সাভারে ২৯ দিনে ১৫ ধর্ষণ, গ্রেফতার ২১, পলাতক ১৩



মাহিদুল মাহিদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাভার (ঢাকা)
ছবিঃ বার্তা২৪.কম

ছবিঃ বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

শিল্পাঞ্চল সাভার ও ধামরাইয়ে কর্মের আওতা বাড়ায় যেমন লাখ লাখ মানুষের হয়েছে কর্মসংস্থান তেমনি পরিণত হয়েছে অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবেও। এখানে সহজেই বিচরণ করছে ধর্ষকের মত অপরাধীরা। তাই এসব শিল্পাঞ্চলে বাড়ছে ধর্ষণের মত জঘন্য ঘটনা। কর্মমুখী মানুষের ভীড়ে সহসাই মিশে কুকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে এই অপরাধীরা।

দিনে দুপুরে ব্যাংক ডাকাতির সময় ৯ জনকে হত্যার মতো লোমহর্ষক ঘটনা এখানকারই। এছাড়া প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশ ও সাংবাদিকে ছুড়িকাঘাতে হত্যার মত জঘন্য ঘটনাও ঘটেছে এখানেই। আর এখানেই গত ২৯ দিনে শিশু ও গণধর্ষণসহ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে প্রায় ১৫টি। গ্রেফতারও হয়েছে অনেকেই, তবে দিন দিন বেড়েই চলছে এ ধরনের অপরাধ।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত গণধর্ষণ, ধর্ষণ ও শিশু ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটেছে প্রায় ১৫টি। এসব ঘটনার দুই একটি কিছুদিন আগে ঘটলেও সময়ের মধ্যে প্রকাশ হয় এবং মামলা দায়েরসহ আসামিকেও গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে সাভারে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২টি, ধর্ষণের ঘটনা ২টি ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৩টি। আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে ৮ জন এবং পলাতক রয়েছে ১ জন।

আশুলিয়ায় গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২টি, যার ভুক্তভোগী ২ কিশোরীসহ এক গৃহবধূ, ধর্ষণের ঘটনা ২টি ও শিশু ধর্ষণের চেষ্টাসহ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৩টি। এসব ঘটনায় আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে ১৩ জন এবং পলাতক রয়েছে ১২ জন। আর ধামরাইয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১টি যার আসামিকে গ্রেফতার করা হয় গত ২১ অক্টোবর।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গাজীরচট আয়নাল মার্কেট এলাকার দারুল কুরআন নূরানী হাফিজিয়া মডেল মাদরাসায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাদরাসার শিক্ষক আব্দুল আজিজকে (২৮) আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে মাদরাসা ভবন মালিক আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে সাভারের আনন্দপুর এলাকায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আনন্দপুর এলাকা থেকে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেনকে ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গ্রেফতার করা হয়।

৩০ সেপ্টেম্বর রাত ৩টার দিকে সাভারের বাজার রোড এলাকায় গণধর্ষণের ঘটনায় ভোরে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নওগাঁ জেলার পত্নীতলা থানার শুভলডাঙ্গা গ্রামের মৃত মিরাজ মণ্ডলের ছেলে মহিদুল মণ্ডল (৪০), মহাদেবপুর থানার কালনা কাটাবাড়ি এলাকার আতোয়ারের ছেলে তরিকুল ইসলাম (২৪) ও দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ থানার শুকদেবপুর এলাকার সোলমান আলীর ছেলে মোজাহারুল ইসলামকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়।

গত ১ অক্টোবর রাতে আশুলিয়ার জামগড়ার মোল্লবাজার এলাকায় চতুর্থ শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় রাতেই পাবনা জেলার বেড়া থানার ব্যাড়াদিয়া গ্রামের ওয়াজ শেখের ছেলে মিজানুর রহমান মিরুকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়।

গত ৭ অক্টোবর ভোরে আশুলিয়ার ভাদাইল ও নয়ারহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই বান্ধবীকে গণধর্ষণের অভিযোগে প্রিন্স কিশোর গ্যাংয়ের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে ধর্ষণের ঘটনার প্রায় ১ মাস পর ঘটনা প্রকাশ হলে ডায়মন আলামিন, জাকির এবং দলনেতা সারুফকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় আরও ৬ আসামি পলাতক রয়েছে।

গত ৬ অক্টোবর একই সময়ে তিন শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ৮ অক্টোবর রাত ১২টার দিকে আশুলিয়ার তৈয়বপুর এলাকা থেকে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানার ছোয়ানী রসুলপুর গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে হেলাল উদ্দিন শেখকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গত ৫ অক্টোবর সাভারে অসুস্থ শিশুকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে মাদকাসক্ত বাবা রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার চৌধুরীপাড়া ভক্তিপুর এলাকার খলিল উদ্দিনের ছেলে জিয়াউল ইসলামকে ৮ অক্টোবর বিকেলে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার রোস্তমপুর এলাকায় গণধর্ষণের ঘটনায় গত ৮ অক্টোবর ভোরে অভিযান চালিয়ে আশুলিয়ার রোস্তমপুর এলাকার সালাম শেখের ছেলে সাইফুল ইসলাম (১৮), একই এলাকার আদম সরকারের ছেলে অন্তর (১৯), সনাতন সাহার ছেলে জতির্ময় সাহা (২০), কৃষ্ণ সাহার ছেলে পাপ্পু সাহা (১৯) ও মনোরঞ্জন সাহার ছেলে মিলনকে (২১) গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ৫ জন পলাতক রয়েছে।

গত ৮ অক্টোবর আশুলিয়ার পলাশবাড়ি এলাকায় ধর্ষণের অভিযোগে গাইবান্ধা সদর থানার আব্দুল আজিজের ছেলে মামুন ও তার বোন আঞ্জু বেগমকে ১১ অক্টোবর গ্রেফতার করে পুলিশ।

গত ১০ অক্টোবর আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের জিরাবো নামাপাড়া এলাকায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৩ অক্টোবর জিরাবো নামাপাড়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা আসলাম সুমনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

১৬ অক্টোবর দুপুরে সাভারের সামাইর এলাকার সিদ্দিকের বাড়িতে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতেই অভিযান চালিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা সদর থানার বাবলাবনা গ্রামের মইনুল ইসলামের ছেলে রাজু আলী (৩৫) ও একই এলাকার আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে রিয়াজ আলীকে (২০) গ্রেফতার করে পুলিশ।

২১ অক্টোবর বিকেলে ঢাকার ধামরাইয়ে শিক্ষার্থী (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

গত ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় সাভারের ছাওয়াবি এলাকায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে আসামি কামাল হোসেনকে (৩০) নামে গ্রেফতার করা হয়।

২৪ অক্টোবর গভীর রাতে সাভার নামাবাজারের কাঠপট্টি এলাকার কাজী সাহেবের বাড়িতে ঘটা ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত আসামি পলাতক রয়েছে।

এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগসহ মামলা দায়ের হয়েছে।