মার্কিন নির্বাচন: যেই জিতুক বাংলাদেশের ‘পররাষ্ট্র নীতি’ কৌশলী হতে হবে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বিশ্লেষণমূলক ওয়েবিনার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বিশ্লেষণমূলক ওয়েবিনার

  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যেই জিতুক দেশটির দক্ষিণ এশিয়ার নীতি একই থাকবে। বাংলাদেশকে এখন আর ভারতের চোখ দিয়ে দেখছে না যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বাংলাদেশকে তাদের বলয়ে চাইছে। তাই পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে বাংলাদেশকে কৌশলী হতে হবে। চীন দেশে বড় বিনিয়োগ করছে। সে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখে একই সাথে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বিশ্লেষণমূলক এক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।  ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ও আইইউবি’র গ্লোবাল স্টাডিজ অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রোগ্রামের উদ্যোগে ওয়েবিনারটি আয়োজিত হয়। এর মিডিয়া পার্টনার ছিলো অপরাজেয় বাংলা। অনলাইন নিউজ পোর্টাল অপরাজেয় বাংলার ফেসবুক পেজ ও অপর নিউজ পোর্টাল বার্তা২৪ এর ফেসবুক পেজে কর্মসূচিটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। 

ওয়েবিনারটির সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন আইইউবি’র স্কুল অব লিবরেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ এ হুসেইন। সঞ্চালকের বক্তব্যে তিনি বলেন, তৃতীয় বিশ্বের শাসন ব্যবস্থা বা স্বৈরাচার প্রসঙ্গে যে অভিযোগ পাওয়া যেতো তা অনেকগুলো যুক্তরাষ্ট্রেও দেখা যাচ্ছে। যেমন ভোট চুরি, ভূয়া ভোটার রেজিস্ট্রেশন, ফলাফল দেরিতে প্রকাশ, প্রতিপক্ষকে হেয় করার মতো বিষয়গুলো সামনে আসছে। তাহলে কি আমেরিকাও সে পথে হাঁটছে, আলোচকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি।

প্রধানত দুই ধরনের স্বৈরাচার আছে। প্রথমটি হলো প্রথাগত মিলিটারি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বৈরাচার, যা দীর্ঘদিন চলতে পারেনা। একসময় সমাজ তা প্রত্যাখ্যান করে। তাই দ্বিতীয়টি সবচেয়ে ভয়ানক। কেননা এই স্বৈরাচার সমাজে মিশে যায়। মানুষ সেভাবে চিন্তা করে যেভাবে স্বৈরাচার যায়। যদি এই ধারাই অব্যাহত থাকে তাহলে পরবর্তী সপ্তাহের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল পৃথিবীর জন্য কোনো পরিবর্তন আনবেনা, সূচনা বক্তব্যে বলেন ড. ইমতিয়াজ।

ওয়েবিনারে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন ও দক্ষিণ এশিয়া প্রসঙ্গে আলোচনা করেন ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পারভেজ কে আব্বাসি।

তিনি বলেন, আমেরিকান আধিপত্যের জন্য চীনের উত্থান বড় হুমকি। আগে এমন দ্বৈরথ গোপনে হলেও তা এখন প্রকাশ্য। যদি ট্রাম্প আবারও নির্বাচিত হন তবে প্রকাশ্য্ দ্বৈরথ  আরও বাড়বে, সাথে বাড়বে সেনা ব্যবহারও। অন্যদিকে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে আমেরিকা তাদের পুরনো কূটনীতির পথ বেছে নিবে। আধিপত্য বিস্তারের বিষটি কূটনৈতিকভাবেই সামলানো হবে, মত এই বিশ্লেষকের।

তবে প্রেসিডেন্ট যেই থাকুক দেশটির দক্ষিণ এশিয়ার নীতি থাকবে একই, বলেন তিনি।  

যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনের প্রতিফলনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবির। তিনি প্রধানত তিনটি বিষয় কে সামনে আনেন। প্রথমত, এবার আগাম ভোটে রেকর্ড পরিমাণ ভোট পড়েছে। ৬৮.৫ মিলিয়ন মানুষ এবার ইলেকশন ডে’র আগেই ভোট দিয়েছে যা ইতিহাসে প্রথম। তার অন্যতম কারণ, অনেক মানুষ ভাবছে ভোটের দিন আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে। মানুষ হতাহত হতে পারে। এমনকি ঘটতে পারে কেন্দ্র দখলের মতো ঘটনা। তাই ভোটাররা আগেই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে রাখছে।

দ্বিতীয়ত, এবার নতুন ভোটার অনেক বেশি। যা নির্বাচনে প্রভাব রাখবে। ‘ব্ল্যাক লাইফ ম্যাটার’ বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে, মত এই সাবেক কূটনীতিকের। তিনি বলেন, যদি এমনটা হয় তবে জো বাইডেন বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

হুমায়ূন কবীর বলেন, সর্বশেষ ১৮৭৬ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এবারও এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা আছে। কেননা ট্রাম্প বলছেন নির্বাচনে হারলে তিনি ফলাফল মেনে নিবেন না। তাই ফলাফল প্রকাশে হতে পারে বিলম্ব। একদিন, এক সপ্তাহ বা এক মাসও বিলম্ব হতে পারে। অথবা ট্রাম্প নিজেকে বিজয়ী বলেও ঘোষণা দিতে পারেন।  সে ক্ষেত্রে একটু গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইন্সটিটিউটের বাংলাদেশ আবাসিক কর্মসূচি পরিচালক ড. জিওফ্রে ম্যাকডোনাল্ড বিশ্লেষণ করেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র‌্যাট দলের ভোটার মোবিলাইজেশনের লক্ষ্য ও কৌশলসমূহ। তিনি ভোটার মোবিলাইজেশন বিশ্লেষণে পাঁচটি বিষয় সামনে আনেন। সেগুলো হলো বর্ণ, বয়স, শিক্ষা, জনসংখ্যা ঘনত্ব ও আঞ্চলিক পার্থক্য। প্রথম প্রভাবক অর্থাৎ বর্ণের দিক থেকে এগিয়ে থাকবে ডেমোক্র্যাট তথা বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের কালো ভোটারদের প্রায় ৯০ ভাগ ভোট পাবেন বাইডেন। এদিক দিয়ে অনেক এগিয়ে থাকবেন তিনি। অন্যদিকে সাদা ভোটারদের ক্ষেত্রে সে ভোট ভাগাভাগি হবে, তবে সেখানে রিপাবলিকান তথা ট্রাম্পের ভোট বেশি থাকবে।

বয়স বিবেচনা করলে দেখা যায়, ৪৫ বছরের নিচের ভোটারদের ভোট বেশি পাবে বাইডেন আর ৪৫ বছরের বড় ভোটাররা ট্রাম্পকে ভোট দেবেন, পূর্বাভাস দেন এই বিশ্লেষক।

যাদের কলেজ ডিগ্রি আছে অর্থাৎ উচ্চ শিক্ষিতদের ভোট বাইডেন বেশি পাবেন। তবে সে হার যে খুব বেশি তেমনটা নয়। অন্যদিকে কলেজ ডিগ্রি নেই এমন ভোটারদের ভোট ট্রাম্প বেশি পাবেন, মত তার।

জনসংখ্যার দিক থেকে বিচার করলে শহরগুলোতে ডেমোক্র‌্যাটদের জনপ্রিয়তা বেশি। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চল তথা কম জনবহুল অঞ্চলে রিপাবলিকান তথা ট্রাম্প এগিয়ে থাকবে।

অঞ্চল ভিত্তিক হিসাবে উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে, যেমন নিউ ইয়র্ক-ক্যালিফোর্নিয়াতে ডেমোক্র‌্যাটরা এগিয়ে থাকবে। আর দক্ষিণাঞ্চল গুলোতে রিপাবলিকানদের আধিক্য থাকবে।

দলগুলো যে জায়গায় তাদের দুর্বলতা সেখানে ভোটার বাড়ানোর কাজ করবে। যেমন ডেমোক্র‌্যাটরা এতিহ্যবাহী রিপাবলিকান ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে চাচ্ছে। বয়স্ক ভোটারদের কাছে করোনাভাইরাস মোকাবেলার বিষয় তুলে ধরছে। আবার গ্রামাঞ্চলের শ্রমিক ভোটারদের কাছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিষয় সামনে আনছে।

অন্যদিকে রিপাবলিকানরা নিজেদের কট্টর সমর্থকদের মাঝেই মূল ক্যাম্পেইন করছে। ডেমোক্র‌্যাট ভোটারদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করছে না। তারা অর্থনীতি ও সামাজিক বিষয়কে সামনে এনে বলছে ডেমোক্র‌্যাটরা আসলে পুলিশের ব্যবহার কমবে কিন্তু কর বাড়িয়ে দেয়া হবে। ডেমোক্র‌্যাটরা শহরগুলো দখল করে আছে। রিপাবলিকানরা আবার জিতলে গ্রামের উন্নয়নে মনযোগ দিবে।

তবে এখন পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছে জো বাইডেন কিছুটা এগিয়ে আছেন। ৩০০ এর বেশি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে তিনি নির্বাচনে জিতবেন, মত তার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আমেনা মোহসিন কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লৈঙ্গিক প্রেক্ষাপট নিয়ে। তিনি বলেন, ১৯৮০ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগান গর্ভপাত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। সে বছর থেকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লিঙ্গ একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। আর এবার হয়তো নারী ভোটারদের বছর। কেননা নারী ভোটার সংখ্যা ১১ শতাংশ বেশি। এদিকে ট্রাম্প বারবারই নারীদের অপমান সূচক কথা বলেছেন।

যেমন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্ত্রী মিশেল ওবামাকে বলেছেন ‘অ্যাংরি ব্লাক ওম্যান’ আবার গতবারের ডেমোক্র‌্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে বলেছিলেন ‘নাস্টি ওম্যান’। বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিসকে নিয়েও বিদ্রুপ করেছেন।  যা নারী ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলবে। এছাড়া রয়টারের এক প্রতিবেদনে দেখা যায় পশ্চিমা দেশগুলোর মাঝে নারীদের জন্য অনিরাপদ দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১০ তম। এই বিষয়টিও প্রভাব রাখতে পারে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে।

২০২০ সালের নির্বাচনে সুইং স্টেটগুলোর সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. মেহনাজ মোমেন। তিনি বলেন, যদিও বিপুল সংখ্যক ভোটার ইতোমধ্যে ভোট দিয়েছেন তবে যারা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন সম্পর্কে জানেন তারা বুঝতে পারবেন ইলেকটোরাল ভোট ও সুইঙ্গিং স্টেটগুলোর গুরুত্ব কতটা।

যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে অনেক স্টেটেই আগে থেকে নির্দিষ্ট কোন দলের আধিক্য থাকে। রিপাবলিকান আধিপত্যের স্টেটগুলোকে রেড স্টেট আর ডেমোক্র‌্যাটগুলোকে ব্লু স্টেট কিন্তু এর বাইরে ৫-১০ টি স্টেট থাকে যেগুলোতে কোনো দলের আধিপত্য নেই। এই স্টেটগুলোকে বলা হয় পারপল স্টেট্।

তবে বিশেষ তিনটি স্টেট ছিলো যেগুলো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের হিসাব পাল্টে দিতো। সেগুলো হলো উহায়ো, ভার্জেনিয়া ও ফ্লোরিডা। যে দল এই তিনটি স্টেটের দুইটিতে জয় পেতো তারাই ক্ষমতায় যেতো।  কিন্তু ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর সে হিসাব নিকাশ পাল্টে গেছে।  ভার্জিনিয়া এখন অনেকটাই ডেমোক্র‌্যাট সমর্থিত। অন্যদিকে ওহাইও ঝুঁকে পড়েছে রিপাবলিকান দলে।

তাই এবার সুইং স্টেট বদলে গেছে। ২০২০ নির্বাচনে এই তালিকায় এগিয়ে থাকবে ফ্লোরিডা, পেনসেলভেনিয়া ও মিশিগান। যদিও মিশিগান ও পেনসেলভেনিয়াতে ইলেকটোরাল কলেজ সংখ্যা কম তারপরও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রভাব থাকবে। তাই ফ্লোরিডায় হতে পারে এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নির্ধারক। যদি জো বাইডেন ফ্লোরিডায় জিততে পারেন তবে ডেমোকর্যাটদের ভূমিধস বিজয় হতে পারে। যদি হারেন তারপরও বাইডেন জেতার সুযোগ থাকবে। তবে ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ এখন ফ্লোরিডাই।

এদিকে টেক্সাস ও ডালাসও এবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিসও এখন সেখানেই আছেন। কেননা বিশেষজ্ঞদের অনুমান, অন্য বছর টেক্সাস রিপাবলিকানদের ঘাঁটি হলেও এবার ডেমোক্র‌্যাটদের জেতার সম্ভাবনা আছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কেন্দ্রিক ভাবনার বিষয়গুলো নিয়ে আলোকপাত করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, যুক্তরাষ্ট্রে ইলেনয় ইউনিভার্সিটির পলিটিকস অ্যান্ড গভর্নমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, আমেরিকান গণতন্ত্রে একধরনের বিভাজন এসেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন প্রকাশ্যে। এই অবস্থার কারণ হলো মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়া। ইলেকটোরাল কলেজগুলোর ক্ষমতা বেশি হওয়ায় মানুষ ভোটে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। যা আমেরিকান গণতন্ত্রের ঐতিহ্য নষ্ট করছে। এর পরিণাম হতে পারে ভয়াবহ। তবে এবার আশা দেখা দিচ্ছে মানুষের অংশগ্রহণের। ভোটাররা ফিরে আসছে , ভোট দিচ্ছে এবং নিজেদের ভবিষ্যত বিবেচনা করছে।

যার ফলে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। করোনাভাইরাস বা ব্লাক লাইফ ম্যাটারের চেয়েও এই বিষয়টি বেশি গুরুত্ব বহন করে।

এখানে পেনসেলভেনিয়া, অ্যারিজোনা বিষয়টিও সামনে আসছে। কেননা স্টেটগুলো আবার ব্লু স্টে্টে পরিণত হচ্ছে। অর্থাৎ ডেমোক্র‌্যাটদের প্রাধান্য বেশি। ফলে তাদের ভূমিধ্বস বিজয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে এখানে আরেকটি প্রশ্ন আসে, তা হলো যদি ট্রাম্প হারেন তাহলে কী হবে? কেননা ট্রাম্প ইতোমধ্যেই হারলে নির্বাচনকে অবৈধ বলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। হারলে শক্তভাবেই এই ঘোষণা আবারও আসার সম্ভাবনা বেশি। তখন কী হবে?

এই প্রশ্নে উত্তরে ড. জিওফ্রে ম্যাকডোনাল্ড বলেন, আমি মনে করি কিছু জায়গায় প্রতিবাদ হতে পারে, গোলযোগ হতে পারে তবে গৃহযুদ্ধ কখনই হবেনা। রিপাবলিকান কট্টর সমর্থকরাও তা মেনে নিবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রচারণায়  গণমাধ্যমে  কি পরিবর্তন এসেছে সে বিষয়ে আলোকপাত করে অপরাজেয় বাংলার সম্পাদক মাহমুদ মেনন বলেন, আমি ২০১২ এবং ২০১৬ নির্বাচন কাভার করেছি। আগের দুবারের তুলনায় এখন সাংবাদিকরা অনেক বেশি সাবধানী। কেননা ২০১৬ সালে সাংবাদিকদের সকল অনুমান মিথ্যা প্রমাণিত হয়। তাই এখন গণমাধ্যমগুলো ভবিষ্যৎবানী ও পরিসংখ্যান উপস্থাপনায় অনেক বেশি সাবধানতা অবলম্বন করছে। রিপোর্টিং সেকশনেও এবার এসেছে পরিবর্তন। ডাটা জার্নালিজম ও ফ্যাক্ট চেকিংয়ের মতো বিষয়গুলো এবার সাংবাদিকতায় বৈচিত্র্য এনেছে।