দুর্বৃত্তের আগুনে কেড়ে নিল বক্কারের বাড়িঘরসহ সর্বস্ব



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, যশোর
সাজানো সংসার এখন শুধুই পোড়া ছাই। ছবি: বার্তা২৪.কম

সাজানো সংসার এখন শুধুই পোড়া ছাই। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

শিল-পাটাই হলো বক্কারের কাল। সাজানো সংসার এখন শুধুই পোড়া ছাই।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাতে দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে তার সব পুড়ে হয়েছে ছাই। ফিরে পাবে কি মাথা গোজার ঠাঁই, পাবে কি ন্যায় বিচার? এমন দোলাচলে ভাসছে বক্কার ও তার পরিবার।

যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের নিমতলী গ্রামের আখের আলী মোল্লার ছেলে আবু বক্কার। পেশায় তরকারি বিক্রেতা। দিন এনে দিন চলে বক্কারের। অনেক কষ্টে টিন দিয়ে করেছিলো বাড়ি। টিনের বাড়ি হলেও ধার, দেনা করে তিলে তিলে সাজিয়েছিলো একটি ছোট্ট সোনার সংসার। দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ছিল সুখের সংসার। কিন্তু দুবৃর্ত্তের দেওয়া আগুনে পুড়েতো এখন সব শেষ হয়ে গেছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছে বক্কার।

বক্কারের অভিযোগের তীর তার প্রতিবেশী মশিয়ারের দিকে। দু’দিন আগে পূর্ব শত্রুতার জেরে সামন্য ঝগড়ায় বাড়িঘর ঝালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলো প্রতিবেশী মশিয়ার ও তার স্ত্রী নাজমা বেগম।

ক্ষতিগ্রস্ত বাক্কার জানান, ৯ মাস হলো তারা এই মাঠের ভেতরে বাড়ি করেছেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সুখে শান্তিতেই বসবাস করছিলেন। মশিয়ারের সাথেও ছিলো ভালো সম্পর্ক। তাদের বাড়ি থেকেই সাইড লাইন নিয়ে তার বাড়িতে বিদ্যুৎ চলছিল। কিন্তু বিল ভাগাভাগি নিয়ে সম্পর্কের অবনতির সূত্রপাত। সেই থেকেই বক্কারের পরিবারের ওপর নানাভাবে অত্যাচার করতে থাকে মশিয়ার ও তার স্ত্রী। রাতে ঘরের চালে ঢিল ছোড়া, বাড়ি থেকে বিভিন্ন জিনিস চুরি হওয়ার মতও ঘটনা ঘটতে থাকে।

সর্বশেষ তিন মাস আগে চুরি হয় রান্না ঘরের শিল-পাটা। দুদিন আগেই সেটি পাওয়া যায় মশিয়ারের বাড়ি থেকে। আর এটিই হলো তার কাল। বলেছিল কিভাবে থাকতে পারে এই বাড়িতে। কিন্তু এভাবে দেখে নেবে সেটা ভাবতে পারেনি কেউই।

বক্কারের স্ত্রী রাবেয়া বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নেই। হাড়ি-পাতিল, সংসারের আসবাবপত্রসহ যাবতীয় জিনিস পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমরা এখন কি খাব, কোথায় থাকবো? আমরা গরিব মানুষ বলে কি ন্যায় বিচার পাবো না? আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম সেই সুযোগে আমার সব পুড়িয়ে দিল? আমাদের এমন সর্বনাশ কিভাবে করলো এসব বলতে বলতে মুর্ছা যাচ্ছে বারবার।’

এদিকে রাত থেকেই এলাকার মানুষ ছুটছে পোড়া ঘর দেখতে। তাদের এমন অবস্থা দেখে হা-হুতাশ করছে সকলে। সকলের দাবি, এই ঘটনার সঠিক তদন্ত পূর্বক দোষীদের শাস্তির আওতায় এনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের।

প্রতিবেশী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘রাতে চারিদিকে চেচামেচি শুনে ছুটে এসে দেখেন দাও দাও করে আগুন জ্বলছে। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চেষ্টার পর আগুন নিভাতে সক্ষম হন তারা। পরে বিদ্যুত অফিসের লোক এসে দেখে বলেন এটি শর্ট সার্কিট থেকে হয়নি। কেউ হয়ত আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন।,

রেজাউল ইসলাম নামে আরেক প্রতিবেশী বলেন- ‘কেউ বলছে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। কেউ বলছে পেট্রোল ছিটানো হয়েছে, কেউ বলছে ডিজেল ছিটানোর পর আগুন ধরানো হয়েছে।’

তবে তাদের বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বার্তা২৪.কম’কে অভিযুক্ত মশিয়ার রহমান বলেন, ‘এসব মিথ্যা কথা। আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। হতে পারে তাদের সাথে ভালো সম্পর্ক নেই, তাই বলে এমন নিঃশেষ করা কর্মকাণ্ড আমরা করিনি।’

এ বিষয়ে কচুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান জানান, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে যশোর কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’