পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান হত্যা: এসআই আকবর গ্রেফতার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান হত্যা: প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর  গ্রেফতার

পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান হত্যা: প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর গ্রেফতার

  • Font increase
  • Font Decrease

সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান হত্যার প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবরকে কানাইঘাট সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার (৯ নভেম্বর) সিলেট জেলার কানাইঘাট এলাকার সার্কেল এএসপি আব্দুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বেলা ২ টার দিকে এসআই আকবরকে কানাইঘাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সিলেট জেলা পুলিশের সহকারী মিডিয়া অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, সিলেটের আলোচিত রায়হান হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়াকে আটক করে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর বিজিবির হাতে তুলে দিয়েছে ভারতীয় খাশিয়ারা। কানাইঘাট উপজেলার ডনা সীমান্ত থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে বিজিবি তাকে সিলেট জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হানের মৃত্যু হয়। রায়হান সিলেট নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার বিডিআরের হাবিলদার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরের রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে চাকরি করতেন।

এ ঘটনায় গত ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু আইনে নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

১৪ অক্টোবর মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশ পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইর টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরের কাস্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। সর্বোপরি মরদেহ কবর থেকে তোলার পর পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়।

নিহত রায়হানের মরদেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে। এসব আঘাতের ৯৭টি ফোলা আঘাত ও ১৪টি ছিল গুরুতর জখমের চিহ্ন। এসব আঘাতগুলো লাঠি দ্বারাই করা হয়েছে। অসংখ্য আঘাতের কারণে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে রায়হানের মৃত্যু হয়।