বেসরকারি ব্যাংকগুলোর আরেকটু আন্তরিক হওয়া দরকার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) অনুদানের কম্বল গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) অনুদানের কম্বল গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা সংকটের ক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আরো আন্তরিক হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভাণ্ডারে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) অনুদানের কম্বল গ্রহণকালে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

আসন্ন মৌসুমে শীতার্ত মানুষকে সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভাণ্ডারে অনুদান হিসেবে ২৫ লাখ ৯৫ হাজার কম্বল দিয়েছে ৩৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুদানের এসব কম্বল গ্রহণ করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন।

বাণিজ্যিক ব্যাংক মালিকদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানি এটা একটু আপনাদের চাপ পড়ে বেশি, খরচ পড়ে বেশি। সরকারিভাবে আমরা দিয়ে যাচ্ছি কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকগুলোও যদি এদিকে এগিয়ে আসে।

তিনি আরো বলেন, শুরুতে হয়তো একটু সমস্যা হবে। কিন্তু পরবর্তীসময়ে এরা যখন ব্যবসা-বাণিজ্য চালু করতে পারবে তখন বেসরকারি ব্যাংকগুলোই কিন্তু লাভবান হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

দেশে গৃহহীনদের জন্য ঘর করে দিতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুজিবর্ষে দেশে কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না, ভূমিহীন থাকবে না- সরকারের সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

ব্যাংকগুলোকে গৃহহীনদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা আপনাদের নিজ নিজ এলাকায় যদি কেউ ভূমিহীন থাকে, গৃহহীন থাকে আপনারাও তাদের কিছু ঘরবাড়ি তৈরি করে দিতে পারেন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে দিচ্ছি, আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও দিচ্ছে।

দেশে একসময় বর্তমানের মতো এত বেসরকারি ব্যাংক ছিল না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘অনেক বাধা বিঘ্ন ছিল, অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার আপত্তি ছিল বরং ব্যাংকের অলাভজনক শাখাগুলো বন্ধ করে দেওয়ারও পরামর্শ ছিল কিন্তু আমরা তা শুনিনি।’

খাদ্য উৎপাদনে তার সরকার সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘করোনার মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বার বার আসার পরও আজ আমরা ফসলের উৎপাদন বাড়িয়ে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমর্থ হয়েছি।’

‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা একান্তভাবে প্রয়োজন’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রচলিত একটি প্রবাদ ‘পেটে খেলে পিঠে সয়’ উদ্ধৃত করে বলেন, তার সরকার সেটাই মেনে চলছে।

করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশের সবাইকে আগের চেয়ে বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে, কিন্তু আপনারা দেখেছেন ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে আবার করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে এখন থেকেই সচেতন হতে হবে।