয় স্বরস্বতী বাড়ির প্রতিমা ছাড়াও কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতীমাগুলো উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ে চুবিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়।

মহাষষ্ঠীতে দোলায় চড়ে এসেছিলেন দুর্গা। আর গজে (হাতি) চড়ে কৈলাশে ফিরছেন। কক্সবাজার জেলায় এবার ১৪৪ টি মণ্ডপে প্রতিমা পূজা হয়েছে।

বিজয়া দশমীর দুর্গোৎসবকে ঘিরে সমুদ্রসৈকতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছিল ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যে কারণে বিসর্জন শেষ হওয়া পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

বিসর্জন ঘিরে অন্যান্য বছরের মতো আয়োজন না থাকলেও উলুধ্বনি, শঙ্খ ও ঢোল বাজিয়ে পানিতে ভাসানো হয় প্রতিমা।

তবে, করোনাকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য বিধি মানার জন্য নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশে তার ব্যত্যয় ঘটেছে। বিসর্জন উৎসবে মাস্ক ব্যবহারী লোকের সংখ্যা খুব কমই চোখে পড়েছে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের 'মা দুর্গা' বিসর্জনের সময় আনন্দের পাশাপাশি বিষাদের ছাপও ছিল।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের উন্মুক্ত মঞ্চে প্যান্ডেল তৈরী হলেও এবার বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। সৈকতের বালিয়াড়িতে হয় নি বিদায় অঞ্জলি প্রদান অনুষ্ঠান। তবু বেলা ৩ টা থেকে কক্সবাজার জেলা বিভিন্ন উপজেলা থেকে শুরু করে পাশ্ববর্তী বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে একে একে প্রতিমা বোঝাই ট্রাক আসতে থাকে। আর ওই সব প্রতিমা ধর্মীয় রীতি মেনে সৈকতে দেয়া হয় বিসর্জন।

কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট রনজিত কুমার দাশ জানান, শতাধিক মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। করোনা পরিস্থিতির কারণে বিজয়া সম্মেলন না হলেও বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যান্য বছর সৈকত প্রতিমার বিদায় অঞ্জলি প্রদান করা হলেও এবার ট্রাকের তোলার আগে মণ্ডপে ওই অঞ্জলি শেষ করা হয়। ফলে ট্রাক থেকে সোজা সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ৭ দফা নির্দেশনা এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পুজাকালীন সময়ে করণীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনামূলক ২৬ দফা মেনে এবারের দুর্গোৎসব শেষ হয়েছে।